আলিম ২০২৬ ফিকহ ১ম পত্র সমাধান | Alim 2026 Fiqh 1st Paper Question Solution

Admin
0
Join Telegram for More Books
(toc)

আলিম ২০২৬ ফিকহ ১ম পত্র সমাধান | Alim 2026 Fiqh 1st Paper Question Solution

আলিম পরীক্ষা ২০২৬ - আল-ফিকহ ১ম পত্র সমাধান

বিষয়: আল-ফিকহ ১ম পত্র (الفقه - الورقة الأولى) | বিষয় কোড: ২০৩

আসসালামু আলাইকুম। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষা ২০২৬ এর সাধারণ, বিজ্ঞান ও মুজাব্বিদ মাহির বিভাগের শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে আজ আমরা নিয়ে এসেছি ফিকহ ১ম পত্র (আল-ফিকহ) এর সম্পূর্ণ সমাধানপত্র। উত্তরগুলো নির্ভুল এবং কুরআন, হাদীস, ইজমা ও কিয়াসের প্রামাণ্য দলিলসহ অত্যন্ত সহজ ভাষায় সাজানো হয়েছে, যা পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার জন্য সাহায্য করবে।


১ নং প্রশ্ন ও উত্তর:

প্রশ্ন: عرف الحج لغة وإصطلاحاً. وعلى من يجب الحج وعلى من لا؟ هل هو واجب على الفور أم على التراخي؟ بين إختلاف الأئمة.

অনুবাদ: হজের শাব্দিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা দাও। হজ কার ওপর ফরজ এবং কার ওপর ফরজ নয়? হজ কি অনতিবিলম্বে আদায় করা ওয়াজিব নাকি বিলম্বে? ইমামদের মতবিরোধ বর্ণনা করো।

ক. হজের শাব্দিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা:

  • শাব্দিক অর্থ: 'হজ' (الحج) শব্দের শাব্দিক অর্থ হলো কোনো সম্মানিত স্থানে যাওয়ার ইচ্ছা বা সংকল্প করা (القصد إلى مكان معظم)।
  • পারিভাষিক অর্থ: ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায়, নির্দিষ্ট সময়ে (হজের মাসসমূহে) আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি ও নৈকট্য অর্জনের উদ্দেশ্যে বিশেষ নিয়ম ও কার্যাবলির (ইহরাম, তাওয়াফ, উকুফে আরাফাহ ইত্যাদি) মাধ্যমে কাবার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া ও তা যিয়ারত করার সংকল্প করাকে হজ বলে।

খ. হজ কার ওপর ফরজ এবং কার ওপর নয়:

১. হজ ফরজ হওয়ার শর্তাবলি (যাদের ওপর ফরজ):

  • মুসলিম হওয়া (অমুসলিমের ওপর হজ ফরজ নয়)।
  • স্বাধীন হওয়া (দাস বা বন্দীর ওপর ফরজ নয়)।
  • বালেগ বা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া (শিশুর ওপর ফরজ নয়)।
  • আকিল বা সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন হওয়া (পাগলের ওপর ফরজ নয়)।
  • শারীরিক ও আর্থিক সামর্থ্য থাকা (পাথেয় ও যাতায়াত ব্যয় বহনে সক্ষমতা)।
  • যাতায়াতের পথ নিরাপদ ও বিঘ্নহীন হওয়া।

২. যাদের ওপর ফরজ নয়: অমুসলিম, দাস, অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু, পাগল এবং এমন দরিদ্র ব্যক্তি যার হজে যাতায়াতের খরচ এবং সফরের সময়কালে নিজের পরিবারের ভরণপোষণের মতো অতিরিক্ত সম্পদ নেই।

গ. হজ কি অনতিবিলম্বে (অবিলম্বে) নাকি বিলম্বে আদায় করা ওয়াজিব:

হজ ফরজ হওয়ার পর তা কি প্রথম বছরেই (অনতিবিলম্বে - على الفور) আদায় করা ওয়াজিব নাকি বিলম্বে (على التراخي) জীবনের যেকোনো সময় আদায় করা যায়—এ বিষয়ে ইমামদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে:

  • ইমাম আবু ইউসুফ (র.)-এর মত: হজ ফরজ হওয়ার সাথে সাথেই প্রথম বছরেই আদায় করা ওয়াজিব। কোনো গ্রহণযোগ্য ওজর ছাড়া বিলম্ব করলে সে গুনাহগার হবে। হানাফী মাযহাবের ইমাম আল-কারখীর বর্ণনা অনুযায়ী এটিই মাযহাবের অগ্রগণ্য ফতোয়া।
  • ইমাম মুহাম্মদ ও ইমাম শাফেয়ী (র.)-এর মত: হজ বিলম্বে (على التراخي) আদায় করার অবকাশ রয়েছে। অর্থাৎ জীবনের শেষভাগের পূর্ব পর্যন্ত যেকোনো সময় আদায় করলে ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে। তবে প্রথম সুযোগে আদায় করা উত্তম।
  • ইмам আবু হানিফা (র.)-এর মত: ইমাম আবু হানিফা (র.) থেকে দুটি বর্ণনাই রয়েছে। তবে অনতিবিলম্বে (على الفور) আদায় করার মতটিই তাঁর থেকে অধিক নির্ভরযোগ্য।

ঘ. প্রামাণ্য দলিলসমূহ:

১. আল-কুরআনের দলিল:

وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا

অর্থ: "আল্লাহর উদ্দেশ্যে মানুষের ওপর বায়তুল্লাহর হজ করা ফরজ, যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে।" (সূরা আল-ইমরান: ৯৭)

২. হাদীসের দলিল (অবিলম্বে আদায়ের পক্ষে):

تَعَجَّلُوا إِلَى الْحَجِّ - فَإِنَّ أَحَدَكُمْ لَا يَدْرِي مَا يَعْرِضُ لَهُ

অর্থ: "তোমরা হজের জন্য তাড়াহুড়ো করো, কেননা তোমাদের কেউ জানে না তার সামনে কী বিপদ বা ওজর চলে আসে।" (মুসনাদে আহমাদ)


২ নং প্রশ্ন ও উত্তর:

প্রশ্ন: عرف الإحصار. إن أحصر المحرم بعدو أو مرض فما حكمه؟ ومتى يعتبر الإحصار ومتى لا؟

অনুবাদ: ইহসার (হজে অবরুদ্ধ হওয়া) এর সংজ্ঞা দাও। ইহরামকারী যদি শত্রু বা অসুস্থতার কারণে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে, তবে তার বিধান কী? কখন ইহসার গণ্য হবে এবং কখন হবে না?

ক. ইহসারের সংজ্ঞা:

  • শাব্দিক অর্থ: 'ইহসার' (الإحصار) শব্দের শাব্দিক অর্থ হলো অবরুদ্ধ করা, বাধা দেওয়া বা সংকীর্ণ করা (المنع والضيق)।
  • পারিভাষিক অর্থ: ইহরাম বাঁধার পর মক্কায় পৌঁছাতে অথবা হজের মূল রোকনসমূহ (তাওয়াফ ও উকুফে আরাফাহ) সম্পাদন করতে কোনো শত্রু, রোগ বা অন্য কোনো অনিবার্য কারণে বাধাগ্রস্ত বা অবরুদ্ধ হওয়াকে শরীয়তের পরিভাষায় ইহসার বলে।

খ. শত্রু বা অসুস্থতার কারণে অবরুদ্ধ হলে তার বিধান:

ইহরামকারী যদি শত্রু বা রোগব্যাধির কারণে বায়তুল্লাহ পৌঁছাতে না পারে, তবে হানাফী মাযহাবের মতে সে 'মুহসার' (অবরুদ্ধ) হিসেবে গণ্য হবে। তার বিধানসমূহ হলো:

  1. দমে ইহসার প্রদান: অবরুদ্ধ ব্যক্তি হারাম সীমানায় (হারাম শরীফে) একটি কোরবানিযোগ্য পশু (হাদি) জবাই করার মাধ্যমে ইহরাম থেকে মুক্ত বা হালাল হতে পারবে।
  2. হালক বা কসর করা: পশু জবাই করার পর সে মাথার চুল মুণ্ডন করবে বা ছাঁটবে এবং ইহরামের কাপড় খুলে ফেলবে।
  3. কাযা আদায় করা: তাকে পরবর্তীতে এই অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়া হজের কাযা আদায় করতে হবে। যদি সে হজে অবরুদ্ধ হয় তবে একটি হজ ও একটি ওমরাহর কাযা করতে হবে, আর ওমরায় অবরুদ্ধ হলে একটি ওমরাহর কাযা করতে হবে।

ইмамদের মতবিরোধ ও দলিল: হানাফী মাযহাব অনুযায়ী শত্রু এবং রোগ-ব্যাধি উভয় কারণেই ইহসার সংঘটিত হতে পারে। কিন্তু ইমাম শাফেয়ী (র.)-এর মতে, কেবল শত্রুর বাধার কারণেই ইহসার হতে পারে, অসুস্থতার কারণে নয়।

হানাফী মাযহাবের পক্ষে আল-কুরআনের দলিল:

فَإِنْ أُحْصِرْتُمْ فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْيِ

অর্থ: "আর তোমরা যদি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ো, তবে সহজলভ্য হাদি (কোরবানি) প্রেরণ করো।" (সূরা আল-বাকারা: ১৯৬) - এই আয়াতটি সাধারণ (عام), যা শত্রু ও রোগ উভয় বাধাগ্রস্ততাকেই অন্তর্ভুক্ত করে।

গ. কখন ইহসার গণ্য হবে এবং কখন হবে না:

  • কখন ইহসার গণ্য হবে: যদি ইহরামকারী এমনভাবে অবরুদ্ধ হয় যে কোনো বিকল্প পথ দিয়েও সে আরাফাত বা মক্কায় পৌঁছাতে পারছে না, অথবা বিকল্প পথে যাওয়ার ব্যয়ভার বহন করার মতো সামর্থ্য তার নেই, তবে তা ইহসার গণ্য হবে।
  • কখন ইহসার গণ্য হবে না: যদি দীর্ঘ বা কষ্টদায়ক হলেও কোনো বিকল্প পথ থাকে এবং তার কাছে সেই অতিরিক্ত পথ অতিক্রম করার আর্থিক ও শারীরিক সামর্থ্য থাকে, তবে সে অবরুদ্ধ বা মুহসার গণ্য হবে না। তাকে সেই বিকল্প পথেই যেতে হবে।

৩ নং প্রশ্ন ও উত্তর:

প্রশ্ন: عرف النكاح. وما الفرق بينه وبين البيع؟ بأي ألفاظ يصح النكاح وبأي ألفاظ لا؟ بين مفصلاً.

অনুবাদ: বিবাহের সংজ্ঞা দাও। বিবাহ এবং ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যে পার্থক্য কী? কোন কোন শব্দ দ্বারা বিবাহ সহীহ হয় এবং কোন কোন শব্দ দ্বারা হয় না? বিস্তারিত বর্ণনা করো।

ক. বিবাহের সংজ্ঞা:

  • শাব্দিক অর্থ: 'নিকাহ' (النكاح) শব্দের শাব্দিক অর্থ হলো একত্রিত করা, মিলিত করা বা স্বামী-স্ত্রীর মিলন (الضم والجمع)।
  • পারিভাষিক অর্থ: শরীয়তের পরিভাষায়, নিকাহ বা বিবাহ হলো এমন একটি বৈধ চুক্তি যার মাধ্যমে পুরুষ ও নারীর মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন ও পারস্পরিক দাম্পত্য সুখ বৈধ হয় (عقد يفيد ملك المتعة قصداً)।

খ. বিবাহ ও ক্রয়-বিক্রয়ের (Bay') মধ্যে পার্থক্য:

পার্থক্যের বিষয় বিবাহ চুক্তি (النكاح) ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি (البيع)
সাক্ষীর বাধ্যবাধকতা দুজন পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুজন মহিলা সাক্ষী থাকা শর্ত (ওয়াজিব)। চুক্তি বৈধ হওয়ার জন্য সাক্ষী থাকা বাধ্যতামূলক নয়।
স্থায়িত্ব ও মেয়াদ চিরস্থায়ী সম্পর্কের জন্য হতে হবে, কোনো সাময়িক মেয়াদের শর্তারোপ করা যায় না। স্থায়ী বা অস্থায়ী যেকোনো মেয়াদে হতে পারে।
মালিকানার ধরন স্বামী স্ত্রীর অঙ্গ উপভোগের মালিকানা লাভ করে, স্ত্রীকে ক্রয় করতে পারে না। ক্রেতা পণ্যের পূর্ণ মালিকানা পায় এবং তা পুনরায় বিক্রি বা দান করতে পারে।
বাতিলের অধিকার (Khiyar) ত্রুটির কারণে চুক্তি বাতিলের অধিকার (খিয়ারে আইব ও খিয়ারে রুইয়াত) অত্যন্ত সীমিত। ত্রুটি বা দেখার পর চুক্তি বাতিলের অধিকার সরাসরি প্রযোজ্য হয়।

গ. কোন শব্দ দ্বারা বিবাহ সহীহ হয় এবং কোন শব্দ দ্বারা হয় না:

১. যেসব শব্দ দ্বারা বিবাহ সহীহ হয়: বিবাহ চুক্তি দুটি শব্দ অর্থাৎ প্রস্তাব (ঈজাব) ও গ্রহণ (কবুল) এর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এর জন্য সুনির্দিষ্ট শব্দ হলো- বিবাহ (نكاح), তাযবীজ (تزويج), হিবاه (নিজের সত্তা দান করা), তামলীক (মালিকানা প্রদান), এবং সাদাকাহ (দান)। এই শব্দগুলো দ্বারা বিবাহ সহীহ হবে যদি তা অতীত কাল নির্দেশক শব্দ দ্বারা সম্পাদিত হয়। যেমন: "আমি তোমার কাছে নিজেকে বিবাহ দিলাম" এবং অপর পক্ষ বলল "আমি গ্রহণ করলাম।"

২. যেসব শব্দ দ্বারা বিবাহ সহীহ হয় না: ইজারা (ভাড়া দেওয়া), ইআরাহ (ধার দেওয়া), রহ্ন (বন্ধক রাখা), মুতআ বা অস্থায়ী উপভোগের শব্দ। এই শব্দগুলো দ্বারা বিবাহ সম্পন্ন করলে তা বাতিল বা অসঙ্গত বলে গণ্য হবে।

ঘ. প্রামাণ্য দলিলসমূহ:

১. আল-কুরআনের দলিল:

فَانْكِحُوا مَا طَابَ لَكُمْ مِنَ النِّسَاءِ

অর্থ: "তোমাদের পছন্দমতো নারীদের বিবাহ করো।" (সূরা আন-নিসা: ৩)

২. হাদীসের দলিল (সাক্ষীর শর্তের পক্ষে):

لَا نِكَاحَ إِلَّا بِوَلِيٍّ وَشَاهِدَيْ عَدْلٍ

অর্থ: "অভিভাবক ও দুজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী ছাড়া কোনো বিবাহ নেই।" (সুনানে দারা কুতনী)


৪ নং প্রশ্ন ও উত্তর:

প্রশ্ন: عرف المهر. وما مقداره؟ وما المراد بالمهر المثل؟ ومن أي قوم يثبت المهر المثل للمرأة؟ بما يماثل في المهر المثل؟ بين بالتفصيل.

অনুবাদ: মহর এর সংজ্ঞা দাও। এর পরিমাণ কত? মহরে মিসল (অনুরূপ মহর) বলতে কী বোঝায়? নারীর জন্য কোন বংশীয়দের পক্ষ থেকে মহরে মিসল নির্ধারিত হয়? মহরে মিসল নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয়ের সাদৃশ্য বিবেচনা করা হয়? বিস্তারিত বর্ণনা করো।

ক. মহরের সংজ্ঞা ও পরিমাণ:

  • মহরের সংজ্ঞা: শরীআতের পরিভাষায়, বিবাহ বন্ধনের কারণে স্বামীর ওপর স্ত্রীর জন্য যে সম্পদ বা অর্থ প্রদান করা ওয়াজিব বা বাধ্যতামূলক হয়, তাকে মহর (المهر) বলে।
  • মহরের পরিমাণ: হানাফী মাযহাব অনুযায়ী সর্বনিম্ন মহর হলো ১০ দিরহাম (বা সমপরিমাণ মূল্য)। এর কম মহর নির্ধারণ করা বৈধ নয়। আর মহরের সর্বোচ্চ কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। স্বামী তার সামর্থ্য অনুযায়ী যেকোনো পরিমাণ নির্ধারণ করতে পারে।

হাদীসের দলিল (সর্বনিম্ন মহরের ক্ষেত্রে):

لَا مَهْرَ أَقَلَّ مِنْ عَشْرَةِ دَرَاهِمَ

অর্থ: "১০ দিরহামের কম কোনো মহর নেই।" (সুনানে বায়হাকী)

খ. মহরে মিসল (অনুরূপ মহর) বলতে কী বোঝায়:

যদি বিবাহের সময় কোনো মহর নির্দিষ্ট না করা হয়, অথবা মহর না দেওয়ার শর্তে বিবাহ হয়, কিংবা নির্ধারিত মহরটি অবৈধ বা মূল্যহীন সম্পদ হয় (যেমন মদ বা শূকর), তবে স্ত্রীর জন্য যে অনুরূপ মহর ওয়াজিব হয় তাকে 'মহরে মিসল' (মৌলিক ও ঐতিহ্যগত মহর) বলে।

গ. কোন বংশের পক্ষ থেকে এটি নির্ধারিত হয়:

মহরে মিসল নির্ধারণের ক্ষেত্রে মেয়ের বাবার বংশের (قوم أبيها) নারীদের মহরের পরিমাণকে ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়। যেমন মেয়ের বোন, ফুফু, বাবার ফুফু বা চাচাতো বোনদের মহর। মেয়ের মায়ের বংশের (যেমন খালা বা নানী) মহর ধরা হবে না, যদি না তারা বাবার বংশের সাথে সমপর্যায়ের বা একই গোত্রীয় হন।

ঘ. মহরে মিসল নির্ধারণের সাদৃশ্যসমূহ (Aspects of Similarity):

মহরে মিসল নির্ধারণের সময় বাবার বংশের সমকক্ষ নারীদের সাথে নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর সাদৃশ্য বিবেচনা করা হয়:

  • বয়স (السن): সমবয়সী নারীদের মহরের সাথে তুলনা।
  • সৌন্দর্য (الجمال): বাহ্যিক সৌন্দর্য ও দৈহিক গঠন।
  • বুদ্ধিমত্তা ও দ্বীনদারী (العقل والتقوى): তাদের চরিত্র, জ্ঞান ও খোদাভীতি।
  • কুমারীত্ব বা অকুমারীত্ব (البكارة والثيوبة): সে কুমারী নাকি তালাকপ্রাপ্তা/বিধবা।
  • ধন-সম্পদ ও অর্থনৈতিক অবস্থা (المال): তাদের আর্থিক স্বচ্ছলতা।
  • বাসস্থান বা শহর (البلد): তারা কোন শহর বা গ্রামীণ পরিবেশে বসবাস করে।
  • সমসাময়িক যুগ বা সময়কাল (العصر): বর্তমান সময় বা যুগের মহরের অবস্থা।

৫ নং প্রশ্ন ও উত্তর:

প্রশ্ন: عرف الغنيمة والفيء والجزية والخراج. كيف تقسم الغنيمة بين المجاهدين؟ بين مع ذكر إختلاف الأئمة فيها.

অনুবাদ: গনিমত, ফাই, জিজিয়া এবং খারাজ এর সংজ্ঞা দাও। মুজাহিদদের মাঝে গনিমত কীভাবে বণ্টন করা হবে? ইমামদের মতভেদসহ বর্ণনা করো।

ক. সংজ্ঞাসমূহ:

  1. গনিমত (الغنيمة): কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের ওপর বিজয় লাভ করে জোরপূর্বক যে ধন-সম্পদ অর্জিত হয়, তাকে গনিমত বলে।
  2. ফাই (الفيء): কাফেরদের সাথে যুদ্ধ বা রক্তপাত ছাড়াই যে সম্পদ অর্জিত হয় (যেমন সন্ধির মাধ্যমে বা কাফেররা ভয় পেয়ে সম্পদ ফেলে পালালে), তাকে ফাই বলে।
  3. জিজিয়া (الجزية): ইসলামী রাষ্ট্রে বসবাসকারী অমুসলিম নাগরিকদের (যিম্মি) জান-মালের নিরাপত্তা এবং সামরিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির বিনিময়ে তাদের ওপর বাৎসরিক যে কর ধার্য করা হয়, তাকে জিজিয়া বলে।
  4. খারাজ (الخراج): ইসলামী রাষ্ট্রের অমুসলিম কৃষিজীবীদের ওপর তাদের চাষাবাদী জমির উৎপাদন ও ব্যবহারের ওপর যে কর ধার্য করা হয়, তাকে খারাজ বলে।

খ. মুজাহিদদের মাঝে গনিমত বণ্টন এবং ইমামদের মতবিরোধ:

অর্জিত গনিমতের মালামাল বণ্টন করার নিয়ম হলো: অর্জিত গনিমতকে প্রথমে ৫ ভাগে ভাগ করা হবে। এর মধ্যে ১ ভাগ (খুমুস বা এক-পঞ্চমাংশ) বায়তুল মালে জমা হবে এবং বাকি ৪ ভাগ মুজাহিদদের মাঝে বণ্টন করা হবে।

  • হানাফী মাযহাবের বণ্টন নীতি (ইমাম আবু হানিফা র.-এর মত): অশ্বারোহী মুজাহিদ (ঘোড়সওয়ার) পাবেন ২ অংশ (১ অংশ নিজের এবং ১ অংশ ঘোড়ার জন্য) এবং পদাতিক মুজাহিদ (পায়ে হাঁটা সৈন্য) পাবেন ১ অংশ। (সাহেবাইন তথা ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদের মতে, অশ্বারোহী ৩ অংশ পাবেন—২ অংশ ঘোড়ার জন্য ও ১ অংশ নিজের জন্য)।
  • ইмам শাফেয়ী ও ইমাম মালেক (র.)-এর মত: তাঁদের মতেও মুজাহিদদের মধ্যে অশ্বারোহীকে অতিরিক্ত অংশ দেওয়া হবে, তবে ঘোড়ার সংখ্যার ভিত্তিতে ভাগের হিসেবে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে।

আল-কুরআনের দলিল (গনিমত বণ্টনের ক্ষেত্রে):

وَاعْلَمُوا أَنَّمَا غَنِمْتُمْ مِنْ شَيْءٍ فَأَنَّ لِلَّهِ خُمُسَهُ وَلِلرَّسُولِ

অর্থ: "আর জেনে রেখো, যুদ্ধে যা তোমরা লাভ করো তার এক-পঞ্চমাংশ আল্লাহর ও রাসূলের জন্য..." (সূরা আল-আনফাল: ৪১)


৬ নং প্রশ্ন ও উত্তর:

প্রশ্ন: عرف الصيد لغة وإصطلاحاً. هل الصيد مخصوص بالكلب أم لا؟ وما هي شروط حل الصيد؟ بين موضحاً.

অনুবাদ: শিকার (সাইদ) এর শাব্দিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা দাও। শিকার কি কেবল কুকুরের মাঝে সীমাবদ্ধ নাকি অন্য পশুর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য? শিকার হালাল হওয়ার শর্তাবলি কী কী? বুঝিয়ে বর্ণনা করো।

ক. শিকারের শাব্দিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা:

  • শিকারের সংজ্ঞা: 'শিকার' (الصيد) শব্দের শাব্দিক অর্থ হলো কোনো পশুকে তাড়া করা বা ফাঁদে ফেলে ধরা (الأخذ والطلب)।
  • পারিভাষিক অর্থ: শরীয়তের পরিভাষায়, বন্য ও অবাধ্য হালাল প্রাণীকে তীর, বন্দুক বা শিকারী পশুর মাধ্যমে জখম করে কাবু বা পাকড়াও করাকে শিকার বলে।

খ. শিকার কি শুধু কুকুরের মাঝে সীমাবদ্ধ নাকি নয়:

না, শিকার কেবল কুকুরের মাঝে সীমাবদ্ধ নয়। যেকোনো হিংস্র ও শিকারী পশু (যেমন চিতা, বাজপাখি, শিকরে পাখি ইত্যাদি) দ্বারা শিকার করা জায়েয, যদি তা মানুষের অধীনে প্রশিক্ষিত (معلم) হয়।

গ. শিকার হালাল হওয়ার শর্তাবলি (Conditions of Halal Hunting):

  1. শিকারী পশুটি প্রশিক্ষিত হতে হবে: হিংস্র পশুর ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের প্রমাণ হলো—সে শিকার ধরার পর নিজে খাবে না, মালিকের জন্য ধরে রাখবে। আর শিকারী পাখির ক্ষেত্রে প্রমাণ হলো—ডাকলে ফিরে আসবে।
  2. বিসমিল্লাহ বলা: শিকারী পশু বা তীর/বুলেট ছাড়ার সময় শিকারীকে সজ্ঞানে আল্লাহর নাম (بسم الله) উচ্চারণ করতে হবে।
  3. শিকারের উদ্দেশ্যে প্রেরণ করা: শিকারী সজ্ঞানে শিকারের প্রতি পশু বা তীর নিক্ষেপ করবে। শিকারী পশুটি নিজে নিজে গিয়ে শিকার করলে তা হালাল হবে না।
  4. শিকারী পশু শিকারের অংশ না খাওয়া: যদি শিকারী কুকুর বা হিংস্র পশু শিকারের কোনো অংশ খেয়ে ফেলে, তবে তা খাওয়া হারাম হয়ে যাবে (কারণ সে নিজের জন্য শিকার করেছে)। তবে বাজপাখির মতো শিকারী পাখি খেলে তা হালাল থাকবে।
  5. জখমের মাধ্যমে মৃত্যু: শিকারটি তীরের আঘাতে বা শিকারী পশুর কামড়ে জখম হয়ে মারা যেতে হবে। যদি আঘাত বা জখম ছাড়া শ্বাসরোধ হয়ে মারা যায়, তবে তা হালাল হবে না।

আল-কুরআনের দলিল (শিকার প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে):

يَسْأَلُونَكَ مَاذَا أُحِلَّ لَهُمْ قُلْ أُحِلَّ لَكُمُ الطَّيِّبَاتُ وَمَا عَلَّمْتُمْ مِنَ الْجَوَارِحِ مُكَلِّبِينَ

অর্থ: "তারা তোমাকে জিজ্ঞাসা করে তাদের জন্য কী হালাল করা হয়েছে? বলো, তোমাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করা হয়েছে এবং শিকারী পশু-পাখি যাদেরকে তোমরা শিকারের প্রশিক্ষণ দিয়েছ..." (সূরা আল-মায়েদা: ৪)


৭ নং প্রশ্ন ও উত্তর:

প্রশ্ন: ما معنى الأضحية لغة واصطلاحاً؟ هل تصح الأضحية بالجذع والعمياء والعرجاء والثولاء والعجفاء. وما ذهب أكثر أذنها؟ وما الحكم "لو غلط إثنان وذبح كل شاة صاحبه"؟ بين موضحاً.

অনুবাদ: উদহিয়াহ (কোরবানি) এর শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ কী? এক বছর কম বয়সের ভেড়া (জাযা'), অন্ধ, খোঁড়া, উন্মাদ ও অতিশয় কৃশ পশু দ্বারা কি কোরবানি সহীহ হবে? যে পশুর কানের অধিকাংশ অংশ কাটা গেছে তার কোরবানি কি সহীহ? যদি দুই ব্যক্তি ভুলবশত একে অপরের পশু জবাই করে ফেলে, তবে তার বিধান কী? বুঝিয়ে বর্ণনা করো।

ক. কোরবানির শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ:

  • শাব্দিক অর্থ: 'উদহিয়াহ' (الأضحية) শব্দের শাব্দিক অর্থ হলো কোরবানি বা কুরবানির পশু যা কুরবানির দিনগুলোতে (আযহার দিন) জবাই করা হয়। এর নামকরণ করা হয়েছে 'দুহা' বা পূর্বাহ্ন সময় থেকে।
  • পারিভাষিক অর্থ: নির্দিষ্ট সময়ে আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট কোনো পশু জবাই করাকে কোরবানি বলে।

খ. ত্রুটিযুক্ত পশুর কোরবানির বিধান:

  1. জাযা' (ছয় মাসের ভেড়া): ভেড়ার ক্ষেত্রে জাযা' বা নূ্যনতম ছয় মাস বয়সের সুস্থ-সবল ভেড়া (যা দেখতে এক বছরের মতো মনে হয়) দ্বারা কোরবানি সহীহ। তবে ছাগল, গরু ও উটের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বয়স পূর্ণ হতে হবে।
  2. অন্ধ: সম্পূর্ণ অন্ধ বা এক চোখ নষ্ট পশুর কোরবানি সহীহ নয়।
  3. খোঁড়া: অতিশয় খোঁড়া পশু যা তিন পায়ে ভর দিয়ে চলে এবং জবেহ করার স্থান পর্যন্ত হেঁটে যেতে পারে না, তার কোরবানি সহীহ নয়।
  4. উন্মাদ (পাগল): পাগল পশু যদি ঘাস খেতে পারে তবে কোরবানি জায়েয। আর যদি ঘাস খেতে না পারে তবে জায়েয নয়।
  5. অতিশয় কৃশ: জীর্ণ-শীর্ণ ও অতি দুর্বল পশু যার হাড়ে মজ্জা নেই, তার কোরবানি সহীহ নয়।
  6. কানের অধিকাংশ কাটা: যদি কানের অর্ধেকের বেশি অংশ কাটা থাকে তবে কোরবানি সহীহ হবে না। অর্ধেকের কম হলে সহীহ কিন্তু মাকরূহ হবে।

হাদীসের দলিল (কোরবানির পশুর ত্রুটিসমূহ দূর করার পক্ষে):

أَرْبَعٌ لَا تَجُوزُ فِي الضَّحَايَا: الْعَوْرَاءُ الْبَيِّنُ عَوَرُهَا، وَالْمَرِيضَةُ الْبَيِّنُ مَرَضُهَا، وَالْعَرْجَاءُ الْبَيِّنُ ظَلْعُهَا، وَالْكَسِيرَةُ الَّتِي لَا تُنْقِي

অর্থ: "চার প্রকার পশু কোরবানি করা জায়িজ নয়: স্পষ্ট অন্ধ, স্পষ্ট অসুস্থ, স্পষ্ট খোঁড়া এবং অতি দুর্বল পশু যার হাড়ে মজ্জা নেই।" (সুনানে তিরমিযী)

গ. দুই ব্যক্তি ভুলবশত একে অপরের পশু জবাই করলে তার বিধান:

যদি দুই ব্যক্তি কোরবানি করার সময় ভুলবশত একে অপরের পশু জবাই করে ফেলে, তবে ফিকাহবিদদের মতে:

  • উভয় ব্যক্তির কোরবানিই বৈধ ও আদায় হয়ে যাবে।
  • তারা একে অপরের সাথে মাংস বিনিময় বা ক্ষমা করে দিতে পারে। এতে কোনো জরিমানা বা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না।
  • কিন্তু যদি তারা ক্ষতিপূরণ দাবি করে, তবে প্রত্যেককে অপরজনের পশুর বাজারমূল্য পরিশোধ করতে হবে এবং জবেহকৃত পশুর মাংস নিজের কাছে রাখতে হবে।

আলিম ২০২৬ ফিকহ ১ম পত্র সমাধান PDF ডাউনলোড

নিচের টেবিল থেকে আপনার পছন্দ অনুযায়ী প্রশ্নপত্র অথবা সমাধানপত্রের পিডিএফ (PDF) ফাইলটি অনলাইনে পড়তে অথবা সরাসরি ডাউনলোড করতে পারেন:

ক্রমিক নং পিডিএফ এর নাম ডাউনলোড ও অনলাইন লিংক
আলিম ২০২৬ ফিকহ ১ম পত্র প্রশ্নপত্র (Question PDF) অনলাইনে পড়ুন / ডাউনলোড করুন
আলিম ২০২৬ ফিকহ ১ম পত্র সমাধান (Answer PDF) অনলাইনে পড়ুন / ডাউনলোড করুন

আপনার প্রশ্ন-পরামর্শ কিংবা অনুরোধ জানাতে...

Post a Comment

0Comments

Post a Comment (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Ok, Go it!