Alim 2026 Bangla 2nd Paper Question Solution PDF - All Board
প্রিয় আলিম পরীক্ষার্থীবৃন্দ, আশা করি আপনাদের পরীক্ষা ভালো হয়েছে। আপনারা যারা আলিম ২০২৬ বাংলা ২য় পত্র পরীক্ষার প্রশ্ন এবং এর শতভাগ নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য সমাধান খুঁজছেন, তাদের জন্য আজকের এই পোস্টটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে আমরা আলিম পরীক্ষা ২০২৬-এর বাংলা ২য় পত্র পরীক্ষার প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক এবং বিস্তারিত সমাধান শেয়ার করেছি। একই সাথে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও অনুশীলনের সুবিধার্থে এই প্রশ্ন সমাধানের একটি উচ্চমানের পিডিএফ (PDF) ফাইলও প্রদান করা হয়েছে।
একটি বিশেষ তথ্য: সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যার কারণে আজ চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি এবং কক্সবাজার জেলায় আলিম পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। তবে এই ৩টি বন্যা কবলিত জেলা ছাড়া সমগ্র বাংলাদেশের অন্যান্য সকল জেলার শিক্ষার্থীরা আজকের এই অভিন্ন প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। স্থগিত হওয়া জেলাগুলোর পরীক্ষার নতুন সময়সূচি পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেবেন।
বাংলা ২য় পত্রের ব্যাকরণ (Grammar Test) এবং নির্মিতি (Composition) উভয় অংশেরই নিখুঁত সমাধান নিচে সুন্দরভাবে সাজিয়ে দেওয়া হলো যাতে আপনারা খুব সহজেই আপনাদের উত্তরের সাথে মিলিয়ে নিতে পারেন এবং পরীক্ষার ফলাফল নিশ্চিত করতে পারেন।
বইয়ের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
- বইয়ের নাম: Alim 2026 Bangla 2nd Paper Question Solution
- উৎস/সহযোগিতায়:talimit.net
- ফাইল ফরম্যাট: PDF (হাই কোয়ালিটি)
- মূল বিষয়বস্তু: আলিম ২০২৬ বাংলা ২য় পত্র পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও সম্পূর্ণ নির্ভুল সমাধান।
এই সমাধান কাদের জন্য দরকার?
- আলিম ২০২৬ সালের পরীক্ষার্থীদের জন্য যারা তাদের বাংলা ২য় পত্র পরীক্ষার উত্তর মিলিয়ে নিতে চান।
- চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি ও কক্সবাজার জেলার পরীক্ষার্থীবৃন্দ যাদের পরীক্ষা বন্যার কারণে স্থগিত হয়েছে এবং পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত হবে।
- আগামী বছরগুলোতে যারা আলিম পরীক্ষা দেবেন এবং বিগত বছরের বোর্ড প্রশ্ন প্র্যাকটিস করতে চান।
- মাদ্রাসার বাংলা বিষয়ের শিক্ষক ও শিক্ষিকাগণ যারা শিক্ষার্থীদের অনুশীলনের জন্য নির্ভরযোগ্য প্রশ্ন ব্যাংক খুঁজছেন।
পিডিএফ-এর মূল বিষয়বস্তু ও সূচিপত্র
- Part A: ব্যাকরণ (Marks 30)
- ১ নং প্রশ্ন: 'ব'-ফলা উচ্চারণের নিয়ম ও শুদ্ধ উচ্চারণ সমাধান
- ২ নং প্রশ্ন: আধুনিক বাংলা বানানের নিয়ম ও বানান শুদ্ধকরণ সমাধান
- ৩ নং প্রশ্ন: যোজক ও ব্যাকরণিক শব্দশ্রেণি নির্দেশ সমাধান
- ৪ নং প্রশ্ন: ব্যাসবাক্যসহ সমাস ও প্রকৃতি-প্রত্যয় নির্ণয় সমাধান
- ৫ নং প্রশ্ন: সার্থক বাক্যের গুণাবলি ও বাক্যান্তর সমাধান
- ৬ নং প্রশ্ন: বাক্য শুদ্ধকরণ ও অনুচ্ছেদের অপপ্রয়োগ সংশোধন
- Part B: নির্মিতি (Marks 70)
- ৭ নং প্রশ্ন: পারিভাষিক শব্দ ও বাংলা অনুবাদ সমাধান
- ৮ নং প্রশ্ন: অভিজ্ঞতা বর্ণনা ও সংবাদ প্রতিবেদন লিখন
- ৯ নং প্রশ্ন: ই-মেইল লিখন ও সংবাদপত্র প্রকাশের উপযোগী পত্র
- ১০ নং প্রশ্ন: সারাংশ লিখন ও ভাব-সম্প্রসারণ সমাধান
- ১১ নং প্রশ্ন: সংলাপ লিখন ও খুদে গল্প রচনা
- ১২ নং প্রশ্ন: প্রবন্ধ রচনা (নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ / তথ্যপ্রযুক্তি)
কেন এই PDF সমাধানটি আপনার পড়া উচিত?
- শতভাগ নির্ভুল উত্তর: অভিজ্ঞ মাদ্রাসার বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকদের দ্বারা প্রতিটি প্রশ্নের শতভাগ সঠিক সমাধান।
- বন্যা কবলিত শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক: চট্টগ্রাম বিভাগের ৩টি জেলার স্থগিত পরীক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি অসাধারণ প্র্যাকটিস গাইড।
- লিখিত অংশের মানসম্মত নমুনা: পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার উপযোগী দরখাস্ত, প্রতিবেদন, সংলাপ ও প্রবন্ধের আদর্শ ড্রাফট।
১. উচ্চারণ নিয়ম / শুদ্ধ উচ্চারণ
(ক) বাংলা ভাষায় 'ব'-ফলা উচ্চারণের পাঁচটি নিয়ম উদাহরণসহ লেখ।
উত্তর:
বাংলা ভাষায় ব-ফলা উচ্চারণের প্রধান পাঁচটি নিয়ম নিচে দেওয়া হলো:
১. শব্দের শুরুতে: শব্দের আদি বা শুরুর বর্ণে ব-ফলা যুক্ত হলে ব-এর উচ্চারণ হয় না, তবে কিছুটা জোর পড়ে। যেমন: ত্বক (তক্), স্বাধিকার (সাধিকার্)।
২. শব্দের মধ্যে ও শেষে: শব্দের মধ্যে বা শেষে কোনো বর্ণে ব-ফলা যুক্ত হলে সেই বর্ণটির উচ্চারণ দ্বিত্ব (দুইবার) হয়। যেমন: বিশ্ব (বিশ্শো), পক্ব (পক্কো)।
৩. সন্ধিজাত শব্দে: সন্ধিজাত বা উপসর্গজাত শব্দে ক, গ, চ, জ, ট, ড, ত, দ ইত্যাদি বর্ণের সাথে ব-ফলা যুক্ত হলে ব-এর উচ্চারণ অবিকৃত থাকে। যেমন: দিগ্বিজয় (দিগ্বিজয়), তদ্বিধ (তদ্বিধ)।
৪. 'ম' ও 'ব' এর সাথে ব-ফলা: ম ও ব বর্ণের সাথে ব-ফলা যুক্ত হলে ব-এর উচ্চারণ স্পষ্ট বা অবিকৃত থাকে। যেমন: লম্ব (লম্বো), আব্বাজান (আব্বাজান্)।
৫. উষ্মবর্ণের সাথে: শব্দের শেষে উষ্মবর্ণের (শ, ষ, স) সাথে ব-ফলা যুক্ত হলে ব-এর উচ্চারণ লোপ পায় এবং উষ্মবর্ণটি ও-কারান্ত দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়। যেমন: শাশ্বত (শাশ্শতো), বিশ্বাস (বিশ্শাশ্)।
অথবা, (খ) যে কোনো পাঁচটি শব্দের শুদ্ধ উচ্চারণ লেখ:
অনুসর্গ, আবৃত্তি, গ্রহণ, ব্যতীত, ধার্য, মন্তব্য, শাশ্বত, স্মরণ।
উত্তর:
১. অনুসর্গ → অনুশর্গো
২. আবৃত্তি → আবৃত্তো
৩. গ্রহণ → গ্রোহোন্
৪. ব্যতীত → ব্বেতিত্ / ব্যেতীত
৫. ধার্য → ধার্জো
৬. মন্তব্য → মন্তব্যো (মন্তব্বো)
৭. শাশ্বত → শাশ্শতো
৮. স্মরণ → শঁরোন্
২. বাংলা বানান নিয়ম / বানান শুদ্ধকরণ
(ক) আধুনিক বাংলা বানানের পাঁচটি নিয়ম উদাহরণসহ লেখ।
উত্তর:
বাংলা একাডেমী প্রণীত প্রমিত বাংলা বানানের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম নিচে দেওয়া হলো:
১. অতৎসম শব্দে ই/উ কার: সকল অতৎসম (তদ্ভব, দেশি, বিদেশি, মিশ্র) শব্দে কেবল ই-কার (ি) এবং উ-কার (ু) ব্যবহৃত হবে। যেমন: শাড়ি, গাড়ি, পুজো, মুলো, টুপি।
২. তৎসম শব্দে ক্ষুণ্নতা: তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের বানান ব্যাকরণগত নিয়ম অনুযায়ী অপরিবর্তিত থাকবে। যেমন: চন্দ্র, সূর্য, নক্ষত্র।
৩. রেফ-এর পর দ্বিত্ব নয়: শব্দের মধ্যে রেফ (র্) থাকলে এর পরবর্তী ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব উচ্চারণ বা দ্বিত্ব লিখন হবে না। যেমন: ধর্ম (ধর্ম্ম নয়), কার্য (কার্য্য নয়), অর্জন (অর্জ্জন নয়)।
৪. বিদেশি শব্দে 'ষ' নয়: বিদেশি শব্দের বানানে কখনোই মূর্ধন্য-ষ ব্যবহৃত হবে না। যেমন: বাস (bus), স্টেশন (station), জিনিস।
৫. অঞ্জলি-যুক্ত শব্দে ই-কার: 'অঞ্জলি' যুক্ত সকল শব্দে সর্বদা ই-কার (ি) হবে। যেমন: শ্রদ্ধাঞ্জলি, গীতাঞ্জলি, পুষ্পাঞ্জলি।
অথবা, (খ) যে কোনো পাঁচটি শব্দের বানান শুদ্ধ করে লেখ:
ইতিপূর্বে, সম্বর্ধনা, পিপিলিকা, অতিথী, সন্ন্যাসি, ঐক্যতান, অন্তপুর, মূহুর্ত।
উত্তর:
১. ইতিপূর্বে → ইতঃপূর্বে (বা ইতিমধ্যে)
২. সম্বর্ধনা → সংবর্ধনা
৩. পিপিলিকা → পিপীলিকা
৪. অতিথী → অতিথি
৫. সন্ন্যাসি → সন্ন্যাসী
৬. ঐক্যতান → ঐকতান
৭. অন্তপুর → অন্তঃপুর
৮. মূহুর্ত → মুহূর্ত
৩. যোজক / ব্যাকরণিক শব্দশ্রেণি
(ক) যোজক কাকে বলে? যোজক কত প্রকার ও কী কী? উদাহরণসহ সংজ্ঞা দাও।
উত্তর:
যোজক: যে শব্দ একটি বাক্যের সাথে অন্য একটি বাক্যের বা বাক্যের একটি পদের সাথে অন্য পদের সংযোগ, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে যোজক বলে। যোজক সাধারণত ৫ প্রকার। যথা:
১. সাধারণ যোজক: এ ধরনের যোজক পদ বা বাক্যকে যুক্ত করে। যেমন: 'ও', 'এবং', 'আর'। (উদাহরণ: রহিম ও করিম বাজারে গেল।)
২. বৈকল্পিক যোজক: একাধিক বিকল্পের মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়। যেমন: 'অথবা', 'না-হয়', 'কিংবা'। (উদাহরণ: তুমি আসবে না-হয় আমি যাব।)
৩. বিরোধমূলক যোজক: দুটি বাক্যের মধ্যে সংযোগ ঘটিয়ে দ্বিতীয় বাক্যের সাহায্যে প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সংশোধন বা বিরোধ প্রকাশ করে। যেমন: 'কিন্তু', 'তবু', 'অথচ'। (উদাহরণ: সে দরিদ্র কিন্তু সৎ।)
৪. কারণবাচক যোজক: একটি বাক্যকে অন্য বাক্যের কারণ হিসেবে যুক্ত করে। যেমন: 'কারণ', 'যেহেতু', 'তাই'। (উদাহরণ: আজ স্কুলে যাব না, কারণ আমার শরীর ভালো নেই।)
৫. সাপেক্ষ যোজক: যখন একটি যোজক অন্য একটি যোজকের পরিপূরক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেমন: 'যদি...তবে', 'যেহেতু...সেহেতু'। (উদাহরণ: যদি বৃষ্টি হয়, তবে খেলা হবে না।)
অথবা, (খ) নিম্নরেখ যে কোনো পাঁচটি শব্দের ব্যাকরণিক শব্দশ্রেণি নির্দেশ কর:
- (i) ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী।
- (ii) বেশ, তুমি যা বলবে তাই হবে।
- (iii) তারা পরسبর আত্মীয়।
- (iv) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দৃশ্য কতই না সুন্দর।
- (v) পারিব না এ কথাটি বলিও না আর।
- (vi) ধীরে ধীরে বায়ু বয়।
- (vii) দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?
- (viii) এত বৃষ্টি হলো তবু গরম কমলো না।
উত্তর:
(i) ঢাকা → বিশেষ্য (নামবিশেষ্য)
(ii) বেশ → আবেগ শব্দ
(iii) পরস্পর → সর্বনাম (ব্যতিহারিক সর্বনাম)
(iv) প্রাকৃতিক → বিশেষণ
(v) পারিব না → ক্রিয়া পদ
(vi) ধীরে ধীরে → ক্রিয়া-বিশেষণ
(vii) বিনা → অনুসর্গ
(viii) তবু → যোজক (বিরোধমূলক যোজক)
৪. সমাস / প্রকৃতি ও প্রত্যয়
(ক) ব্যাসবাক্যসহ সমাস নির্ণয় কর (যে কোনো পাঁচটি):
লোকান্তর, সপ্তাহ, দম্পতি, কবিগুরু, পলান্ন, হজযাত্রা, ছাগদুগ্ধ, আশীবিষ।
উত্তর:
১. লোকান্তর → অন্য লোক (নিত্য সমাস)
২. সপ্তাহ → সপ্ত অহের (দিনের) সমাহার (দ্বিগু সমাস)
৩. দম্পতি → জায়া ও পতি (দ্বন্দ্ব সমাস)
৪. কবিগুরু → কবিদের গুরু (ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস)
৫. পলান্ন → পল (মাংস) মিশ্রিত অন্ন (মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস)
৬. হজযাত্রা → হজের নিমিত্তে যাত্রা (চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস)
৭. ছাগদুগ্ধ → ছাগীর দুগ্ধ (ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস)
৮. আশীবিষ → আশীতে (দাঁতে) বিষ যার (বহুব্রীহি সমাস)
অথবা, (খ) প্রত্যয়ের নামসহ প্রকৃতি ও প্রত্যয় নির্ণয় কর (যে কোনো পাঁচটি):
উক্তি, বাঙালি, পার্থিব, দর্শনীয়, মিতালি, খ্যাতি, ঘাতক, মাধুর্য।
উত্তর:
১. উক্তি → বচ্ + ক্তি (তি) [তৎসম কৃৎ প্রত্যয়]
২. বাঙালি → বাংলা + আলী / আই [বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়]
৩. পার্থিব → পৃথিবী + অ (ষ্ণ) [তৎসম তদ্ধিত প্রত্যয়]
৪. দর্শনীয় → দৃশ্ + অনীয় [তৎসম কৃৎ প্রত্যয়]
৫. মিতালি → মিতা + আলী [বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়]
৬. খ্যাতি → খন্ / খ্যা + ক্তি (তি) [তৎসম কৃৎ প্রত্যয়]
৭. ঘাতক → হন্ + অক (ণক) [তৎসম কৃৎ প্রত্যয়]
৮. মাধুর্য → মধুর + য (ষ্যঞ) [তৎসম তদ্ধিত প্রত্যয়]
৫. বাক্য রূপান্তর / সার্থক বাক্য গুণাবলি
(ক) বাক্য কাকে বলে? একটি সার্থক বাক্যের গুণাবলি আলোচনা কর।
উত্তর:
বাক্য: যে সুবিন্যস্ত পদসমষ্টি দ্বারা বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণ ও স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়, তাকে বাক্য বলে।
একটি সার্থক বাক্য গঠনের জন্য ৩টি গুণ বা বৈশিষ্ট্য থাকা আবশ্যক। যথা:
১. আকাঙ্ক্ষা: বাক্যের অর্থ পুরোপুরি বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে স্বাভাবিক ইচ্ছা বা কৌতূহল, তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে। যেমন: "রহিম নিয়মিত পড়াশোনা..." বললে বাক্যটি সম্পূর্ণ হয় না। যখন বলা হবে "রহিম নিয়মিত পড়াশোনা করে", তখন আকাঙ্ক্ষা গুণের প্রকাশ ঘটে।
২. যোগ্যতা: বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের মধ্যে অর্থগত ও ভাবগত যে সংগতি বা সামঞ্জস্য থাকে, তাকে যোগ্যতা বলে। যেমন: "গরু আকাশে ওড়ে" বললে বাক্যটির যোগ্যতা থাকবে না, কারণ গরু ওড়ার স্বাভাবিক যোগ্যতা রাখে না। সঠিক হবে "পাখি আকাশে ওড়ে"।
৩. আসত্তি: বাক্যের অর্থকে পরিষ্কারভাবে প্রকাশের জন্য পদগুলোকে সঠিক ব্যাকরণগত শৃঙ্খলা অনুযায়ী সাজানোর নাম আসত্তি। যেমন: "খায় ভাত রহিম" না লিখে "রহিম ভাত খায়" লিখলে আসত্তি গুণ বজায় থাকে।
অথবা, (খ) নির্দেশনা অনুসারে বাক্যান্তর কর: (যে কোনো পাঁচটি):
- (i) মিথ্যাবাদীকে কেউ পছন্দ করে না। (অস্তিবাচক)
- (ii) মানব সেবাই শ্রেষ্ঠ ধর্ম। (নেতিবাচক)
- (iii) যিনি জ্ঞানী, তিনিই সত্যিকারের ধনী। (সরল)
- (iv) দেশ প্রেমিকরা দেশকে ভালোবাসে। (জটিল)
- (v) গুণবান ব্যক্তি বিনয়ী হয়। (যৌগিক)
- (vi) ফুল সকলেই ভালোবাসে। (প্রশ্নবাচক)
- (vii) কঠিন সময়েও সত্যে অবিচল থাকা উচিত। (অনুজ্ঞাসূচক)
- (viii) দৃশ্যটি সুন্দর। (বিস্ময়সূচক)
উত্তর:
(i) মিথ্যাবাদীকে সবাই অপছন্দ করে।
(ii) মানব সেবার চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো ধর্ম নেই।
(iii) জ্ঞানী ব্যক্তিই সত্যিকারের ধনী।
(iv) যারা দেশপ্রেমিক, তারা দেশকে ভালোবাসে।
(v) ব্যক্তি গুণবান এবং তিনি বিনয়ী হন।
(vi) ফুল কে না ভালোবাসে?
(vii) কঠিন সময়েও সত্যে অবিচল থাকো।
(viii) বাঃ! দৃশ্যটি কী সুন্দর!
৬. বাক্য শুদ্ধকরণ / অপপ্রয়োগ সংশোধন
(ক) যে কোনো পাঁচটি বাক্য শুদ্ধ করে লেখ:
- (i) তুমি সম্পূর্ণ নির্দোষী নও।
- (ii) আসছে আগামীকাল মাদ্রাসা বন্ধ থাকবে।
- (iii) দৈন্যতা সব সময় প্রশংসনীয় নয়।
- (iv) দিনে দিনে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে।
- (v) এক পৌষে শীত যায় না।
- (vi) চিন্তা করিয়া দেখলাম, তোমার কথাই ঠিক।
- (vii) আইনের বিধি লঙ্ঘন হয়েছে।
- (viii) উপরোক্ত বাক্যটি শুদ্ধ নয়।
উত্তর:
(i) তুমি সম্পূর্ণ নির্দোষ নও।
(ii) আগামীকাল মাদ্রাসা বন্ধ থাকবে।
(iii) দীনতা / দৈন্য সব সময় প্রশংসনীয় নয়।
(iv) দিনে দিনে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।
(v) এক মাঘে শীত যায় না।
(vi) চিন্তা করে দেখলাম, তোমার কথাই ঠিক।
(vii) আইনের বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে।
(viii) উপর্যুক্ত / উপরিউক্ত বাক্যটি শুদ্ধ নয়।
অথবা, (খ) নিচের অনুচ্ছেদের অপপ্রয়োগগুলো শুদ্ধ করে লেখ:
"ছেলেটি ভয়անակ মেধাবী ও বিনয়ী। তার মেধা পরিদর্শন করে সবাই মুগ্ধ। সকল শিক্ষকবৃন্দ মনে করেন, আগামী ভবিষ্যতে সে অসাধারণ সাফল্য বয়ে আনবে যা ইতিপূর্বে এ প্রতিষ্ঠানের কোন শিক্ষার্থীর পক্ষে সম্ভব হয়নি।"
উত্তর:
শুদ্ধ অনুচ্ছেদ: "ছেলেটি অত্যন্ত মেধাবী ও বিনয়ী। তার মেধা দেখে সবাই মুগ্ধ। শিক্ষকবৃন্দ মনে করেন, ভবিষ্যতে সে অসাধারণ সাফল্য বয়ে আনবে যা ইতিপূর্বে এ প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীর পক্ষে সম্ভব হয়নি।"
৭. পরিভাষা / অনুবাদ
(ক) যে কোনো দশটি শব্দের পারিভাষিক রূপ লেখ:
Beverage, Intellectual, Skill, Neutral, Agent, Deposit, Oath, Ability, Campus, Expert, Goods, Hood, Claim, Data, Veterinary.
উত্তর:
১. Beverage → পানীয়
২. Intellectual → বুদ্ধিজীবী / বুদ্ধিভিত্তিক
৩. Skill → দক্ষতা
৪. Neutral → নিরপেক্ষ
৫. Agent → প্রতিনিধি / কারক
৬. Deposit → আমানত / জমা
৭. Oath → শপথ
৮. Ability → যোগ্যতা / সামর্থ্য
৯. Campus → বিদ্যায়তন / প্রাঙ্গণ
১০. Expert → বিশেষজ্ঞ
১১. Goods → পণ্য / মালপত্র
১২. Hood → ফণা (সাপের) / ঢাকনা
১৩. Claim → দাবি
১৪. Data → উপাত্ত / তথ্য
১৫. Veterinary → পশুচিকিৎসা সংক্রান্ত
অথবা, (খ) নিচের অনুচ্ছেদটি বাংলায় অনুবাদ কর:
Modern science is teaching us that no one can live alone. Co-operation between individual and between the families is essential to the life of a man. Greater co-operation between nations is essential for continuing life on earth.
উত্তর:
অনুবাদ: আধুনিক বিজ্ঞান আমাদের এই শিক্ষা দিচ্ছে যে, কোনো মানুষই একা বাস করতে পারে না। মানুষের জীবনের জন্য ব্যক্তি এবং পরিবারের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা অপরিহার্য। পৃথিবীতে জীবনের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন জাতির মধ্যে আরও বৃহত্তর সহযোগিতা আবশ্যক।
৮. অভিজ্ঞতা বর্ণনা / সংবাদ প্রতিবেদন
(ক) তোমার মাদ্রাসার বার্ষিক শিক্ষা সফর সম্পর্কে অভিজ্ঞতা বর্ণনা কর।
উত্তর:
একটি শিক্ষণীয় দিন: আমাদের মাদ্রাসার বার্ষিক শিক্ষা সফর
শিক্ষা মানুষের জ্ঞানের পরিধিকে কেবল বাড়ায় না, বরং জীবনকে নতুন রূপ দেয়। আমাদের মাদ্রাসার বার্ষিক শিক্ষা সফর ছিল ঠিক তেমনই একটি রোমাঞ্চকর ও শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা। গত শীতে আমাদের মাদ্রাসা থেকে ঐতিহাসিক সোনারগাঁওয়ে একটি শিক্ষা সফরের আয়োজন করা হয়েছিল। সকাল ৭টায় মাদ্রাসার গেট থেকে আমাদের বাস ছাড়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই স্মরণীয় যাত্রা। আমাদের সাথে ছিলেন মাদ্রাসার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকমণ্ডলী।
সোনারগাঁওয়ে পৌঁছে আমরা প্রথমে লোকশিল্প জাদুঘর দর্শন করি। জাদুঘরের প্রাচীন কাঠের কাজ, জামদানি শাড়ির বুনন এবং মাটির শিল্পকর্ম আমাদের ইতিহাস সচেতনতা বাড়িয়ে তোলে। এরপর আমরা প্রাচীন রাজধানী পানাম নগরীর ধ্বংসাবশেষ ঘুরে দেখি। ইটের পর ইট সাজানো সেই প্রাচীন দালানকোঠাগুলো আমাদের শত বছর আগের বাংলার সমৃদ্ধির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিল। দুপুরের খাবারের পর শিক্ষকরা আমাদের নিয়ে সাধারণ জ্ঞান এবং ধর্মীয় বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে একটি কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন। পরিশেষে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করা হয়। শিক্ষা সফর কেবল আমাদের মানসিক ক্লান্তি দূর করেনি, আমাদের সহপাঠীদের সাথে একতার বন্ধন আরও দৃঢ় করেছে। এটি আমার জীবনের অন্যতম সেরা একটি দিন হয়ে থাকবে।
অথবা, (খ) "পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার জন্য প্রয়োজন বৃক্ষরোপণ।" এই শিরোনামে একটি সংবাদ প্রতিবেদন রচনা কর।
উত্তর:
পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার জন্য প্রয়োজন ব্যাপক বৃক্ষরোপণ
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ৮ জুলাই, ২০২৬
পৃথিবীতে জলবায়ুর দ্রুত পরিবর্তন এবং পরিবেশের ক্রমাগত অবনতি ঠেকাতে বৃক্ষরোপণ এখন একটি জরুরি জাতীয় কর্তব্যে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে অতিবৃষ্টি, দীর্ঘস্থায়ী দাবদাহ এবং অনিয়মিত বন্যা প্রমাণ করে যে আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য চরম হুমকির মুখে পড়েছে। পরিবেশবিদদের মতে, যেকোনো দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য মোট ভূখণ্ডের অন্তত ২৫ শতাংশ বনাঞ্চল থাকা প্রয়োজন, কিন্তু আমাদের রয়েছে এর চেয়ে অনেক কম।
বৃক্ষ আমাদের পরম বন্ধু। এটি বায়ুমণ্ডল থেকে ক্ষতিকর কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস শোষণ করে এবং আমাদের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য অক্সিজেন সরবরাহ করে। এছাড়া, গাছের শিকড় মাটির ক্ষয় রোধ করে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শহর অঞ্চলে অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং গ্রাম অঞ্চলে প্রতিনিয়ত গাছ কেটে ফেলার ফলে পরিবেশের উষ্ণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। পরিবেশের এই বিপর্যয় থেকে বাঁচতে প্রতিটি খালি জায়গায়, রাস্তার পাশে এবং বাড়ির ছাদে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণ করতে হবে। আসুন আমরা সবাই মিলে অন্তত একটি করে গাছ লাগাই এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তুলি।
৯. ই-মেইল / আবেদনপত্র
(ক) পরীক্ষায় ভালো ফলাফল লাভের উপায় সম্পর্কে পরামর্শ দিয়ে তোমার ছোট ভাইকে একটি ই-মেইল রচনা কর।
উত্তর:
To: fahim@email.com
Subject: পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ।
প্রিয় ফাহিম,
আমার স্নেহ ও ভালোবাসা নিস। আশা করি তুই ভালো আছিস। সামনে তোর পরীক্ষা, তাই ভালো ফলাফলের কিছু পরামর্শ দেওয়ার জন্য আজকের এই ই-মেইল।
পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফল পেতে হলে তোকে এখন থেকেই একটি পরিকল্পিত রুটিন বানিয়ে পড়তে হবে। প্রতিটি বিষয়ের মূল বই (Textbook) ভালো করে রিভিশন দিবি। বিশেষ করে কোনো বিষয় বুঝতে সমস্যা হলে শিক্ষকদের সাহায্য নিবি। মুখস্থ করার চেয়ে বুঝে পড়া বেশি কার্যকারী। প্রতিদিন পড়ার পর অন্তত আধা ঘণ্টা লেখা প্র্যাকটিস করবি, যা পরীক্ষার খাতায় লেখার গতি বাড়াবে। অতিরিক্ত রাত জেগে পড়াশোনা করবি না এবং নিজের স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখবি।
আশা করি তুই এই নিয়মগুলো মেনে চলবি। তোর জন্য অনেক শুভকামনা রইল।
তোর বড় ভাই,
জাহিদ হোসেন
অথবা, (খ) তোমার এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিরসনে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সংবাদপত্রে প্রকাশের উপযোগী একটি পত্র লেখ।
উত্তর:
তারিখ: ৮ জুলাই, ২০২৬
বরাবর
সম্পাদক
দৈনিক ইত্তেফাক
১, রামকৃষ্ণ মিশন রোড, ঢাকা।
বিষয়: 'চিঠিপত্র' কলামে প্রকাশের জন্য একটি পত্র।
মহোদয়,
আপনার বাদ্যবহুল প্রচারিত দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার 'জনসাধারণের মতামত' বা 'চিঠিপত্র' কলামে প্রকাশের জন্য 'রামপুরা এলাকায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিরসনের আবেদন' শীর্ষক নিচের পত্রটি প্রকাশ করলে অত্যন্ত বাধিত হব।
বিনীত,
এলাকাবাসীর পক্ষে—
আবদুল করিম
রামপুরা, ঢাকা।
--------------------------------------------------
রামপুরা এলাকায় লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিরসনের আবেদন
রামপুরা এবং এর আশেপাশের এলাকায় লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকে না। বিশেষ করে রাতে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার কারণে স্কুল ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্নক বিঘ্ন ঘটছে।
লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি ঘন ঘন ভোল্টেজ ওঠা-নামার কারণে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা এই সমস্যা নিরসনে বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
নিবেদক—
রামপুরা এলাকাবাসী।
১০. সারাংশ / ভাব-সম্প্রসারণ
(ক) সারাংশ লেখ:
"অনেকের ধারণা এই যে, মহৎব্যক্তি শুধু উচ্চবংশেই জন্মগ্রহণ করিয়া থাকেন; নীচকুলে মহতের জন্ম হয় না। কিন্তু প্রকৃতির দিকে দৃষ্টিপাত করিলেই দেখা যায় যে, মানুষের ধারণা অতিশয় ভ্রমাত্মক। পদ্মফুল ফুলের রাজা। তাহার রূপ-গন্ধে সে অতুলনীয়। কিন্তু ইহার জন্ম হয় অযোগ্য পানিলরা এঁদো পুকুরে। পক্ষান্তরে বটবৃক্ষ বৃক্ষের মধ্যে বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন বটে, অথচ বহু বৃক্ষের ফল আমরা আস্বাদন করি, এত খ্যাতনামা যে বটগাছ তাহার ফল আমাদের অখাদ্য।"
উত্তর:
সারাংশ: মানুষের জন্মস্থান বা তার বংশমর্যাদা তার মহত্ত্বের পরিমাপক নয়। অপবিত্র পঙ্কিল জলাশয়ে জন্ম নিলেও পদ্মফুল যেভাবে তার সৌন্দর্য ও সৌরভে বরণীয় হয়, ঠিক তেমনি তথাকথিত নিম্ন বংশেও মহৎ ও জ্ঞানীব্যক্তি জন্ম নিতে পারেন। আভিজাত্যের কৃত্রিম অহংকার মানুষের গুণাবলিকে ছাপিয়ে যেতে পারে না; বরং কাজের মাধ্যমে অর্জিত গুণই মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণ করে।
অথবা, (খ) ভাব-সম্প্রসারণ কর: "প্রয়োজনে যে মরিতে প্রস্তুত বাঁচিবার অধিকার তাহারই।"
উত্তর:
মূলভাব:
অধিকারহীন দাসত্বের জীবনের চেয়ে মর্যাদাপূর্ণ জীবনের জন্য আত্মত্যাগ অনেক বেশি মহৎ। যে জাতি বা ব্যক্তি নিজের স্বাধীনতা ও অধিকার রক্ষায় জীবন বিসর্জন দিতে কুণ্ঠাবোধ করে না, কেবল তারাই বাচার প্রকৃত অধিকারী হয়।
সম্প্রসারিত ভাব:
জগতে জীবন ধারণ করা এবং মানুষের মতো আত্মমর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকা এক নয়। প্রাণীকুল কেবল জৈবিক তাগিদে বেঁচে থাকে, কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকার সাথে যুক্ত থাকে সম্মান, অধিকার ও স্বাধীনতা। অধিকার কেউ কাউকে এমনি দেয় না, তা লড়াই করে অর্জন করতে হয়। ইতিহাস সাক্ষী দেয়, ভীরু ও কাপুরুষেরা কখনো মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে না। কোনো অত্যাচারী যখন মানুষের অধিকার কেড়ে নিতে চায়, তখন যে ভয় পেয়ে আত্মসমর্পণ করে, সে মূলত জীবিত থেকেও মৃতের মতো জীবন অতিবাহিত করে। অন্যদিকে, যারা নিজের অধিকার, দেশের sovereignty ও সত্যের সপক্ষে জীবন দিতে প্রস্তুত থাকে, তারা মৃত্যুকে জয় করে অমর হয়। অতএব, অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকার প্রধান শর্তই হলো প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করার মানসিকতা রাখা।
১১. সংলাপ / খুদে গল্প
(ক) ছাত্রজীবনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের সুফল ও কুফল নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা কর।
উত্তর:
সংলাপ: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সুফল ও কুফল
রাকিব: দোস্ত সাজিদ, কেমন আছিস? আজকাল তোকে পড়াশোনার চেয়ে ফেসবুকে বেশি অ্যাক্টিভ দেখি!
সাজিদ: ভালো আছি দোস্ত। আসলে ফেসবুক এখন যোগাযোগের অন্যতম সেরা মাধ্যম। পড়াশোনার অনেক গ্রুপে যুক্ত আছি, সেখান থেকে অনেক নোটস ও শিক্ষামূলক ভিডিও পাই। এটা তো ছাত্রজীবনে বড় একটা সুফল, তাই না?
রাকিব: হ্যাঁ, তোর কথা সত্য। কিন্তু এর কুফলগুলোও তোকে মাথায় রাখতে হবে। আজকাল অনেক শিক্ষার্থী ফেসবুক আর রিলস দেখতে দেখতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নষ্ট করছে। এতে পড়ার ক্ষতি হচ্ছে এবং তাদের মনোযোগ কমে যাচ্ছে।
সাজিদ: তা ঠিক বলেছিস। ইন্টারনেটে অতিরিক্ত সময় কাটানোর ফলে চোখের ক্ষতি হচ্ছে এবং অনেকে সরাসরি আসক্ত হয়ে পড়ছে। কিন্তু সঠিক নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করলে এটি কিন্তু আশীর্বাদ।
রাকিব: একদম ঠিক। আমাদের উচিত দিনে ফেসবুক বা অন্যান্য অ্যাপ ব্যবহারের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা। আসক্তি এড়িয়ে শুধু শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে এটি ব্যবহার করলেই এর প্রকৃত সুফল পাওয়া সম্ভব।
সাজিদ: ধন্যবাদ দোস্ত, তোর পরামর্শের জন্য। আজ থেকেই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সময় কমিয়ে পড়াশোনায় বেশি মনোযোগ দেব।
অথবা, (খ) 'নগর জীবন' শিরোনামে একটি খুদে গল্প রচনা কর।
উত্তর:
খুদে গল্প: যান্ত্রিক নগর জীবন
সকালের সূর্যের আলোর সাথে সাথেই ঢাকা শহরের রামপুরায় জ্যামের শব্দে ঘুম ভাঙে আসিফের। আসিফ গ্রামে বড় হওয়া এক সাধারণ তরুণ, যে চাকরির সুবাদে এখন এই যান্ত্রিক শহরের বাসিন্দা। প্রতিদিনের মতো সে বাসের জন্য লাইনে দাঁড়ায়। বাসের ভেতর গাদাগাদি ভিড়, মানুষের ঘাম আর ট্রাফিকের তীব্র হর্ন—এটাই নগর জীবনের চেনা রূপ। এখানে সবাই ছুটছে, কিন্তু কারোর যেন কারো সাথে কথা বলার সময় নেই। পাশের ফ্ল্যাটের প্রতিবেশী কে থাকেন, তাও আসিফ জানে না। গ্রামে যেখানে প্রতিবেশী বিপদে পড়লে পুরো পাড়া ছুটে আসত, এখানে মানুষ বড়ই নিঃসঙ্গ ও আত্মকেন্দ্রিক। ইট-পাথরের এই খাঁচায় কৃত্রিম সবুজ গাছ ছাড়া পাখির কিচিরমিচির শোনা দুষ্কর। আসিফ আনমনে হারিয়ে যায় তার ফেলে আসা গ্রামের সোনালী ফসলের মাঠে। নগর জীবন তাকে কর্মসংস্থান দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু কেড়ে নিয়েছে জীবনের মানসিক শান্তি ও প্রশান্তি।
১২. প্রবন্ধ রচনা (Marks 20)
যে কোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা কর: (ক) নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ, (খ) পরিবেশ রক্ষায় বনায়নের ভূমিকা, (গ) যুদ্ধ নয় শান্তি, (ঘ) আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও বাংলাদেশ, (ঙ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প।
উত্তর: (ক) নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ
৩. সমাজ গঠনে নৈতিক শিক্ষার ভূমিকা: সমাজ থেকে অপরাধ, দুর্নীতি, পরনিন্দা এবং সহিংসতা দূর করতে নৈতিক শিক্ষার বিকল্প নেই। একজন সুশিক্ষিত ব্যক্তি যদি নৈতিক গুণাবলী বর্জন করেন, তবে তিনি সমাজের জন্য সম্পদ না হয়ে বিপজ্জনক শক্তিতে পরিণত হন। প্রকৃত নৈতিক শিক্ষা মানুষকে নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করে তোলে।
৪. নৈতিক শিক্ষার মূল উৎসসমূহ: নৈতিক শিক্ষার প্রথম পাঠশালা হলো পরিবার। মা-বাবার আচরণ শিশুর মনে প্রথম নৈতিকতার বীজ রোপণ করে। এরপর ধর্মীয় শিক্ষা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই গুণগুলোর বিকাশ ঘটায়। ধর্মীয় অনুশাসন মানুষকে অন্যায় কাজ থেকে দূরে থাকতে বিশেষভাবে উদ্বুদ্ধ করে।
৫. মূল্যবোধ অবক্ষয়ের কারণ ও প্রতিকার: বর্তমান সমাজে অতিমাত্রায় বস্তুবাদী মানসিকতা, অপসংস্কৃতির প্রভাব এবং পারিবারিকভাবে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার অভাবের কারণে মূল্যবোধের মারাত্মক অবক্ষয় ঘটছে। এই অবক্ষয় দূর করতে পাঠ্যপুস্তকে নৈতিকতা বিষয়ক অধ্যায় বাধ্যতামূলক করতে হবে, তরুণ সমাজকে ইন্টারনেটের অপব্যবহার থেকে দূরে রাখতে হবে এবং সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে।
৬. উপসংহার: নৈতিকতা ও মূল্যবোধ হলো মানব জীবনের শ্রেষ্ঠ অলঙ্কার। কেবল বৈষয়িক বা অর্থনৈতিক উন্নতি একটি জাতিকে সমৃদ্ধ করতে পারে না, যদি না তার নাগরিকদের নৈতিক মেরুদণ্ড মজবুত থাকে। তাই আজ থেকেই আমাদের ব্যক্তিগত ও জাতীয় জীবনে নৈতিক মূল্যবোধ চর্চার শপথ নিতে হবে।
Alim 2026 Bangla 2nd Paper Question Solve, Alim Bangla 2nd Paper Board Question Solve PDF, Alim Bangla 2nd Paper Solution, Allbook.bd, talimit.net Bangla Solve, Alim Bangla 2nd Paper Question Answer 2026
