দাখিল পরীক্ষা, ২০২৬ - কুরআন মাজিদ ও তাজভিদ (বহুনির্বাচনি প্রশ্ন)
বিষয়: কুরআন মাজিদ ও তাজভিদ (সৃজনশীল)
ক বিভাগ (বহুনির্বাচনি প্রশ্ন)
- (ক) ২৭টি
- (খ) ২৮টি
- ✅ (গ) ২৯টি
- (ঘ) ৩০টি
- (ক) তারা মিথ্যা বলে
- (খ) তারা বাধা দেয়
- (গ) তারা ওয়াদা ভঙ্গ করে
- ✅ (ঘ) তারা প্রতারণা করে
- (ক) ৬টি
- (খ) ৭টি
- ✅ (গ) ৮টি
- (ঘ) ৯টি
- ✅ (ক) لفيف مقرون
- (খ) لفيف مفروق
- (গ) مهموز
- (ঘ) صحيح
- (ক) ওলি
- ✅ (খ) প্রতিনিধি
- (গ) নবি
- (ঘ) রসুল
- (ক) واحد مذكر حاضر
- (খ) واحد مؤنث حاضر
- ✅ (গ) واحد مذكر غائب
- (ঘ) واحد مؤنث غائب
- (ক) إفعال
- (খ) تفعيل
- (গ) تفعل
- ✅ (ঘ) استفعال
- ✅ (ক) جملة إنشائية
- (খ) جملة خبرية
- (গ) جملة شرطية
- (ঘ) جملة ظرفية
- ✅ (ক) الحروف المقطعة
- (খ) الحروف المهملة
- (গ) الحروف الصحيحة
- (ঘ) الحروف الموضوعة
- (ক) ৩ প্রকার
- ✅ (খ) ৪ প্রকার
- (গ) ৫ প্রকার
- (ঘ) ৬ প্রকার
- (ক) واحد متكلم
- ✅ (খ) واحد مذكر غائب
- (গ) جمع متكلم
- (ঘ) واحد مذكر حاضر
- (ক) مفعول له
- ✅ (খ) مفعول به
- (গ) مفعول معه
- (ঘ) مفعول فيه
- (ক) হযরত আইউব (আ)
- (খ) হযরত যাকারিয়া (আ)
- ✅ (গ) হযরত ইবরাহিম (আ)
- (ঘ) হযরত নূহ (আ)
- (ক) السفه
- (খ) السفاهة
- (গ) السفاهی
- ✅ (ঘ) السفيه
- (ক) ১ম হিজরিতে
- ✅ (খ) ২য় হিজরিতে
- (গ) ৩য় হিজরিতে
- (ঘ) ৪র্থ হিজরিতে
- (ক) ق + و + ن
- ✅ (খ) و + ق + ى
- (গ) ت + ق + و
- (ঘ) ت + ق + ن
- (ক) اسم جامد
- ✅ (খ) اسم مصدر
- (গ) اسم مشتق
- (ঘ) اسم مبنى
- (ক) হাদিয়া
- (খ) হিবা
- ✅ (গ) সুদ
- (ঘ) ঘুষ
- (ক) مرفوع متصل
- ✅ (খ) منصوب متصل
- (গ) منصوب منفصل
- (ঘ) مجرور متصل
- ✅ (ক) الْقِنْطَرَةُ
- (খ) الْقِنْطَارُ
- (গ) الْقَنَاطِرُ
- (ঘ) الْمُقَنْطَرَةُ
- (ক) ২ প্রকার
- ✅ (খ) ৩ প্রকার
- (গ) ৪ প্রকার
- (ঘ) ৫ প্রকার
- (ক) واحد مذكر حاضر
- (খ) واحد مذكر حاضر
- ✅ (গ) واحد متكلم
- (ঘ) جمع متكلم
- (ক) ২টি
- (খ) ৩টি
- (গ) ৪টি
- ✅ (ঘ) ৫টি
- ✅ (ক) استفعال
- (খ) افتعال
- (গ) إفعال
- (ঘ) إنفعال
- (ক) مثال واوی
- (খ) مثال یائی
- ✅ (গ) أجوف يائي
- (ঘ) أجوف واوی
- (ক) المسجد الأقصى
- ✅ (খ) الكعبة المشرفة
- (গ) المسجد النبوى
- (ঘ) مسجد قباء
- (ক) ইহুদি
- (খ) খ্রিষ্টান
- (গ) হিন্দু
- ✅ (ঘ) মুসলমান
- ✅ (ক) ২০০ টি
- (খ) ২২০ টি
- (গ) ২৪০ টি
- (ঘ) ২৫০ টি
- (ক) দুজন জিনের নাম
- ✅ (খ) দুজন ফেরেশতার নাম
- (গ) দুজন মানুষের নাম
- (ঘ) দুজন রসূলের নাম
- ✅ (ক) مَال
- (খ) مول
- (গ) ميل
- (ঘ) ال
- (ক) لا الناهية
- ✅ (খ) لا النافية
- (গ) لا الزائدة
- (ঘ) لا
- ✅ (ক) أَمْثَال
- (খ) مثيل
- (গ) مثائل
- (ঘ) أمثل
- ✅ (ক) فرض
- (খ) واجب
- (গ) سنة
- (ঘ) مستحب
- (ক) مشتق
- ✅ (খ) جامد
- (গ) مصدر
- (ঘ) مرة
- ✅ (ক) مهموسة
- (খ) مجهورة
- (গ) مستعلية
- (ঘ) منحرفة
- ✅ (ক) ২ প্রকার
- (খ) ৩ প্রকার
- (গ) ৪ প্রকার
- (ঘ) ৫ প্রকার
- (ক) ৩টি
- ✅ (খ) ৪টি
- (গ) ৫টি
- (ঘ) ৬টি
- (ক) ছোট করা
- (খ) থেমে যাওয়া
- (গ) সংক্ষিপ্ত করা
- ✅ (ঘ) দীর্ঘ করা
- ✅ (ক) مد متصل
- (খ) مد منفصل
- (গ) مد لين
- (ঘ) مد بدل
- ✅ (ক) ء
- (খ) ع
- (গ) خ
- (ঘ) د
বিশেষ সহায়তা
Special WhatsApp Study Group-এ যুক্ত হতে নিচের লিংকে ক্লিক করো।
খ বিভাগ—কুরআন মাজিদ
(সূরা আল ইমরান থেকে কমপক্ষে একটিসহ যে কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও)
মান—১০x৪=৪০
সূরা আল-বাকারা: ২ নং প্রশ্নের উত্তর
(ক) আয়াতে কারিমার বঙ্গানুবাদ
প্রদত্ত আয়াত:
وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَقُولُ آمَنَّا بِاللَّهِ وَبِالْيَوْمِ الْآخِرِ وَمَا هُمْ بِمُؤْمِنِينَ. يُخَادِعُونَ اللَّهَ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَمَا يَخْدَعُونَ إِلَّا أَنْفُسَهُمْ وَمَا يَشْعُرُونَ. فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ فَزَادَهُمُ اللَّهُ مَرَضًا وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ بِمَا كَانُوا يَكْذِبُونَ. وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ لَا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ قَالُوا إِنَّمَا نَحْنُ مُصْلِحُونَ. أَلَا إِنَّهُمْ هُمُ الْمُفْسِدُونَ وَلَكِنْ لَا يَشْعُرُونَ.
অনুবাদ: "আর মানুষের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা বলে, ‘আমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান এনেছি’, অথচ তারা মুমিন নয়। তারা আল্লাহকে এবং যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে ধোঁকা দিতে চায়। অথচ তারা নিজেদের ছাড়া অন্য কাউকেই ধোঁকা দিচ্ছে না, কিন্তু তারা তা উপলব্ধি করতে পারে না। তাদের অন্তরে রয়েছে ব্যাধি। অতঃপর আল্লাহ তাদের ব্যাধি আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি, কারণ তারা মিথ্যা বলত। আর যখন তাদেরকে বলা হয়, ‘তোমরা পৃথিবীতে ফাসাদ (বিপর্যয়) সৃষ্টি করো না’, তারা বলে, ‘আমরা তো কেবল শান্তি স্থাপনকারী’। সাবধান! নিশ্চয়ই তারাই ফাসাদ সৃষ্টিকারী, কিন্তু তারা তা উপলব্ধি করতে পারে না।" (সুরা আল-বাকারা: ৮-১২)
(খ) শানে নুযুল (অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট)
আলোচ্য আয়াতগুলো মদিনার মুনাফিকদের (কপট বিশ্বাসী) সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। প্রেক্ষাপট: রাসুলুল্লাহ (সা.) মক্কায় থাকাকালীন সেখানে কেবল মুমিন ও কাফির—এই দুই শ্রেণির মানুষ ছিল। কিন্তু হিজরতের পর মদিনায় ইসলাম শক্তিশালী ও বিজয়ী হতে শুরু করলে সেখানে একটি তৃতীয় শ্রেণির উদ্ভব হয়। মদিনার নেতা আবদুল্লাহ ইবনে উবাই এবং তার অনুসারীরা দেখল যে, প্রকাশ্যে ইসলামের বিরোধিতা করলে তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব ক্ষুণ্ণ হবে। তাই তারা নিজেদের পার্থিব স্বার্থ, জান ও মালের সুরক্ষার জন্য প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহণের কথা ঘোষণা করে, কিন্তু অন্তরে কুফর ও ইসলামের প্রতি চরম বিদ্বেষ লুকিয়ে রাখে।
এই কপট শ্রেণির আসল রূপ উন্মোচন করা, তাদের ধোঁকাবাজি ও ষড়যন্ত্র সম্পর্কে মুসলমানদের সতর্ক করা এবং তাদের অন্তরের ব্যাধির কথা জানিয়ে দেওয়ার জন্যই আল্লাহ তায়ালা সুরা আল-বাকারার শুরুতে এই আয়াতগুলো নাজিল করেন।
(গ) তাহকিক
১. يُخَادِعُونَ
- সীগাহ: جمع مذكر غائب (জমা মুযাক্কার গায়িব)
- বহছ: اثبات فعل مضارع معروف (ইছবাত ফে'ল মুযারি মারূফ)
- বাব: مفاعلة (মুফায়ালাহ)
- মাদ্দাহ: خ-د-ع (খা-দাল-আইন)
- জিনস: صحيح (সহিহ)
- অর্থ: তারা ধোঁকা দিচ্ছে বা দেবে।
২. آمَنُوا
- সীগাহ: جمع مذكر غائب (জমা মুযাক্কার গায়িব)
- বহছ: اثبات فعل ماضى معروف (ইছবাত ফে'ল মাদী মারূফ)
- বাব: افعال (ইফআল)
- মাদ্দাহ: أ-م-ن (হামজা-মীম-নুন)
- জিনস: مهموز الفاء (মাহমুযুল ফা)
- অর্থ: তারা ঈমান এনেছে।
৩. يَشْعُرُونَ
- সীগাহ: جمع مذكر غائب (জমা মুযাক্কার গায়িব)
- বহছ: اثبات فعل مضارع معروف (ইছবাত ফে'ল মুযারি মারূফ)
- বাব: نصر - ينصر (নাসারা-ইয়ানসুরু)
- মাদ্দাহ: ش-ع-র (শীন-আইন-রা)
- জিনস: صحيح (সহিহ)
- অর্থ: তারা উপলব্ধি করে বা বুঝতে পারে।
৩ নং প্রশ্নের উত্তর
(ক) আয়াতে কারিমার বঙ্গানুবাদ
প্রদত্ত আয়াত (সুরা আল-বাকারা: ৩০-৩২):
وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنِّي جَاعِلٌ فِي الْأَرْضِ خَلِيفَةً ۖ قَالُوا أَتَجْعَلُ فِيهَا مَنْ يُفْسِدُ فِيهَا وَيَسْفِكُ الدِّمَاءَ وَنَحْنُ نُسَبِّحُ بِحَمْدِكَ وَنُقَدِّسُ لَكَ ۖ قَالَ إِنِّي أَعْلَمُ مَا لَا تَعْلَمُونَ. وَعَلَّمَ آدَمَ الْأَسْمَاءَ كُلَّهَا ثُمَّ عَرَضَهُمْ عَلَى الْمَلَائِكَةِ فَقَالَ أَنْبِئُونِي بِأَسْمَاءِ هَؤُلَاءِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ. قَالُوا سُبْحَانَكَ لَا عِلْمَ لَنَا إِلَّا مَا عَلَّمْتَنَا ۖ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ.
বঙ্গানুবাদ: "আর (সেই সময়ের কথা স্মরণ করুন) যখন আপনার রব ফেরেশতাদের বললেন, ‘নিশ্চয়ই আমি পৃথিবীতে একজন খলিফা (প্রতিনিধি) সৃষ্টি করতে যাচ্ছি।’ তারা বলল, ‘আপনি কি সেখানে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন যে ফাসাদ (বিপর্যয়) ঘটাবে এবং রক্তপাত করবে? অথচ আমরাই তো আপনার সপ্রশংস তাসবিহ পাঠ করি এবং আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করি।’ তিনি বললেন, ‘নিশ্চয়ই আমি যা জানি, তোমরা তা জানো না।’ আর তিনি (আল্লাহ) আদমকে যাবতীয় বস্তুর নাম শিক্ষা দিলেন, তারপর সেগুলোকে ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করলেন এবং বললেন, ‘যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তবে আমাকে এগুলোর নাম বলে দাও।’ তারা (ফেরেশতারা) বলল, ‘আপনি পবিত্র মহান! আপনি আমাদের যা শিক্ষা দিয়েছেন, তা ছাড়া আমাদের আর কোনো জ্ঞান নেই। নিশ্চয়ই আপনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।’"
(খ) سجدة التعظيم (সাজদাতুত তা'জীম) কাকে বলে? ইসলামের দৃষ্টিতে এর হুকুম
সাজদাতুত তা'জীম-এর পরিচয়: আরবি 'سجدة' (সাজদাহ) অর্থ মাথা অবনত করা, আর 'التعظيم' (আত-তা'জীম) অর্থ সম্মান প্রদর্শন করা। পরিভাষায়, ইবাদতের উদ্দেশ্য ছাড়া কেবল সম্মান, শ্রদ্ধা বা মর্যাদা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর সামনে মাথা ঝুঁকিয়ে সিজদাহ করাকে 'সাজদাতুত তা'জীম' বা সম্মানসূচক সিজদাহ বলা হয়।
ইসলামের দৃষ্টিতে এর হুকুম: পূর্ববর্তী কিছু নবীর শরীয়তে (যেমন: হজরত ইউসুফ আ.-এর সময়ে) পিতা-মাতা বা বড়দের সম্মানার্থে সাজদাতুত তা'জীম বৈধ ছিল। কিন্তু আমাদের প্রিয়নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর শরীয়তে আল্লাহ তায়ালা ছাড়া অন্য কাউকেই সিজদাহ করা সম্পূর্ণ হারাম এবং শিরক। তা ইবাদতের উদ্দেশ্যেই হোক বা সম্মানের উদ্দেশ্যেই হোক, গায়রুল্লাহকে (আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে) সিজদাহ করার কোনো সুযোগ ইসলামে নেই।
হাদিসের রেফারেন্স: হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"لَوْ كُنْتُ آمِرًا أَحَدًا أَنْ يَسْجُدَ لِأَحَدٍ لَأَمَرْتُ الْمَرْأَةَ أَنْ تَسْجُدَ لِزَوْجِهَا"
অর্থ: "আমি যদি কোনো মানুষকে অন্য কোনো মানুষের সামনে সিজদাহ করার নির্দেশ দিতাম, তবে অবশ্যই স্ত্রীকে নির্দেশ দিতাম তার স্বামীকে সিজদাহ করার জন্য।" (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১১৫৯; সুনানে ইবনে মাজাহ)
এই হাদিস দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, ইসলামে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো জন্য সম্মানসূচক সিজদাহও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ (হারাম)।
(গ) তাহকিক
(যে কোনো দুটি: আপনার সুবিধার্থে প্রশ্নপত্রে থাকা চারটি শব্দের মধ্য থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটির তাহকিক দেওয়া হলো, আপনি যেকোনো দুটি লিখবেন)
১. نُسَبِّحُ
- সীগাহ: جمع متكلم (উত্তম পুরুষ বহুবচন)
- বহছ: اثبات فعل مضارع معروف
- বাব: تفعيل
- মাদ্দাহ: س-ب-ح (সীন-বা-হা)
- জিনস: صحيح (সহিহ)
- অর্থ: আমরা তাসবিহ পাঠ করি বা পবিত্রতা বর্ণনা করি।
২. جَاعِلٌ
- সীগাহ: واحد মذكر (একবচন পুংলিঙ্গ)
- বহছ: اسم فاعل
- বাব: فتح - يفتح
- মাদ্দাহ: ج-ع-ل (জীম-আইন-লাম)
- জিনস: صحيح (সহিহ)
- অর্থ: বানানেওয়ালা, সৃষ্টিকারী বা নির্ধারণকারী।
৩. اَعْلَمُ
- সীগাহ: واحد متكلم (উত্তম পুরুষ একবচন)
- বহছ: اثبات فعل مضارع معروف
- বাব: سمع - يسمع
- মাদ্দাহ: ع-ل-ম (আইন-লাম-মীম)
- জিনস: صحيح (সহিহ)
- অর্থ: আমি জানি।
৪ নং প্রশ্নের উত্তর
(ক) আয়াতে কারিমার বঙ্গানুবাদ
প্রদত্ত আয়াত (সুরা আল-বাকারা: ১৫৩-১৫৭):
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ ۚ إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ- وَلَا تَقُولُوا لِمَن يُقْتَلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتٌ ۚ بَلْ أَحْيَاءٌ وَلَٰكِن لَّا تَشْعُرُونَ- وَلَنَبْلُوَنَّكُم بِشَيْءٍ مِّنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِّنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنفُسِ وَالثَّمَرَاتِ ۗ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ- الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُم مُّصِيبَةٌ قَالُوا إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ- أُولَٰئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ مِّن رَّبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ ۖ وَأُولَٰئِكَ هُمُ الْمُهْتَدُونَ-
বঙ্গানুবাদ: "হে মুমিনগণ! তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন। আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়, তাদেরকে তোমরা মৃত বোলো না; বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা উপলব্ধি করতে পারো না। আর আমরা অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, মাল ও জানের ক্ষতি এবং ফল-ফসলের বিনষ্টের মাধ্যমে। আর আপনি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন। যারা, কোনো বিপদে পতিত হলে বলে, ‘নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।’ এরাই তারা, যাদের ওপর তাদের রবের পক্ষ থেকে বিশেষ অনুগ্রহ ও রহমত বর্ষিত হয়, আর এরাই হলো হিদায়াতপ্রাপ্ত।"
(খ) সবর কাকে বলে? এর প্রকারভেদ
সবরের আভিধানিক অর্থ: ধৈর্য ধারণ করা, নিজেকে সংযত রাখা, বিরত থাকা বা বেঁধে রাখা।
পারিভাষিক অর্থ: ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায়, নফস বা প্রবৃত্তি যা চায় তা থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং কষ্ট সত্ত্বেও আল্লাহর বিধানের ওপর অটল থাকাকে সবর বলা হয়।
সবরের প্রকারভেদ: ইসলামী স্কলারদের মতে সবর প্রধানত ৩ প্রকার। যথা:
- ইবাদতের ওপর সবর (صبر على الطاعة): আল্লাহর নির্দেশিত ইবাদতসমূহ কষ্টকর হলেও তা ধৈর্য ও নিষ্ঠার সাথে নিয়মিত পালন করা।
- পাপকাজ থেকে বিরত থাকার ওপর সবর (صبر عن المعصية): শয়তানের প্ররোচনা ও নফসের অবৈধ চাহিদা থাকা সত্ত্বেও গুনাহের কাজ থেকে নিজেকে কঠোরভাবে বাঁচিয়ে রাখা।
- বিপদে সবর (صبر على المصيبة): রোগ-শোক, অভাব-অনটন, মৃত্যু ও নানাবিধ বিপদে হা-হুতাশ না করে আল্লাহর ফায়সালার ওপর সন্তুষ্ট থাকা।
(গ) তাহকিক
১. اِسْتَعِيْنُوْا
- সীগাহ: جمع مذكر حاضر (মধ্যম পুরুষ বহুবচন)
- বহছ: امر حاضر معروف (অনুজ্ঞাবাচক বর্তমান কাল)
- বাব: استفعال (ইস্তিফআল)
- মাদ্দাহ: ع-و-ن (আইন-ওয়াও-নুন)
- জিনস: اجوف واوي (আজওয়াফে ওয়াওয়ী)
- অর্থ: তোমরা সাহায্য প্রার্থনা করো।
২. لَا تَشْعُرُوْنَ
- সীগাহ: جمع مذكر حاضر (মধ্যম পুরুষ বহুবচন)
- বহছ: نفي فعل مضارع معروف (না-বাচক বর্তমান/ভবিষ্যৎ কাল)
- বাব: نصر (নাসারা)
- মাদ্দাহ: ش-ع-ر (শীন-আইন-রা)
- জিনস: صحيح (সহিহ)
- অর্থ: তোমরা উপলব্ধি করতে পারো না বা বুঝতে পারো না।
৫ নং প্রশ্নের উত্তর
(ক) আয়াতে কারিমার বঙ্গানুবাদ
প্রদত্ত আয়াত (সুরা আল-বাকারা: ১৮৩-১৮৪):
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ. أَيَّامًا مَّعْدُودَاتٍ ۚ فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ ۚ وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ ۖ فَمَن تَطَوَّعَ خَيْرًا فَهُوَ خَيْرٌ لَّهُ ۚ وَأَن تَصُومُوا خَيْرٌ لَّكُمْ ۖ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ.
বঙ্গানুবাদ: "হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর; যেন তোমরা তাকওয়া (আল্লাহভীতি) অর্জন করতে পারো। (রোজা) নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনের জন্য। অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ থাকবে কিংবা সফরে থাকবে, সে অন্য সময়ে এই সংখ্যা পূরণ করে নেবে। আর যাদের জন্য তা আদায় করা কষ্টকর, তাদের कर्तव्य এর পরিবর্তে ফিদিয়া—একজন মিসকিনকে খাদ্য দান করা। অতঃপর যে স্বেচ্ছায় অতিরিক্ত নেক কাজ করে, তা তার জন্য কল্যাণকর। আর যদি তোমরা রোজা রাখো, তবে তা তোমাদের জন্য অধিক কল্যাণকর, যদি তোমরা জানতে।"
(খ) অসুস্থ ও মুসাফিরের জন্য রোজা রাখার হুকুম
ইসলাম একটি সহজ ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনব্যবস্থা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ওজর বা অসুবিধার কারণে অসুস্থ ব্যক্তি ও মুসাফিরকে (ভ্রমণকারী) রমজানের রোজা পরবর্তীতে কাজা করার সুযোগ দিয়েছেন।
১. অসুস্থ ব্যক্তির জন্য হুকুম:
- সাধারণ অসুস্থতা: যদি অসুস্থতা এমন হয় যে, রোজা রাখলে রোগ বেড়ে যাওয়ার বা সুস্থতা বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে ওই ব্যক্তির জন্য রোজা ভাঙা বা না রাখা জায়েজ। পরবর্তীতে সুস্থ হলে কাজা আদায় করতে হবে।
- স্থায়ী অসুস্থতা: যদি কেউ এমন বৃদ্ধ বা জটিল রোগে আক্রান্ত হন যার সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা নেই, তবে তিনি রোজার পরিবর্তে 'ফিদিয়া' (একজন মিসকিনকে খাদ্য দান) প্রদান করবেন।
২. মুসাফিরের জন্য হুকুম:
- সফর অবস্থায় রোজা রাখা কষ্টকর হলে মুসাফিরের জন্য রোজা না রাখার অনুমতি রয়েছে। তবে পরবর্তীতে তাকে এই রোজাগুলোর কাজা আদায় করতে হবে।
- যদি সফর আরামদায়ক হয় এবং কষ্ট না হয়, তবে রোজা রাখাই উত্তম। কিন্তু প্রাণনাশের বা চরম কষ্টের আশঙ্কা থাকলে রোজা ভাঙা ওয়াজিব।
হাদিসের প্রমাণ: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তুমি চাইলে রোজা রাখতে পারো, আর চাইলে রোজা ভাঙতেও পারো।" (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)
(গ) তাহকিক
(যে কোনো দুটি)
১. كُتِبَ
- সীগাহ: واحد مذكر غائب (নাম পুরুষ একবচন)
- বহছ: اثبات فعل ماضى مجهول (হ্যাঁ-বাচক অতীত কর্মবাচ্য)
- মাদ্দাহ: ك-ت-ب (কাফ-তা-বা)
- জিনস: صحيح (সহিহ)
- অর্থ: ফরজ করা হয়েছে বা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
২. تَتَّقُوْনَ
- সীগাহ: جمع مذكر حاضر (মধ্যম পুরুষ বহুবচন)
- বহছ: اثبات فعل مضارع معروف (হ্যাঁ-বাচক বর্তমান/ভবিষ্যৎ কাল)
- বাব: افتعال (ইফতিআল)
- মাদ্দাহ: و-ق-ي (ওয়াও-ক্বাফ-ইয়া)
- অর্থ: তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।
৩. تَطَوَّعَ
- সীগাহ: واحد مذكر غائب (নাম পুরুষ একবচন)
- বহছ: اثبات فعل ماضى معروف (হ্যাঁ-বাচক অতীত কাল)
- বাব: تفعل (তাফাউল)
- মাদ্দাহ: ط-و-ع (ত-ওয়াও-আইন)
- অর্থ: সে স্বেচ্ছায় (সৎকাজ) করেছে।
৬ নং প্রশ্নের উত্তর
(ক) আয়াতে কারিমার বঙ্গানুবাদ:
প্রদত্ত আয়াত:
الٓمٓ ۚ ٱللَّهُ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلْحَىُّ ٱلْقَيُّومُ ۚ نَزَّلَ عَلَيْكَ ٱلْكِتَٰبَ بِٱلْحَقِّ مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَأَنزَلَ ٱلتَّوْرَىٰةَ وَٱلْإِنجِيلَ ۚ مِن قَبْلُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَأَنزَلَ ٱلْفُرْقَانَ ۗ إِنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ بِـَٔايَٰتِ ٱللَّهِ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌ ۗ وَٱللَّهُ عَزِيزٌ ذُو ٱنتِقَامٍ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَخْفَىٰ عَلَيْهِ شَىْءٌ فِى ٱلْأَرْضِ وَلَا فِى ٱلسَّمَآءِ ۗ هُوَ ٱلَّذِى يُصَوِّرُكُمْ فِى ٱلْأَرْحَامِ كَيْفَ يَشَآءُ ۚ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلْحَكِيمُ. (সুরা আলে ইমরান: ১-৬)
বঙ্গানুবাদ: "আলিফ-লাম-মীম। আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোনো (সত্য) ইলাহ নেই; তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক ও রক্ষক। তিনি সত্যসহ আপনার প্রতি কিতাব (কুরআন) নাজিল করেছেন, যা তার পূর্ববর্তী কিতাবগুলোর সত্যায়নকারী; এবং তিনি তাওরাত ও ইনজিল নাজিল করেছেন। ইতিপূর্বে মানুষের হিদায়াতের জন্য এবং তিনি ফুরকান (সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী মানদণ্ড) নাজিল করেছেন। নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে, তাদের জন্য রয়েছে অত্যন্ত কঠিন শাস্তি। আর আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রতিশোধ গ্রহণকারী। নিশ্চয়ই আকাশ ও জমিনের কোনো কিছুই আল্লাহর কাছে গোপন থাকে না। তিনিই মাতৃগর্ভে যেভাবে ইচ্ছা তোমাদের আকৃতি গঠন করেন। তিনি ব্যতীত কোনো (সত্য) ইলাহ নেই; তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।"
(খ) "الم - الله لا اله الا هو الحي القيوم....... الخ" এর শানে নুযুল (অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট):
সুরা আলে ইমরানের প্রথম দিকের এই আয়াতগুলো মূলত নাজরানের খ্রিষ্টান প্রতিনিধিদলের আগমন উপলক্ষে অবতীর্ণ হয়। প্রেক্ষাপট: নবম হিজরিতে নাজরান (ইয়েমেনের নিকটবর্তী একটি অঞ্চল) থেকে ৬০ জন খ্রিষ্টান পণ্ডিতের একটি প্রতিনিধিদল মদিনায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দরবারে আসে। তারা ইসলাম সম্পর্কে এবং বিশেষ করে হজরত ঈসা (আ.)-এর ব্যাপারে রাসুল (সা.)-এর সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়। তারা দাবি করে যে, যেহেতু ঈসা (আ.) পিতা ছাড়া জন্মগ্রহণ করেছেন এবং মৃতকে জীবিত করা ও অন্ধকে দৃষ্টিশক্তি দেওয়ার মতো অলৌকিক কাজ করেছেন, তাই তিনি সাধারণ মানুষ নন, বরং তিনি 'স্রষ্টা' বা 'আল্লাহর পুত্র'。
খ্রিষ্টানদের এই ভ্রান্ত বিশ্বাস খণ্ডন করা এবং ঈসা (আ.) যে স্রষ্টা নন বরং তিনি কেবল আল্লাহর একজন সৃষ্ট বান্দা ও রাসুল—তা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করার জন্যই আল্লাহ তায়ালা এই আয়াতগুলো নাজিল করেন। আয়াতগুলোতে বলা হয়েছে, আল্লাহ চিরঞ্জীব (حي) ও সর্বসত্তার ধারক (قيوم), তাঁর কখনো মৃত্যু নেই। অন্যদিকে ঈসা (আ.)-এর পানাহার ও নিদ্রার প্রয়োজন হতো, যা স্রষ্টার বৈশিষ্ট্য নয়। আল্লাহ মাতৃগর্ভে মানবসন্তানের আকৃতি গঠন করেন, তেমনি ঈসা (আ.)-কেও মাতৃগর্ভে আল্লাহই সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং যিনি সৃষ্ট, তিনি কখনোই স্রষ্টা হতে পারেন না।
(গ) তাহকিক (যে কোনো দুটি):
(আপনার সুবিধার্থে প্রশ্নপত্রে থাকা চারটি শব্দের মধ্য থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটির তাহকিক দেওয়া হলো, আপনি যেকোনো দুটি লিখবেন)
১. نَزَّلَ (নাযযালা):
- সীগাহ (পদ): واحد مذكر غائب (ওয়াহেদ মুযাক্কার গায়িব - নাম পুরুষ একবচন)।
- বহছ (কাল): اثبات فعل ماضى معروف (ইছবাত ফে'ল মাদী মারূফ - হ্যাঁ বাচক অতীত কাল)।
- বাব (অধ্যায়): تفعيل (তাফয়িল)।
- মাদ্দাহ (মূলবর্ণ): ن-ز-ل (নুন-যা-লাম)।
- জিনস (প্রকৃতি): صحيح (সহিহ)।
- অর্থ: তিনি অবতীর্ণ করেছেন।
২. يُصَوِّرُ (ইউসাওয়্যিরু):
- সীগাহ (পদ): واحد مذكر غائب (ওয়াহেদ মুযাক্কার গায়িব - নাম পুরুষ একবচন)।
- বহছ (কাল): اثبات فعل مضارع معروف (ইছবাত ফে'ল মুযারি মারূফ - হ্যাঁ বাচক বর্তমান/ভবিষ্যৎ কাল)।
- বাব (অধ্যায়): تفعيل (তাফয়িল)।
- মাদ্দাহ (মূলবর্ণ): ص-و-ر (সোয়াদ্-ওয়াও-রা)।
- জিনস (প্রকৃতি): اجوف واوي (আজওয়াফে ওয়াওয়ী)।
- অর্থ: তিনি আকৃতি গঠন করেন বা রূপ দান করেন।
৩. لَا يَخْفَى (লা-ইয়াখফা):
- সীগাহ (পদ): واحد مذكر غائب (ওয়াহেদ মুযাক্কার গায়িব)।
- বহছ (কাল): نفي فعل مضارع معروف (নফী ফে'ল মুযারি মারূফ - না বাচক বর্তমান/ভবিষ্যৎ কাল)।
- বাব (অধ্যায়): سمع - يسمع (সামিআ - ইয়াসমাউ)।
- মাদ্দাহ (মূলবর্ণ): خ-ف-ي (খা-ফা-ইয়া)।
- জিনস (প্রকৃতি): ناقص يائي (নাকিসে ইয়ায়ী)।
- অর্থ: গোপন থাকে না।
৭ নং প্রশ্নের উত্তর
(ক) আয়াতে কারিমার বঙ্গানুবাদ:
প্রদত্ত আয়াত:
قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ ۗ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ. قُلْ أَطِيعُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ ۖ فَإِن تَوَلَّوْا فَإِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْكَافِرِينَ. إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَىٰ آدَمَ وَنُوحًا وَآلَ إِبْرَاهِيمَ وَآلَ عِمْرَانَ عَلَى الْعَالَمِينَ. ذُرِّيَّةً بَعْضُهَا مِن بَعْضٍ ۗ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ. إِذْ قَالَتِ امْرَأَتُ عِمْرَانَ رَبِّ إِنِّي نَذَرْتُ لَكَ مَا فِي بَطْنِي مُحَرَّرًا فَتَقَبَّلْ مِنِّي ۖ إِنَّكَ أَنتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ. (সুরা আলে ইমরান: ৩১-৩৫)
বঙ্গানুবাদ: "(হে নবী) আপনি বলুন, ‘যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমার অনুসরণ করো, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ বলুন, ‘তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করো।’ অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফিরদের ভালোবাসেন না। নিশ্চয়ই আল্লাহ আদম, নূহ, ইবরাহীমের বংশধর এবং ইমরানের বংশধরকে বিশ্বজগতের ওপর মনোনীত করেছেন। তারা একে অপরের বংশধর। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। (সেই সময়ের কথা স্মরণ করুন) যখন ইমরানের স্ত্রী বলেছিল, ‘হে আমার রব! আমার গর্ভে যা আছে, আমি তাকে একান্ত আপনার জন্য স্বাধীনভাবে (দুনিয়াবি কাজ থেকে মুক্ত করে) উৎসর্গ করার মানত করলাম। সুতরাং আপনি আমার পক্ষ থেকে তা কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।’"
(খ) "فَإِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْكَافِرِينَ" - আয়াতাংশের ব্যাখ্যা:
অনুবাদ: "নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফিরদের (অবিশ্বাসীদের) ভালোবাসেন না।" এটি সুরা আলে ইমরানের ৩২ নং আয়াতের শেষাংশ।
ব্যাখ্যা: ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা দাবি করত যে, তারা আল্লাহকে খুব ভালোবাসে এবং তারাই আল্লাহর প্রিয় পাত্র। তাদের এই দাবির সত্যতা প্রমাণের মানদণ্ড হিসেবে আল্লাহ তায়ালা পূর্ববর্তী আয়াতে (আয়াত: ৩১) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিঃশর্ত অনুসরণের নির্দেশ দেন। এরপর আলোচ্য ৩২ নং আয়াতে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করার চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়া হয়।
এই আয়াতাংশে মূলত দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে:
- ১. রাসুলের অবাধ্যতাই কুফর: কেউ যদি আল্লাহকে মানার দাবি করে, কিন্তু রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ ও আদর্শ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে ইসলামী পরিভাষায় সে আর মুমিন থাকে না; বরং সে 'কাফির' বা অবিশ্বাসী হয়ে যায়। রাসুলের আনুগত্য ছাড়া কেবল আল্লাহর প্রতি মৌখিক ভালোবাসার দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।
- ২. কাফিরদের প্রতি আল্লাহর অসন্তুষ্টি: আল্লাহ তায়ালা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছেন যে, যারা নবীজির অবাধ্য হয়ে কুফরি পথ বেছে নেয়, আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন না। তাদের পূর্ববর্তী সমস্ত আমল বাতিল হয়ে যায় এবং তারা আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হয়। অর্থাৎ আল্লাহর ভালোবাসা পেতে হলে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আনুগত্য করা অপরিহার্য।
(গ) তাহকিক (যে কোনো দুটি):
(প্রশ্নপত্রে থাকা চারটি শব্দের মধ্য থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটির তাহকিক দেওয়া হলো, আপনি যেকোনো দুটি লিখবেন)
১. لَا يُحِبُّ (লা ইউহিব্বু):
- সীগাহ (পদ): واحد مذكر غائب (ওয়াহেদ মুযাক্কার গায়িব - নাম পুরুষ একবচন)।
- বহছ (কাল): نفي فعل مضارع معروف (নফী ফে'ল মুযারি মারূফ - না-বাচক বর্তমান/ভবিষ্যৎ কাল)।
- বাব (অধ্যায়): افعال (ইফআল) [মাযী: اَحَبَّ]।
- মাদ্দাহ (মূলবর্ণ): ح-ب-ب (হা-বা-বা)।
- জিনস (প্রকৃতি): مضاعف ثلاثي (মুযাআ'ফে ছুলাছী)।
- অর্থ: তিনি ভালোবাসেন না বা পছন্দ করেন না।
২. اصْطَفَى (ইসতাফা):
- সীগাহ (পদ): واحد مذكر غائب (ওয়াহেদ মুযাক্কার গায়িব - নাম পুরুষ একবচন)।
- বহছ (কাল): اثبات فعل ماضى معروف (ইছবাত ফে'ল মাদী মারূফ - হ্যাঁ বাচক অতীত কাল)।
- বাব (অধ্যায়): افتعال (ইফতিআল)।
- মাদ্দাহ (মূলবর্ণ): ص-ف-و (সোয়াদ্-ফা-ওয়াও)।
- জিনস (প্রকৃতি): ناقص واوي (নাকিসে ওয়াওয়ী)।
- অর্থ: তিনি মনোনীত করেছেন বা বেছে নিয়েছেন।
৩. نَذَرْتُ (নাযারতু):
- সীগাহ (পদ): واحد متكلم (ওয়াহেদ মুতাকাল্লিম - উত্তম পুরুষ একবচন)।
- বহছ (কাল): اثبات فعل ماضى معروف (ইছবাত ফে'ল মাদী মারূফ - হ্যাঁ বাচক অতীত কাল)।
- বাব (অধ্যায়): نصر - ينصر (নাসারা-ইয়ানসুরু)।
- মাদ্দাহ (মূলবর্ণ): ن-ذ-ر (নুন-যাল-রা)।
- জিনস (প্রকৃতি): صحيح (সহিহ)।
- অর্থ: আমি মানত করেছি।
৮ নং প্রশ্নের উত্তর
(ক) আয়াতে কারিমার বঙ্গানুবাদ:
প্রদত্ত আয়াত:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ. وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا ۚ وَاذْكُرُوا نِعْمَتَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنتُمْ أَعْدَاءً فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ فَأَصْبَحْتُم بِنِعْمَتِهِ إِخْوَانًا وَكُنتُمْ عَلَىٰ شَفَا حُفْرَةٍ مِّنَ النَّارِ فَأَنقَذَكُم مِّنْهَا ۗ كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ. (সুরা আলে ইমরান: ১০২-১০৩)
বঙ্গানুবাদ: "হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) না হয়ে কোনো অবস্থাতেই মৃত্যুবরণ করো না। আর তোমরা সকলে মিলে আল্লাহর রজ্জুকে (কুরআন/ইসলামকে) শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। তোমাদের ওপর আল্লাহর নেয়ামতের কথা স্মরণ করো, যখন তোমরা ছিলে পরস্পরের শত্রু, অতঃপর তিনি তোমাদের অন্তরে সম্প্রীতি সৃষ্টি করে দিলেন, ফলে তাঁর অনুগ্রহে তোমরা পরস্পর ভাই ভাই হয়ে গেলে। তোমরা তো ছিলে আগুনের গর্তের প্রান্তে, অতঃপর তিনি তোমাদেরকে তা থেকে রক্ষা করেছেন। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা হিদায়াত লাভ করতে পারো।"
(খ) "اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ" - আয়াতাংশের ব্যাখ্যা:
অনুবাদ: "তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো।"
ব্যাখ্যা: ইসলামী জীবনে 'তাকওয়া' বা আল্লাহভীতির গুরুত্ব অপরিসীম। এই আয়াতে আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা আল্লাহকে ঠিক সেভাবেই ভয় করে, যেভাবে তাঁকে ভয় করা উচিত। প্রখ্যাত সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) এই আয়াতাংশের ব্যাখ্যায় বলেছেন, "যথাযথভাবে আল্লাহকে ভয় করার অর্থ হলো— ১. আল্লাহর পরিপূর্ণ আনুগত্য করা, কখনো তাঁর নাফরমানি না করা। ২. সর্বদা তাঁকে স্মরণ করা, কখনো তাঁকে ভুলে না যাওয়া। ৩. তাঁর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা, অকৃতজ্ঞ না হওয়া।" (তাফসিরে ইবনে কাসির)
পরবর্তী সময়ে মানুষের জন্য এই বিধানকে সহজ করার লক্ষ্যে সুরা আত-তাগাবুনের ১৬ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন: "فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ" অর্থাৎ "তোমরা আল্লাহকে তোমাদের সাধ্যমতো ভয় করো।" মুফাসসিরদের মতে, সাধ্যমতো তাকওয়া অবলম্বন করার মাধ্যমেই বান্দা আল্লাহর যথাযথ তাকওয়া অর্জনের স্তরে পৌঁছাতে পারে।
(গ) তাহকিক (যে কোনো দুটি):
(আপনার সুবিধার্থে প্রশ্নপত্রে থাকা চারটি শব্দের মধ্য থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটির তাহকিক দেওয়া হলো, আপনি যেকোনো দুটি লিখবেন)
১. اتَّقُوا (ইত্তাক্বূ):
- সীগাহ (পদ): جمع مذكر حاضر (জমা মুযাক্কার হাযির - মধ্যম পুরুষ বহুবচন)।
- বহছ (কাল): امر حاضر معروف (আমর হাযির মারূফ - অনুজ্ঞাবাচক বর্তমান কাল)।
- বাব (অধ্যায়): افتعال (ইফতিআল)।
- মাদ্দাহ (মূলবর্ণ): و-ق-ي (ওয়াও-ক্বাফ-ইয়া)।
- জিনস (প্রকৃতি): لفيف مفروق (লাফীফে মাফরূক)।
- অর্থ: তোমরা ভয় করো (তাকওয়া অবলম্বন করো)।
২. تَفَرَّقُوا (তাফাররাক্বূ - আয়াতে 'لا' সহ نهي হিসেবে ব্যবহৃত):
- সীগাহ (পদ): جمع مذكر حاضر (জমা মুযাক্কার হাযির)।
- বহছ (কাল): نهي حاضر معروف (নহী হাযির মারূফ - নিষেধবাচক বর্তমান কাল)।
- বাব (অধ্যায়): تفعّل (তাফাউল)।
- মাদ্দাহ (মূলবর্ণ): ف-ر-ق (ফা-রা-ক্বাফ)।
- জিনস (প্রকৃতি): صحيح (সহিহ)।
- অর্থ: তোমরা বিচ্ছিন্ন হয়ো না।
৩. يُبَيِّنُ (ইউবায়্যিনু):
- সীগাহ (পদ): واحد مذكر غائب (ওয়াহেদ মুযাক্কার গায়িব - নাম পুরুষ একবচন)।
- বহছ (কাল): اثبات فعل مضارع معروف (ইছবাত ফে'ল মুযারি মারূফ - হ্যাঁ বাচক বর্তমান/ভবিষ্যৎ কাল)।
- বাব (অধ্যায়): تفعيل (তাফয়িল)।
- মাদ্দাহ (মূলবর্ণ): ب-ي-ن (বা-ইয়া-নুন)।
- জিনস (প্রকৃতি): اجوف يائي (আজওয়াফে ইয়ায়ী)।
- অর্থ: তিনি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন।
গ বিভাগ — নির্বাচিত বিষয়সমূহ
(যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও)
মান — ৫ × ২ = ১০
৯। 'غلول' বা দুর্নীতি বলতে কী বুঝ? দুর্নীতির হুকুম ও কুফল বর্ণনা কর।
غُلُوْلٌ (গুলুল) বা দুর্নীতি বলতে কী বোঝায়:
আভিধানিক অর্থ: غُلُوْلٌ শব্দের অর্থ হলো খিয়ানত করা, আত্মসাৎ করা, চুরি করা বা লুকিয়ে রাখা।
পারিভাষিক অর্থ: শরিয়তের পরিভাষায়, গনিমাতের মাল (যুদ্ধের লব্ধ সম্পদ) বণ্টনের পূর্বে সেখান থেকে কোনো কিছু লুকিয়ে রাখা বা আত্মসাৎ করাকে 'গুলুল' বলা হয়। ব্যাপক অর্থে, রাষ্ট্রীয় বা অপরের সম্পদ অবৈধভাবে আত্মসাৎ করা, ঘুষ নেওয়া এবং যেকোনো ধরনের আর্থিক দুর্নীতিই 'গুলুল'-এর অন্তর্ভুক্ত।
দুর্নীতির হুকুম ও কুফল:
ইসলামী শরিয়তে দুর্নীতি বা আত্মসাৎ করা সম্পূর্ণ হারাম এবং কবিরা গুনাহ।
১. কুরআনের রেফারেন্স:
আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন:
"وَمَا كَانَ لِنَبِيٍّ أَنْ يَغُلَّ ۚ وَمَنْ يَغْلُلْ يَأْتِ بِمَا غَلَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ"
অর্থ: "কোনো নবীর জন্য শোভনীয় নয় যে তিনি খিয়ানত করবেন। আর যে ব্যক্তি খিয়ানত করবে, সে কিয়ামতের দিন সেই খিয়ানত করা বস্তু নিয়ে উপস্থিত হবে।" (সুরা আলে ইমরান: ১৬১)
২. হাদিসের রেফারেন্স ও কুফল: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি আমাদের কোনো কাজে নিযুক্ত হয়ে এক টুকরো সুতা বা তার চেয়েও ছোট কিছু আত্মসাৎ করবে, সে কিয়ামতের দিন তা নিয়ে উপস্থিত হবে।" (সহিহ মুসলিম)। এছাড়া হারাম উপার্জনের কারণে ইবাদত ও দোয়া কবুল হয় না এবং হাদিসের ঘোষণানুযায়ী হারাম খাদ্যে গঠিত শরীর জান্নাতে প্রবেশ করবে না।
১০। 'রিবাহ' বা সুদ কাকে বলে? সুদ কত প্রকার ও কী কী? এর কুফল বর্ণনা কর।
رِبَا (রিবা) বা সুদ কাকে বলে:
আভিধানিক অর্থ: আরবি 'رِبَا' (রিবা) শব্দের অর্থ হলো— বৃদ্ধি পাওয়া, বেশি হওয়া, অতিরিক্ত বা পরিবর্ধিত হওয়া।
পারিভাষিক অর্থ: ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায়, ঋণ আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে মূলধনের ওপর নির্দিষ্ট মেয়াদ বা সময়ের বিনিময়ে শর্তসাপেক্ষে যে অতিরিক্ত অর্থ বা বস্তু গ্রহণ করা হয়, তাকে 'রিবা' বা সুদ বলে।
رِبَا (রিবা) বা সুদ-এর প্রকারভেদ:
ইসলামী ফিকহ অনুযায়ী রিবা প্রধানত ২ প্রকার। যথা:
- ১. রিবা আন-নাসিয়াহ (رِبَا النَّسِيئَة): একে 'রিবাল কুরআন' বা ঋণের সুদও বলা হয়। ঋণের মেয়াদের বিপরীতে মূলধনের অতিরিক্ত যে অংশ নেওয়া হয়, তাকে রিবা আন-নাসিয়াহ বলে। জাহেলি যুগে এই সুদের ব্যাপক প্রচলন ছিল।
- ২. রিবা আল-ফজল (رِبَا الْفَضْل): একে 'রিবাল হাদিস' বা ক্রয়-বিক্রয়ের সুদও বলা হয়। ওজনে বা পরিমাপে বিক্রি হয় এমন একই জাতীয় দুটি জিনিস (যেমন: গমের বদলে গম, সোনার বদলে সোনা) কমবেশি করে হাতে হাতে আদান-প্রদান করাকে রিবা আল-ফজল বলে।
সুদের কুফল ও হুকুম:
ইসলামী শরিয়তে সুদ আদান-প্রদান করা সম্পূর্ণ হারাম এবং এটি একটি মারাত্মক কবিরা গুনাহ। এর কুফল অনেক:
১. কুরআনের ঘোষণা (হারাম হওয়া):
আল্লাহ তায়ালা সুদকে স্পষ্টভাবে হারাম করেছেন। আল-কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:
"وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا"
অর্থ: "আর আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।" (সুরা আল-বাকারা: ২৭৫)
২. আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সাথে যুদ্ধ:
সুদখোরদের বিরুদ্ধে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন:
"فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُوا فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ"
অর্থ: "অতঃপর তোমরা যদি (সুদ বর্জন) না করো, তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা শুনে নাও।" (সুরা আল-বাকারা: ২৭৯)
৩. হাদিসের রেফারেন্স (অভিশাপ):
হজরত জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
"لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ آكِلَ الرِّبَا وَمُؤْكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ"
অর্থ: "রাসুলুল্লাহ (সা.) সুদখোর, সুদদাতা, সুদের চুক্তি লেখক এবং এর সাক্ষী দুজনের ওপর লানত (অভিশাপ) বর্ষণ করেছেন। তিনি বলেছেন, তারা সকলেই সমান অপরাধী।" (সহিহ মুসলিম)
৪. সামাজিক কুফল: সুদের কারণে সমাজে বৈষম্য তৈরি হয়। ধনীরা বিনা পরিশ্রমে আরও ধনী হয় এবং গরিবরা শোষিত হয়ে আরও গরিব হয়। ফলে সমাজে দারিদ্র্য, জুলুম ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়।
১১। "ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা"—ব্যাখ্যা কর।
"ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা" - ব্যাখ্যা:
ইসলাম শুধু কিছু আচার-অনুষ্ঠান বা উপাসনার নাম নয়, বরং এটি মানুষের জীবনের শুরু থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রের একটি নিখুঁত ও পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন।
কুরআনের ঘোষণা:
বিদায় হজের দিন আল্লাহ তায়ালা আল-কুরআনে ঘোষণা করেন:
"اَلْيَوْمَ اَكْمَلْتُ لَكُمْ دِيْنَكُمْ وَاَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِيْ وَرَضِيْتُ لَكُمُ الْاِسْلَامَ دِيْنًا"
অর্থ: "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য জীবনব্যবস্থা হিসেবে মনোনীত করলাম।" (সুরা আল-মায়িদাহ: ৩)
ব্যাখ্যা:
একজন মানুষের ব্যক্তিগত আচরণ, পারিবারিক সম্পর্ক, সামাজিক দায়বদ্ধতা, রাষ্ট্রীয় পরিচালনা, অর্থনীতি, বিচারব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক—সবকিছুর সুস্পষ্ট সমাধান ইসলামে রয়েছে। ঘুমানোর আদব থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনা পর্যন্ত এমন কোনো বিষয় নেই যার দিকনির্দেশনা কুরআন ও সুন্নাহতে দেওয়া হয়নি। ইসলাম মানুষের আধ্যাত্মিক ও জাগতিক উভয় দিকের সমন্বয় সাধন করেছে। তাই ইসলাম মানবজাতির জন্য একমাত্র পূর্ণাঙ্গ, বাস্তবসম্মত ও শাশ্বত জীবন ব্যবস্থা।
১২। 'إطاعة الرسول' বলতে কী বুঝ? আল্লাহ তায়ালার ভালোবাসা পেতে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আনুগত্যের গুরুত্ব বর্ণনা কর।
প্রশ্ন: "اِطَاعَةُ الرَّسُوْلِ বলতে কী বুঝ? আল্লাহ তায়ালার ভালোবাসা পেতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আনুগত্যের গুরুত্ব বর্ণনা কর।"
اِطَاعَةُ الرَّسُوْلِ (ইতায়াতুর রাসুল) বলতে কী বোঝায়:
আরবি 'اِطَاعَة' (ইতায়াত) শব্দের অর্থ হলো মান্য করা, হুকুম পালন করা বা আনুগত্য করা। আর 'اِطَاعَةُ الرَّسُوْلِ' অর্থ হলো রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পরিপূর্ণ আনুগত্য করা। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর সুন্নাহ, আদর্শ ও নির্দেশাবলিকে নিঃশর্তভাবে মেনে নেওয়াই হলো ইতায়াতুর রাসুল।
আল্লাহর ভালোবাসা পেতে রাসুল (সা.)-এর আনুগত্যের গুরুত্ব:
ইসলামী শরিয়তে আল্লাহর ভালোবাসা ও নৈকট্য লাভের একমাত্র ও প্রধান শর্ত হলো প্রিয়নবী (সা.)-এর পরিপূর্ণ অনুসরণ ও আনুগত্য করা। কুরআন ও হাদিসের আলোকে এর গুরুত্ব অপরিসীম:
১. আল্লাহর ভালোবাসা লাভের প্রধান শর্ত:
আল্লাহ তায়ালা আল-কুরআনে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে, তাঁকে ভালোবাসতে হলে এবং তাঁর ভালোবাসা পেতে হলে অবশ্যই রাসুলের অনুসরণ করতে হবে। কুরআনের রেফারেন্স:
"قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ ۗ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ"
অর্থ: "(হে নবী) আপনি বলে দিন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসতে চাও, তবে আমার অনুসরণ করো; তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু।" (সুরা আলে ইমরান: ৩১)
২. রাসুলের আনুগত্যই আল্লাহর আনুগত্য:
রাসুল (সা.) নিজের মনগড়া কোনো কথা বলতেন না, বরং ওহির মাধ্যমেই আদেশ-নিষেধ করতেন। তাই রাসুল (সা.)-কে মানার অর্থই হলো আল্লাহকে মানা। কুরআনের রেফারেন্স:
"مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ"
অর্থ: "যে ব্যক্তি রাসুলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল।" (সুরা আন-নিসা: ৮০)
৩. ঈমানের পূর্ণতা ও জান্নাতে প্রবেশের চাবিকাঠি:
রাসুল (সা.)-এর অবাধ্যতা করে কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারেষ্ঠানিক হতে পারে না এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিও পেতে পারে না। হাদিসের রেফারেন্স: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "আমার উম্মতের সবাই জান্নাতে প্রবেশ করবে, কেবল সে ব্যক্তি ছাড়া, যে অস্বীকার করেছে।" সাহাবিগণ জিজ্ঞাসা করলেন, "হে আল্লাহর রাসুল! কে অস্বীকার করেছে?" তিনি বললেন, "যে আমার আনুগত্য করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর যে আমার অবাধ্য হবে সে-ই অস্বীকার করল।" (সহিহ বুখারি)
অতএব, আল্লাহ তায়ালার ভালোবাসা, সন্তুষ্টি এবং আখিরাতে জান্নাত পেতে হলে সর্বক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিঃশর্ত আনুগত্যের কোনো বিকল্প নেই।
ঘ বিভাগ — তাজভিদ
(যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও)
মান — ৫ × ২ = ১০
১৩। 'لحن' (লাহন) কাকে বলে? লাহন কত প্রকার ও কী কী? প্রত্যেক প্রকার উদাহরণসহ লেখ।
لَحْنٌ (লহন) কাকে বলে:
আভিধানিক অর্থ: 'لَحْنٌ' (লহন) শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো— ভুল করা, সুর পরিবর্তন করা বা ঝোঁক।
পারিভাষিক অর্থ: তাজভিদ শাস্ত্রের পরিভাষায়, পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের সময় আরবি হরফগুলোর উচ্চারণ, সিফাত বা হরকতে ভুল করাকে 'لَحْنٌ' (লহন) বলা হয়।
لَحْنٌ (লহন)-এর প্রকারভেদ:
কুরআন তিলাওয়াতে লহন বা ভুল প্রধানত ২ প্রকার। যথা:
১. লহনে জলী (اللَّحْنُ الْجَلِيُّ) বা বড়/প্রকাশ্য ভুল:
'জলী' অর্থ স্পষ্ট বা প্রকাশ্য। কুরআন তিলাওয়াতে এমন বড় ধরনের ভুল করা, যার ফলে শব্দের অর্থ সম্পূর্ণ বা আংশিক পরিবর্তন হয়ে যায়, তাকে লহনে জলী বলা হয়। এই ধরনের ভুল করা সম্পূর্ণ হারাম। জেনে-শুনে এমন ভুল করলে নামাজ ফাসিদ (নষ্ট) হয়ে যায়।
লহনে জলীর উদাহরণ:
- এক হরফের জায়গায় অন্য হরফ পড়া: যেমন: সুরা ফাতিহাতে 'اَلْحَمْدُ' (আল-হামদু — সমস্ত প্রশংসা) এর ح-এর জায়গায় ه পড়ে 'اَلْهَمْدُ' (আল-হামদু — যার অর্থ মৃত্যু বা ধ্বংস) পড়া।
- হরকতের (যবর, যের, পেশ) পরিবর্তন করা: যেমন: 'اَنْعَمْتَ' (আনআমতা — 'আপনি' অনুগ্রহ করেছেন) এর স্থলে 'اَنْعَمْتُ' (আনআমতু — 'আমি' অনুগ্রহ করেছি) পড়া। এতে আল্লাহর জায়গায় নিজেকে দাতা বোঝানো হয়, যা মারাত্মক বিকৃতি।
২. লহনে খফী (اللَّحْنُ الْخَفِيُّ) বা ছোট/অপ্রকাশ্য ভুল:
'খফী' অর্থ গোপন বা অপ্রকাশ্য। কুরআন তিলাওয়াতে তাজভিদের নিয়মের এমন ভুল করা, যার কারণে শব্দের অর্থের কোনো পরিবর্তন হয় না, তবে তিলাওয়াতের সৌন্দর্য ও তাজভিদের হক নষ্ট হয়, তাকে লহনে খফী বলা হয়। এ ধরনের ভুল করা মাকরুহ বা অপছন্দনীয়।
লহনে খফীর উদাহরণ:
- যেখানে গুন্নাহ করা ওয়াজিব বা প্রয়োজন, সেখানে গুন্নাহ না করা।
- র (ر) হরফটি মোটা (পুর) করে পড়ার জায়গায় চিকন (বারীক) করে পড়া বা এর উল্টোটা করা।
- মাদ (টেনে পড়া)-এর জায়গায় না টানা, অথবা যতটুকু টানা প্রয়োজন (যেমন: ৩ বা ৪ আলিফ) তার চেয়ে কম বা বেশি টানা।
১৪। নুন সাকিন ও তানভিন কাকে বলে? তা কত প্রকার ও কী কী? উদাহরণসহ লেখ।
নুন সাকিন ও তানভিন কাকে বলে:
১. নুন সাকিন (نْ): যযম বা সাকিনযুক্ত নুন (ن)-কে নুন সাকিন বলা হয়। অর্থাৎ যে নুনের ওপর কোনো হরকত (যবর, যের, পেশ) থাকে না, বরং সাকিন থাকে, তাকেই নুন সাকিন বলে। যেমন: مِنْ (মিন), اَنْ (আন)।
২. তানভিন ( ً ٍ ٌ ): শব্দের শেষে দুই যবর ( ً ), দুই যের ( ٍ ) এবং দুই পেশ ( ٌ )-কে তানভিন বলা হয়। মূলত তানভিনের উচ্চারণের শেষেও একটি নুন সাকিন লুকিয়ে থাকে। যেমন: بَابٌ (বাবুন)। এখানে بَابْ+نْ = بَابٌ হয়েছে।
নুন সাকিন ও তানভিন পড়ার নিয়ম বা প্রকারভেদ:
নুন সাকিন ও তানভিনের উচ্চারণ মূলত এর পরের হরফের ওপর নির্ভর করে। তাজভিদের নিয়মানুযায়ী নুন সাকিন ও তানভিন পড়ার নিয়ম ৪টি। যথা:
১. ইজহার (اَلْإِظْهَارُ):
- অর্থ: স্পষ্ট করে পড়া।
- নিয়ম: নুন সাকিন বা তানভিনের পর 'হুরূফে হালক্বী' বা কণ্ঠনালীর ৬টি হরফের (ء, ه, ع, ح, غ, خ) কোনো একটি আসলে, নুন সাকিন বা তানভিনকে গুন্নাহ ছাড়া (নাকিসুরে না পড়ে) স্বাভাবিকভাবে স্পষ্ট করে পড়তে হয়।
- উদাহরণ:
- নুন সাকিন: مَنْ آمَنَ (মান আমানা)। এখানে গুন্নাহ হবে না।
- তানভিন: كُفُوًا أَحَدٌ (কুফুওয়ান আহাদ)।
২. ইদগাম (اَلْإِدْغَامُ):
- অর্থ: মিলিয়ে পড়া বা একীভূত করা।
- নিয়ম: নুন সাকিন বা তানভিনের পর ইদগামের ৬টি হরফের (ي, ر, م, ل, و, ن - সহজে মনে রাখার জন্য يَرْمَلُوْنَ) কোনো একটি আসলে, নুন সাকিন বা তানভিনকে পরের হরফের সাথে মিলিয়ে পড়তে হয়।
- ইদগাম আবার ২ প্রকার:
- গুন্নাহসহ ইদগাম (ي, م, و, ن): مَنْ يَّعْمَلْ (মাইঁ ইয়া'মাল)। এখানে গুন্নাহ করে মিলিয়ে পড়তে হবে।
- গুন্নাহ ছাড়া ইদগাম (ر, ل): مِنْ رَّبِّهِمْ (মির রাব্বিহিম)। এখানে গুন্নাহ ছাড়া মিলিয়ে পড়তে হবে।
৩. ইকলাব (اَلْإِقْلَابُ):
- অর্থ: পরিবর্তন করে পড়া।
- নিয়ম: নুন সাকিন বা তানভিনের পর ইকলাবের একমাত্র হরফ ب (বা) আসলে, নুন সাকিন বা তানভিনের নুন-এর উচ্চারণকে পরিবর্তন করে একটি ছোট মীম (م) দ্বারা গুন্নাহর সাথে পড়তে হয়।
- উদাহরণ:
- نبذ (মুম্বায)। মূল শব্দ اَنْبَذَ (আম্বাযা)।
- مِن بَعْدِ (মিম বা'দি)।
৪. ইখফা (اَلْإِخْفَاءُ):
- অর্থ: গোপন করে পড়া।
- নিয়ম: নুন সাকিন বা তানভিনের পর ইজহার, ইদগাম ও ইকলাব—এই তিন প্রকারের ১৩টি হরফ বাদে আরবি বর্ণমালার বাকি ১৫টি হরফের কোনো একটি আসলে, নুন সাকিন বা তানভিনকে নাকের বাঁশিতে লুকিয়ে গুন্নাহর সাথে পড়তে হয়।
- উদাহরণ:
- নুন সাকিন: مِنْ قَبْلُ (মিং ক্বাব্লু)।
- তানভিন: غَفُوْرٌ شَكُوْرٌ (গফূরুং শাকূর)।
১৫। 'ميم ساكن' (মিম সাকিন) কাকে বলে? তা পড়ার নিয়ম কয়টি ও কী কী? উদাহরণসহ লেখ।
مِيم سَاكِن (মীম সাকিন) কাকে বলে:
যযম (ْ) বা সাকিনযুক্ত মীম (مْ)-কে মীম সাকিন বলা হয়। অর্থাৎ, যে মীম (م) হরফের ওপর কোনো হরকত (যবর, যের, পেশ) থাকে না, বরং সাকিন থাকে, তাকেই মীম সাকিন বলে। যেমন: أَلَمْ (আলাম), هُمْ (হুম)।
মীম সাকিন পড়ার নিয়ম:
মীম সাকিন পড়ার নিয়ম এর পরের হরফের ওপর নির্ভর করে। তাজভিদের নিয়মানুযায়ী মীম সাকিন পড়ার নিয়ম ৩টি। যথা:
১. ইখফায়ে শাফাবী (اَلْإِخْفَاءُ الشَّفَوِيُّ):
- অর্থ: ঠোঁটের মাধ্যমে গোপন করে পড়া ('শাফাতুন' অর্থ ঠোঁট, মীম ঠোঁট থেকে উচ্চারিত হয় বলে একে শাফাবী বলা হয়)।
- নিয়ম: মীম সাকিনের (مْ) পর যদি ب (বা) হরফ আসে, তবে সেই মীম সাকিনকে গুন্নাহর সাথে (নাকের বাঁশিতে লুকিয়ে) পড়তে হয়।
- উদাহরণ:
- تَرْمِيهِمْ بِحِجَارَةٍ (তারমীহিম বিহিজারাহ)। এখানে هِمْ এর মীম সাকিনের পর ب এসেছে, তাই গুন্নাহ করে পড়তে হবে।
- يَعْتَصِمْ بِاللَّهِ (ইয়া'তাসিম বিল্লাহ)।
২. ইদগামে শাফাবী বা ইদগামে মিছলাইনী (اَلْإِدْغَامُ الشَّفَوِيُّ / إِدْغَامُ مِثْلَيْنِ):
- অর্থ: ঠোঁটের মাধ্যমে মিলিয়ে পড়া বা সমজাতীয় হরফ মিলিয়ে পড়া।
- নিয়ম: মীম সাকিনের (مْ) পর যদি আরেকটি م (মীম) হরফ আসে, তবে প্রথম মীম সাকিনকে দ্বিতীয় মীমের সাথে মিলিয়ে (তাশদীদ দিয়ে) গুন্নাহর সাথে পড়তে হয়।
- উদাহরণ:
- فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ (ফী কুলূবিহিম মারাদ)। এখানে هِمْ এর মীম সাকিনের পর م এসেছে, তাই গুন্নাহ করে মিলিয়ে পড়তে হবে।
- إِنَّهَا عَلَيْهِمْ مُؤْصَدَةٌ (ইন্নাহা আলাইহিম মু'সাদাহ)।
৩. ইজহারে শাফাবী (اَلْإِظْهَارُ الشَّفَوِيُّ):
- অর্থ: ঠোঁটের মাধ্যমে স্পষ্ট করে পড়া।
- নিয়ম: মীম সাকিনের (مْ) পর ب (বা) এবং م (মীম)—এই দুটি হরফ বাদে আরবি বর্ণমালার বাকি ২৬টি হরফের যেকোনো একটি আসলে, মীম সাকিনকে গুন্নাহ ছাড়া স্বাভাবিকভাবে স্পষ্ট করে পড়তে হয়। (বিশেষ দ্রষ্টব্য: মীম সাকিনের পর و (ওয়াও) এবং ف (ফা) আসলে খুব সতর্কতার সাথে স্পষ্ট করে পড়তে হয়, যেন সেখানে ভুলবশত ইখফা বা গুন্নাহ না হয়ে যায়)।
- উদাহরণ:
- أَلَمْ نَشْرَحْ (আলাম নাশরাহ)। এখানে مْ এর পর ن এসেছে, তাই গুন্নাহ হবে না।
- هُمْ فِيهَا (হুম ফীহা)। এখানে مْ এর পর ف এসেছে, তাই খুব স্পষ্টভাবে গুন্নাহ ছাড়া পড়তে হবে।
- أَلَمْ تَرَ (আলাম তারা)। مْ এর পর ت এসেছে।
১৬। 'مد' (মাদ্দ) কাকে বলে? مد فرعى কত প্রকার ও কী কী? লেখ।
مَدّ (মদ) কাকে বলে:
আভিধানিক অর্থ: আরবি 'مَدّ' (মদ) শব্দের অর্থ হলো— দীর্ঘ করা, টেনে পড়া, প্রলম্বিত করা বা বৃদ্ধি করা।
পারিভাষিক অর্থ: তাজবিদ শাস্ত্রের পরিভাষায়, মদের হরফ বা লীনের হরফের উচ্চারণকে নিয়ম অনুযায়ী স্বাভাবিকের চেয়ে দীর্ঘ করে বা টেনে পড়াকে 'মদ' বলা হয়।
মদের হরফ ৩টি:
- ১. জবরের বাম পাশে খালি আলিফ ( َا )। যেমন: بَا (বা-)।
- ২. পেশের বাম পাশে জযমওয়ালা ওয়াও ( ُوۡ )। যেমন: بُوۡ (বু-)।
- ৩. যেরের বাম পাশে জযমওয়ালা ইয়া ( ِيۡ )। যেমন: بِيۡ (বী-)।
একশব্দে মদের ৩টি হরফের উদাহরণ: نُوْحِيْهَا (নূ-হী-হা-)।
মদের প্রকারভেদ:
মদ প্রধানত ২ প্রকার। যথা: ১. মদ্দে আসলী (মূল মদ) ও ২. মদ্দে ফরয়ী (শাখা মদ)।
مَدّ فَرْعِي (মদ্দে ফরয়ী) কাকে বলে:
'ফরয়ী' অর্থ শাখা-প্রশাখা। মদের হরফের পর যদি মদের কারণ তথা— হামজা (ء) অথবা সাকিন/তাশদীদ আসে, তবে তাকে স্বাভাবিক এক আলিফের চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়। একেই 'মদ্দে ফরয়ী' বা শাখা মদ বলা হয়।
মদ্দে ফরয়ী-এর প্রধান ৫টি প্রকার:
হামজা (ء)-এর কারণে মদ ২ প্রকার:
-
১. মদ্দে মুত্তাসিল (اَلْمَدُّ الْمُتَّصِلُ): মদের হরফের পর একই শব্দের মধ্যে হামজা (ء) আসলে তাকে মদ্দে মুত্তাসিল বলে। এটি ৩ বা ৪ আলিফ টেনে পড়া ওয়াজিব।
উদাহরণ: جَاءَ (জাআ), سِيْئَتْ (সীআত)। -
২. মদ্দে মুনফাসিল (اَلْمَدُّ الْمُنْفَصِلُ): মদের হরফের পর পৃথক বা পরবর্তী শব্দের শুরুতে হামজা (ء/ا) আসলে তাকে মদ্দে মুনফাসিল বলে। এটি ৩ আলিফ টেনে পড়া জায়েজ।
উদাহরণ: بِمَا أُنْزِلَ (বিমাউংযিলা), إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ (ইন্নাআ'তাইনা-কা)।
সাকিন বা তাশদীদের কারণে মদ ৩ প্রকার:
-
৩. মদ্দে লাজিম (اَلْمَدُّ اللَّازِمُ): মদের হরফের পর মূল বা স্থায়ী সাকিন অথবা তাশদীদ আসলে তাকে মদ্দে লাজিম বলে। এটি ৪ আলিফ পরিমাণ টেনে পড়া ওয়াজিব।
উদাহরণ: وَلَا الضَّالِّينَ (ওয়ালাদ দয়া~~~ল্লীন), آلْآنَ (আ~~~লআ-না)। -
৪. মদ্দে আরিজী (اَلْمَدُّ الْعَارِضُ): মদের হরফের পর ওয়াকফ বা থামার কারণে যদি অস্থায়ী সাকিন হয়, তবে তাকে মদ্দে আরিজী বলে। এটি ৩ আলিফ পরিমাণ টেনে পড়া উত্তম।
উদাহরণ: الرَّحِيمِ (আর-রহী~~~ম), الْعَالَمِينَ (আল-আলামী~~~ন)। -
৫. মদ্দে লীন (اَلْمَدُّ اللِّينُ): লীনের হরফের পর ওয়াকফ করার কারণে অস্থায়ী সাকিন হলে তাকে মদ্দে লীন বলে। এটি ১ থেকে ৩ আলিফ পরিমাণ টেনে পড়া যায়।
উদাহরণ: قُرَيْشٍ (কুরাই~~~শ), خَوْفٍ (খও~~~ফ)।
