দাখিল পরীক্ষার শিক্ষাক্রমের কাঠামো এবং ওএমআর (SIF) ফরম পূরণের সঠিক নিয়মাবলি
আসসালামু আলাইকুম। দাখিল পরীক্ষার্থী বন্ধুরা, আশা করি তোমাদের প্রস্তুতি ভালো চলছে। দাখিল পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য শুধুমাত্র পড়াশোনা করাই যথেষ্ট নয়, বরং পরীক্ষার সঠিক নম্বর বন্টন, শিক্ষাক্রমের কাঠামো এবং পরীক্ষার হলে উত্তরপত্রের তথ্য ফরম (SIF) বা ওএমআর শিট সঠিকভাবে পূরণ করা অত্যন্ত জরুরি।
আজকের পোস্টে আমরা বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষার সকল বিভাগের (সাধারণ, বিজ্ঞান, মুজাব্বিদ ও হিফযুল কুরআন) বিস্তারিত সিলেবাস ও শিক্ষাক্রমের কাঠামো আলোচনা করব। একই সাথে পরীক্ষার খাতায় পিন-আপ করা SIF (Student Information Form) কিভাবে নির্ভুলভাবে পূরণ করতে হবে তা বিস্তারিত বুঝিয়ে দেব।
বিশেষ সহায়তা
Special WhatsApp Study Group-এ যুক্ত হতে নিচের লিংকে ক্লিক করো।
১. দাখিল পরীক্ষার শিক্ষাক্রমের কাঠামো ও নম্বর বন্টন
দাখিল পরীক্ষায় মূলত ৪টি গ্রুপ বা বিভাগ রয়েছে। নিচে প্রতিটি বিভাগের আবশ্যিক ও ঐচ্ছিক বিষয় এবং বিষয়ের নম্বর বিন্যাস দেওয়া হলো:
ক. সাধারণ বিভাগ (General Division)
সাধারণ বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ১৪০০ নম্বরের সিলেবাস রয়েছে। এর মধ্যে বোর্ড পরীক্ষা ১২৫০ নম্বর এবং ধারাবাহিক মূল্যায়ন ১৫০ নম্বর।
| ক্রমিক নং | বিষয়ের নাম | মোট নম্বর |
|---|---|---|
| ১ | কুরআন মাজীদ ও তাজভীদ | ১০০ |
| ২ | হাদীস শরীফ | ১০০ |
| ৩ | আরবি প্রথম পত্র | ১০০ |
| ৪ | আরবি দ্বিতীয় পত্র | ১০০ |
| ৫ | আকাইদ ও ফিকহ | ১০০ |
| ৬ | বাংলা প্রথম পত্র | ১০০ |
| ৭ | বাংলা দ্বিতীয় পত্র | ১০০ |
| ৮ | ইংরেজি প্রথম পত্র | ১০০ |
| ৯ | ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র | ১০০ |
| ১০ | গণিত | ১০০ |
| ১১ | ইসলামের ইতিহাস | ১০০ |
| ১২ | তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) | ৫০ |
| ১৩ | শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান ও খেলাধুলা (ধারাবাহিক মূল্যায়ন) | ১০০ |
| ১৪ | ক্যারিয়ার শিক্ষা (ধারাবাহিক মূল্যায়ন) | ৫০ |
| আবশ্যিক বিষয় মোট নম্বর = | ১৩০০ | |
| ১৫ | অতিরিক্ত বিষয়: ঐচ্ছিক (যেকোনো ১টি): (পৌরনীতি ও নাগরিকতা / মানতিক / কৃষিশিক্ষা / গার্হস্থ্য বিজ্ঞান / উর্দু / ফারসি / বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়) | ১০০ |
| সর্বমোট নম্বর = | ১৪০০ | |
*বিশেষ দ্রষ্টব্য: বোর্ড পরীক্ষা ১২৫০ নম্বর, ধারাবাহিক মূল্যায়ন ১৫০ নম্বর। সর্বমোট = ১৪০০ নম্বর।
খ. বিজ্ঞান বিভাগ (Science Division)
বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ১৪০০ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বিজ্ঞান বিভাগে কোনো ধারাবাহিক মূল্যায়ন থাকবে না (সম্পূর্ণ ১৪০০ নম্বরই লিখিত/ব্যবহারিক বোর্ড পরীক্ষা)।
| ক্রমিক নং | বিষয়ের নাম | মোট নম্বর |
|---|---|---|
| ১ | কুরআন মাজীদ ও তাজভীদ | ১০০ |
| ২ | হাদীস শরীফ | ১০০ |
| ৩ | আরби প্রথম পত্র | ১০০ |
| ৪ | আরби দ্বিতীয় পত্র | ১০০ |
| ৫ | আকাইদ ও ফিকহ | ১০০ |
| ৬ | বাংলা প্রথম পত্র | ১০০ |
| ৭ | বাংলা দ্বিতীয় পত্র | ১০০ |
| ৮ | ইংরেজি প্রথম পত্র | ১০০ |
| ৯ | ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র | ১০০ |
| ১০ | গণিত | ১০০ |
| ১১ | পদার্থবিজ্ঞান | ১০০ |
| ১২ | রসায়ন | ১০০ |
| ১৩ | নৈর্বাচনিক বিষয় (যেকোনো ১টি): (উচ্চতর গণিত / জীববিজ্ঞান) | ১০০ |
| আবশ্যিক বিষয় মোট নম্বর = | ১৩০০ | |
| ১৪ | অতিরিক্ত বিষয়: ঐচ্ছিক (যেকোনো ১টি): (কৃষিশিক্ষা / উচ্চতর গণিত / জীববিজ্ঞান / বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়) | ১০০ |
| সর্বমোট নম্বর = | ১৪০০ | |
*বিশেষ দ্রষ্টব্য: বিজ্ঞান বিভাগে কোনো ধারাবাহিক মূল্যায়ন থাকবে না। সর্বমোট ১৪০০ নম্বরই বোর্ড পরীক্ষা।
গ. মুজাব্বিদ বিভাগ (Mujabbid Division)
মুজাব্বিদ বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ১৪০০ নম্বরের পরীক্ষা রয়েছে। বোর্ড পরীক্ষা ১৩৫০ নম্বর এবং ধারাবাহিক মূল্যায়ন ৫০ নম্বর।
| ক্রমিক নং | বিষয়ের নাম | মোট নম্বর |
|---|---|---|
| ১ | কুরআন মাজীদ ও তাজভীদ | ১০০ |
| ২ | হাদীস শরীফ | ১০০ |
| ৩ | আরби প্রথম পত্র | ১০০ |
| ৪ | আরби দ্বিতীয় পত্র | ১০০ |
| ৫ | আকাইদ ও ফিকহ | ১০০ |
| ৬ | বাংলা প্রথম পত্র | ১০০ |
| ৭ | বাংলা দ্বিতীয় পত্র | ১০০ |
| ৮ | ইংরেজি প্রথম পত্র | ১০০ |
| ৯ | ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র | ১০০ |
| ১০ | গণিত | ১০০ |
| ১১ | তাজভীদ নসর ও নজম | ১০০ |
| ১২ | কিরাআত তারতীল ও হাদর (মৌখিক) | ১০০ |
| ১৩ | তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) | ৫০ |
| ১৪ | ক্যারিয়ার শিক্ষা (ধারাবাহিক মূল্যায়ন) | ৫০ |
| আবশ্যিক বিষয় মোট নম্বর = | ১৩০০ | |
| ১৫ | অতিরিক্ত বিষয়: ঐচ্ছিক (যেকোনো ১টি): (ইসলামের ইতিহাস / মানতিক / কৃষিশিক্ষা / গার্হস্থ্য বিজ্ঞান / উর্দু / ফারসি / বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়) | ১০০ |
| সর্বমোট নম্বর = | ১৪০০ | |
*বিশেষ দ্রষ্টব্য: বোর্ড পরীক্ষা ১৩৫০ নম্বর, ধারাবাহিক মূল্যায়ন ৫০ নম্বর। সর্বমোট = ১৪০০ নম্বর।
ঘ. হিফযুল কুরআন বিভাগ (Hifzul Quran Division)
হিফযুল কুরআন বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্যও মোট ১৪০০ নম্বরের পরীক্ষা রয়েছে। বোর্ড পরীক্ষা ১৩৫০ নম্বর এবং ধারাবাহিক মূল্যায়ন ৫০ নম্বর।
| ক্রমিক নং | বিষয়ের নাম | মোট নম্বর |
|---|---|---|
| ১ | কুরআন মাজীদ ও তাজভীদ | ১০০ |
| ২ | হাদীস শরীফ | ১০০ |
| ৩ | আরби প্রথম পত্র | ১০০ |
| ৪ | আরби দ্বিতীয় পত্র | ১০০ |
| ৫ | আকাইদ ও ফিকহ | ১০০ |
| ৬ | বাংলা প্রথম পত্র | ১০০ |
| ৭ | বাংলা দ্বিতীয় পত্র | ১০০ |
| ৮ | ইংরেজি প্রথম পত্র | ১০০ |
| ৯ | ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র | ১০০ |
| ১০ | গণিত | ১০০ |
| ১১ | তাজভীদ (লিখিত ৭৫, মৌখিক ২৫) | ১০০ |
| ১২ | হিফযুল কুরআন দাওর (মৌখিক) | ১০০ |
| ১৩ | তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) | ৫০ |
| ১৪ | ক্যারিয়ার শিক্ষা (ধারাবাহিক মূল্যায়ন) | ৫০ |
| আবশ্যিক বিষয় মোট নম্বর = | ১৩০০ | |
| ১৫ | অতিরিক্ত বিষয়: ঐচ্ছিক (যেকোনো ১টি): (ইসলামের ইতিহাস / মানতিক / কৃষিশিক্ষা / গার্হস্থ্য বিজ্ঞান / উর্দু / ফারসি / বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়) | ১০০ |
| সর্বমোট নম্বর = | ১৪০০ | |
*বিশেষ দ্রষ্টব্য: বোর্ড পরীক্ষা ১৩৫০ নম্বর, ধারাবাহিক মূল্যায়ন ৫০ নম্বর। সর্বমোট = ১৪০০ নম্বর।
২. ওএমআর (SIF) ফরম কি এবং কেন এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?
দাখিল পরীক্ষার হলে ওএমআর খাতার কভার পৃষ্ঠার ওপর 'পিন-আপ' করা একটি বিশেষ তথ্য ফরম পূরণ করতে হয়, যাকে SIF (Student Information Form) বলা হয়। ৩টি ভাগে বিভক্ত এই ফরমটি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে পূরণ করা উচিত।
কারণ, এই ফরমটি মানুষের পরিবর্তে সরাসরি ওএমআর (OMR) স্ক্যানার মেশিন দিয়ে রিড করা হয়। কম্পিউটার শুধু ফরমের ভরাট করা বৃত্তগুলোই রিড করতে পারে। সামান্যতম ভুল বা কাটাকাটি হলে কম্পিউটার সেই খাতা রিড করতে পারে না, যার কারণে পরীক্ষার্থীর রেজাল্ট স্থগিত বা সম্পূর্ণ বাতিল হয়ে যেতে পারে।
৩. ধাপে ধাপে SIF ফরম পূরণ করার সঠিক নিয়ম
নিচে ফরমের প্রথম অংশ (পরীক্ষার্থীর অংশ) নির্ভুলভাবে পূরণ করার নিয়ম দেওয়া হলো:
- পরীক্ষা শ্রেণী এবং বছর পূরণ: ফরমের বাম দিকের কলামে "দাখিল" বৃত্তটি কালো কালির বলপয়েন্ট কলম দিয়ে ভরাট করতে হবে। এর পাশে "দাখিল/আলিম/ফাজিল/কামিল পরীক্ষা" লেখার পর খালি বক্সে পরীক্ষার বছর "২০২৭" সংখ্যায় লিখতে হবে।
- রোল নম্বর (Roll Number) পূরণ: ওপরের চারকোণা বক্সগুলোতে নিজের রোল নম্বর স্পষ্টভাবে লিখবে (যেমন: 079523)। এরপর প্রতিটি সংখ্যার নিচে থাকা নির্দিষ্ট বৃত্তটি খুঁজে বের করে কালো কালি দিয়ে সম্পূর্ণ ভরাট করতে হবে। যেমন: প্রথম বক্সে '0' থাকলে নিচের কলামের '0' বৃত্তটি ভরাট করবে।
- রেজিস্ট্রেশন নম্বর (Registration Number) পূরণ: রোল নম্বরের মতোই রেজিস্ট্রেশন নম্বরের বক্সগুলোতে নিজের রেজিস্ট্রেশন নম্বর (যেমন: 021843) লিখতে হবে এবং তার নিচে থাকা সঠিক বৃত্তগুলো ভরাট করতে হবে।
- বিষয় কোড (Subject Code) পূরণ: যে বিষয়ের পরীক্ষা চলছে, সেই বিষয়ের ৩ সংখ্যার কোডটি (যেমন: ১০২) লিখে নিচের সঠিক বৃত্তগুলো ভরাট করতে হবে।
- অতিরিক্ত খাতার ক্রমিক নম্বর (Extra Sheet Serial Number) পূরণ: পরীক্ষার হলে যদি কোনো অতিরিক্ত উত্তরপত্র (লুজ শিট) নেওয়া হয়, তবে তার ওপরে থাকা একটি ক্রমিক নম্বর SIF ফরমে নির্দিষ্ট বক্সে লিখে বৃত্ত ভরাট করতে হবে। যেমন: ১ম খাতার নম্বর ও বৃত্ত পূরণ, ২য় ও ৩য় লুজ শিটের নম্বর ক্রমান্বয়ে ভরাট করবে।
পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীদের জন্য জরুরি সতর্কতা
- কালো বলপয়েন্ট কলম: পুরো ফরমটি অবশ্যই কালো বলপয়েন্ট কলম দিয়ে পূরণ করতে হবে। কোনো জেলের পেন, লাল/সবুজ কলম বা পেন্সিল ব্যবহার করা যাবে না।
- ফরমের দ্বিতীয় ও তৃতীয়াংশে হাত না দেওয়া: SIF ফরমটির ২য় অংশ (পরীক্ষক/প্রধান পরীক্ষকের অংশ) এবং ৩য় অংশে (খাতার অংশ) পরীক্ষার্থী কোনোভাবেই কোনো কিছু লিখবে না বা কলম দিয়ে স্পর্শ করবে না।
- কাটাকাটি বা ফ্লুইড ব্যবহার নিষিদ্ধ: বৃত্ত একবার ভরাট হয়ে গেলে তাতে কোনো কাটাকাটি বা ফ্লুইড ব্যবহার করা যাবে না। দুর্ভাগ্যবশত কোনো ভুল হলে নিজে সংশোধন না করে অবিলম্বে কক্ষ পরিদর্শক শিক্ষককে জানাতে হবে।
- পরিদর্শকের পরামর্শ নেওয়া: ফরম পূরণ করার আগে কোনো কিছু বুঝতে সমস্যা হলে অবশ্যই কক্ষ পরিদর্শক (Invigilator) শিক্ষকের সহযোগিতা নিয়ে পূরণ করতে হবে।
দাখিল ২০২৭ পরীক্ষার্থী বন্ধুদের প্রস্তুতি এবং পরীক্ষা চমৎকার হোক, এই কামনাই করি। পোস্টটি ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে অবশ্যই শেয়ার করবে!
