ভূমিকা: বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান হলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। সারাদেশে প্রায় ২,২৫৭টি অধিভুক্ত কলেজে লাখ লাখ শিক্ষার্থী এখানে পড়াশোনা করেন। শিক্ষার্থীরা প্রায়ই অনার্স ভর্তির সময় বিষয় নির্বাচন, পয়েন্টের যোগ্যতা এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন। আজকের এই পোস্টে আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্সের খুঁটিনাটি সব বিষয়, ভর্তির যোগ্যতা এবং কোন বিষয়ে পড়লে ভবিষ্যতে কী হওয়া যায় তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
১. অনার্সে মোট কয়টি বিষয় আছে?
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ অনার্স কোর্সে মোট ৩০টি বিষয় (Department) রয়েছে। এই বিষয়গুলো মূলত ৩টি প্রধান গ্রুপে বিভক্ত।
ক) মানবিক শাখা (Humanities Group) - ১৫টি বিষয়
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় শাখা এটি। এখানে ভাষা, সাহিত্য, ইতিহাস ও সমাজবিজ্ঞান সম্পর্কিত বিষয়গুলো পড়ানো হয়।
- ১. বাংলা (Bangla) ২. ইংরেজি (English) ৩. আরবি (Arabic) ৪. সংস্কৃত (Sanskrit) ৫. ইতিহাস (History) ৬. ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি (Islamic History and Culture) ৭. দর্শন (Philosophy) ৮. ইসলামিক স্টাডিজ (Islamic Studies) ৯. রাষ্ট্রবিজ্ঞান (Political Science) ১০. সমাজবিজ্ঞান (Sociology) ১১. সমাজকর্ম (Social Work) ১২. অর্থনীতি (Economics) ১৩. নৃ-বিজ্ঞান (Anthropology) ১৪. গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান (Library and Information Science) ১৫. গার্হস্থ্য অর্থনীতি (Home Economics)।
খ) বিজ্ঞান শাখা (Science Group) - ১১টি বিষয়
যারা গবেষণা, প্রযুক্তি এবং প্রাকৃতিন বিজ্ঞান নিয়ে পড়তে চান, তাদের জন্য এই শাখা [৩৩]।
- ১. পদার্থবিজ্ঞান (Physics) ২. রসায়ন (Chemistry) ৩. প্রাণরসায়ন (Biochemistry) ৪. উদ্ভিদবিজ্ঞান (Botany) ৫. প্রাণীবিজ্ঞান (Zoology) ৬. মৃত্তিকাবিজ্ঞান (Soil Science) ৭. পরিসংখ্যান (Statistics) ৮. গণিত (Mathematics) ৯. পরিবেশ বিজ্ঞান (Environmental Science) ১০. ভূগোল ও পরিবেশ (Geography and Environment) ১১. মনোবিজ্ঞান (Psychology)।
গ) ব্যবসায় শিক্ষা শাখা (Business Studies Group) - ৪টি বিষয়
বর্তমান চাকরির বাজারে এই বিষয়গুলোর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
- ১. হিসাববিজ্ঞান (Accounting) ২. ব্যবস্থাপনা (Management) ৩. মার্কেটিং (Marketing) ৪. ফিন্যান্স (Finance)।
২. কোন বিষয়ের গুরুত্ব কেমন এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার কী?
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স পর্যায়ে মোট ৩০টি বিষয় পড়ানো হয়। প্রতিটি বিষয়েরই নিজস্ব গুরুত্ব ও ভিন্ন ভিন্ন কর্মক্ষেত্র রয়েছে। নিচে মানবিক, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার বিষয়গুলোর গুরুত্ব ও ক্যারিয়ার সম্ভাবনা আলোচনা করা হলো:
ক) মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান শাখা (১৫টি বিষয়)
মানবিক শাখাটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় শাখা। সরকারি চাকরি বিশেষ করে বিসিএস, শিক্ষকতা এবং উন্নয়ন সংস্থায় কাজ করার জন্য এই বিষয়গুলো বেশ জনপ্রিয়।
১. ইংরেজি (English):
• গুরুত্ব: চাকরির বাজারে এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগে ইংরেজির গুরুত্ব অপরিসীম।
• ক্যারিয়ার: বিসিএস, ব্যাংক, মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি, শিক্ষকতা, সাংবাদিকতা এবং অনুবাদক।
২. অর্থনীতি (Economics):
• গুরুত্ব: সমাজের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি ও উন্নয়ন বোঝার জন্য অপরিহার্য।
• ক্যারিয়ার: সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক, বিসিএস, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, এনজিও এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান।
৩. রাষ্ট্রবিজ্ঞান (Political Science):
• গুরুত্ব: রাষ্ট্র, সরকার পদ্ধতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে পড়ার জন্য সেরা।
• ক্যারিয়ার: রাজনীতি, প্রশাসন, সাংবাদিকতা, এনজিও এবং শিক্ষকতা।
৪. বাংলা (Bangla):
• গুরুত্ব: সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চায় মৌলিক বিষয়। যারা সাহিত্য ভালোবাসেন তাদের জন্য আদর্শ।
• ক্যারিয়ার: স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা, মিডিয়া, সাংবাদিকতা এবং সৃজনশীল লেখালেখি।
৫. সমাজবিজ্ঞান (Sociology):
• গুরুত্ব: সমাজের গঠন, পরিবর্তন ও মানুষের আচরণ নিয়ে গবেষণা করা হয়।
• ক্যারিয়ার: এনজিও, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং এইচআর (HR) সেক্টর।
৬. সমাজকর্ম (Social Work):
• গুরুত্ব: সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের উন্নয়ন ও সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
• ক্যারিয়ার: আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (UN, Save the Children), সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং এনজিও।
৭. ইতিহাস ও ৮. ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি:
• গুরুত্ব: প্রাচীন সভ্যতা থেকে আধুনিক বিশ্ব এবং মুসলিম বিশ্বের ইতিহাস জানা যায়।
• ক্যারিয়ার: বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা ও প্রশাসন), শিক্ষকতা এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর।
৯. দর্শন ও ১০. ইসলামিক স্টাডিজ:
• গুরুত্ব: জীবন দর্শন, নীতিশাস্ত্র এবং ধর্মীয় শিক্ষার গভীর জ্ঞান অর্জন।
• ক্যারিয়ার: শিক্ষকতা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং বিভিন্ন সরকারি চাকরি (সাধারণ ক্যাডার)।
১১. গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান:
• গুরুত্ব: তথ্য ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণের জন্য একটি বিশেষায়িত ও যুগোপযোগী বিষয়।
• ক্যারিয়ার: সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরিয়ান বা তথ্য কর্মকর্তা।
১২. গার্হস্থ্য অর্থনীতি:
• গুরুত্ব: পুষ্টি, গৃহ ব্যবস্থাপনা এবং শিশু বিকাশ নিয়ে পড়াশোনা করা হয়।
• ক্যারিয়ার: পুষ্টিবিদ (Nutritionist), ইন্টেরিয়র ডিজাইনার এবং হাসপাতালের ডায়েটিশিয়ান।
১৩. নৃ-বিজ্ঞান (Anthropology):
• গুরুত্ব: মানুষের উৎপত্তি ও সংস্কৃতি নিয়ে গবেষণা করা হয়।
• ক্যারিয়ার: গবেষণা প্রতিষ্ঠান, এনজিও এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান।
১৪. আরবি ও ১৫. সংস্কৃত:
• গুরুত্ব: নির্দিষ্ট ভাষা ও সাহিত্যের পাণ্ডিত্য অর্জনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
• ক্যারিয়ার: শিক্ষকতা, অনুবাদক এবং দোভাষী।
খ) বিজ্ঞান শাখা (১১টি বিষয়)
বিজ্ঞান শাখার বিষয়গুলো গবেষণা, প্রযুক্তি এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের সাথে সম্পর্কিত। যারা গবেষক বা বিজ্ঞানী হতে চান তাদের জন্য এই বিষয়গুলো সেরা।
১৬. পদার্থবিজ্ঞান (Physics):
• গুরুত্ব: পদার্থের ধর্ম ও শক্তি নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিজ্ঞানের মৌলিক শাখা।
• ক্যারিয়ার: পরমাণু শক্তি কমিশন, আবহাওয়া অধিদপ্তর, গবেষণা কেন্দ্র ও আইটি সেক্টর।
১৭. রসায়ন (Chemistry):
• গুরুত্ব: রাসায়নিক বিক্রিয়া ও পদার্থের গঠন নিয়ে কাজ করা হয়।
• ক্যারিয়ার: ওষুধ কোম্পানি (Pharmaceuticals), কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি, বিএসটিআই এবং শিক্ষকতা।
১৮. গণিত ও ১৯. পরিসংখ্যান (Statistics):
• গুরুত্ব: তথ্য বিশ্লেষণ ও গাণিতিক সমস্যা সমাধানের জন্য অপরিহার্য।
• ক্যারিয়ার: ব্যাংক, বিসিএস, ডেটা সায়েন্টিস্ট, বিমা কোম্পানি এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
২০. উদ্ভিদবিজ্ঞান ও ২১. প্রাণীবিজ্ঞান:
• গুরুত্ব: জীবজগতের খুঁটিনাটি এবং প্রকৃতি নিয়ে গবেষণা করা হয়।
• ক্যারিয়ার: কৃষি গবেষণা, বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর, ফিশারিজ এবং ফার্মাসিউটিক্যালস।
২২. মনোবিজ্ঞান (Psychology):
• গুরুত্ব: মানুষের মন ও আচরণ নিয়ে বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা করা হয়।
• ক্যারিয়ার: মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, কাউন্সিলর, রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার এবং করপোরেট সাইকোলজিস্ট।
২৩. ভূগোল ও পরিবেশ এবং ২৪. পরিবেশ বিজ্ঞান:
• গুরুত্ব: জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সংরক্ষণ।
• ক্যারিয়ার: পরিবেশ অধিদপ্তর, নগর পরিকল্পনা, আবহাওয়া অফিস এবং আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংস্থা।
২৫. মৃত্তিকাবিজ্ঞান (Soil Science):
• গুরুত্ব: মাটির গুণাগুণ ও কৃষি উন্নয়ন নিয়ে কাজ করা হয়।
• ক্যারিয়ার: কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট এবং চা বাগান।
২৬. প্রাণরসায়ন (Biochemistry):
• গুরুত্ব: জীববিজ্ঞানের আধুনিক শাখা যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
• ক্যারিয়ার: ডায়াগনস্টিক সেন্টার, হাসপাতাল, ওষুধ কোম্পানি এবং গবেষণা ল্যাব।
গ) ব্যবসায় শিক্ষা শাখা (৪টি বিষয়)
বর্তমানে চাকরির বাজারে, বিশেষ করে করপোরেট ও ব্যাংকিং সেক্টরে এই বিষয়গুলোর চাহিদা সবচেয়ে বেশি (চাকরি পাওয়ার হার প্রায় ৬২%)।
২৭. হিসাববিজ্ঞান (Accounting):
• গুরুত্ব: ব্যবসার ভাষা। আর্থিক হিসাব-নিকাশ ও নিরীক্ষা শেখানো হয়।
• ক্যারিয়ার: সিএ (CA), ব্যাংকার, অডিটর এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হিসাব কর্মকর্তা।
২৮. ফিন্যান্স (Finance):
• গুরুত্ব: মূলধন ব্যবস্থাপনা, শেয়ার মার্কেট এবং বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা।
• ক্যারিয়ার: বাংলাদেশ ব্যাংক, সকল বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিমা কোম্পানি ও মার্চেন্ট ব্যাংক।
২৯. মার্কেটিং (Marketing):
• গুরুত্ব: পণ্য বিপণন, ব্র্যান্ডিং এবং বিজ্ঞাপন কৌশল শেখানো হয়।
• ক্যারিয়ার: মাল্টিন্যাショナル কোম্পানির সেলস ও মার্কেটিং বিভাগ, ব্র্যান্ড ম্যানেজার।
৩০. ব্যবস্থাপনা (Management):
• গুরুত্ব: প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও কর্মী ব্যবস্থাপনার কৌশল।
• ক্যারিয়ার: মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা (HR), প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং উদ্যোক্তা।
৩. ভর্তির যোগ্যতা: কত পয়েন্ট লাগে?
২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ভর্তির যোগ্যতায় কিছু পরিবর্তন ও নিয়ম রয়েছে।
আবেদনের নূন্যতম জিপিএ (SSC ও HSC):
- মানবিক শাখা: এসএসসি এবং এইচএসসিতে আলাদাভাবে নূন্যতম জিপিএ ৩.০০ - ৩.৫০ থাকার নিয়ম রয়েছে (প্রতি বছর সার্কুলারে এটি সামান্য পরিবর্তন হতে পারে, তবে সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিতে যোগ্যতার মান বাড়ানো হয়েছে)।
- বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা: এসএসসিতে ৩.৫০ এবং এইচএসসিতে ৩.৫০ জিপিএ সাধারণত চাওয়া হয়।
বিষয় পাওয়ার শর্ত: আপনি যে বিষয়ে অনার্স করতে চান, এইচএসসিতে সেই বিষয়টি (অথবা রিলেটেড বিষয়টি) পঠিত থাকতে হবে এবং তাতে নূন্যতম ৩.০ গ্রেড পয়েন্ট পেতে হবে। অর্থাৎ, আপনি যদি গণিতে অনার্স করতে চান, তবে এইচএসসিতে গণিতে অন্তত ‘B’ গ্রেড বা ৩.০ থাকতে হবে।
৪. মেধা তালিকা ও জিপিএ নম্বর বন্টন পদ্ধতি
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি এখন অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক। সর্বশেষ নিয়ম অনুযায়ী মোট ২০০ নম্বরের ভিত্তিতে মেধা তালিকা করা হয়।
১. জিপিএ থেকে ১০০ নম্বর:
- এসএসসি জিপিএ × ১০ × ৪০% = ৪০ নম্বর।
- এইচএসসি জিপিএ × ১০ × ৬০% = ৬০ নম্বর।
- মোট জিপিএ নম্বর = ১০০।
২. ভর্তি পরীক্ষা থেকে ১০০ নম্বর: এমসিকিউ (MCQ) পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া হয়। এখানে পাস নম্বর হলো ৩৫। এই পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর জিপিএ নম্বরের সাথে যোগ হয়ে মেধা তালিকা তৈরি হয়।
সতর্কতা: ভর্তি পরীক্ষায় ৩৫-এর নিচে পেলে মেধা তালিকায় নাম আসবে না।
৫. জেনারেল অনার্স বনাম প্রফেশনাল অনার্স
অনেকে এই দুটির পার্থক্য বোঝেন না। সংক্ষেপে পার্থক্য হলো:
- জেনারেল অনার্স: খরচ কম (সরকারি কলেজে বছরে ৫-৭ হাজার টাকা), বাংলা মাধ্যম, ইন্টার্নশিপ নেই।
- প্রফেশনাল অনার্স: খরচ বেশি (বেসরকারিভাবে ১.৫ থেকে ২.৫ লাখ টাকা হতে পারে), ইংরেজি মাধ্যম, ইন্টার্নশিপ আছে এবং ব্যবহারিক ক্লাসের সুযোগ বেশি (যেমন: CSE, BBA Professional, AMT, FDT)।
৬. ভর্তির সময় প্রয়োজনীয় টিপস (ছাত্রছাত্রীদের জন্য)
- কলেজ চয়েস: নিজের পয়েন্ট অনুযায়ী কলেজ নির্বাচন করুন। পয়েন্ট কম থাকলে সরকারি কলেজের পাশাপাশি ভালো মানের এমপিওভুক্ত বা বেসরকারি কলেজ চয়েস দিন।
- দ্বৈত ভর্তি: আপনি যদি আগে কোথাও ভর্তি থাকেন (ডিগ্রি বা অন্য কোথাও), তবে অবশ্যই আগের ভর্তি বাতিল করতে হবে। নাহলে উভয় ভর্তি বাতিল হয়ে যাবে।
- ছবি ও তথ্য: আবেদনের সময় নিজের সঠিক মোবাইল নম্বর এবং সদ্য তোলা ছবি ব্যবহার করবেন। কোটা থাকলে তার সঠিক কাগজপত্র প্রস্তুত রাখবেন।
সাধারণ অনার্স বনাম প্রফেশনাল অনার্স: মূল পার্থক্য ও বিস্তারিত আলোচনা
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ 'সাধারণ অনার্স' (General Honours) এবং 'প্রফেশনাল অনার্স' (Professional Honours) উভয়ই ৪ বছর মেয়াদী স্নাতক কোর্স হলেও এদের পাঠদান পদ্ধতি, খরচ, এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের সুযোগের ক্ষেত্রে বিশাল পার্থক্য রয়েছে। নিচে মূল পার্থক্যগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. পাঠদান পদ্ধতি ও পরীক্ষার ধরণ
- সাধারণ অনার্স: এটি একটি বাৎসরিক (Yearly) পদ্ধতির কোর্স। এখানে ৪ বছরে ৪টি প্রধান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় (১ম বর্ষ থেকে ৪র্থ বর্ষ)।
- প্রফেশনাল অনার্স: এটি সেমিস্টার (Semester) ভিত্তিক কোর্স। ৪ বছরে মোট ৮টি সেমিস্টার থাকে এবং প্রতি ৬ মাস অন্তর ফাইনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
২. শিক্ষার মাধ্যম (Medium of Instruction)
- সাধারণ অনার্স: শিক্ষার মাধ্যম মূলত বাংলা। তবে ২য় বর্ষে একটি নন-ক্রেডিট ইংরেজি কোর্স থাকে। শিক্ষার্থীরা চাইলে পরীক্ষার খাতায় ইংরেজিতে উত্তর দিতে পারে, তবে ক্লাসে পাঠদান বাংলাতেই হয়।
- প্রফেশনাল অনার্স: শিক্ষার মাধ্যম সম্পূর্ণ ইংরেজি। সিলেবাস, ক্লাস লেকচার এবং পরীক্ষা—সবকিছুই ইংরেজিতে পরিচালিত হয়, যা শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভাষায় দক্ষ করে তোলে।
৩. ইন্টার্নশিপ ও ব্যবহারিক দক্ষতা
- সাধারণ অনার্স: এই কোর্সে সাধারণত ইন্টার্নশিপের কোনো ব্যবস্থা নেই। এখানে তাত্ত্বিক পড়াশোনায় বেশি জোর দেওয়া হয়। প্রেজেন্টেশন বা প্রজেক্ট ওয়ার্কের সুযোগ এখানে খুবই কম।
- প্রফেশনাল অনার্স: কোর্স শেষে বাধ্যতামূলক ৩ মাসের ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ থাকে, যা শিক্ষার্থীদের চাকরির বাজারের জন্য প্রস্তুত করে। এছাড়া প্রতি সেমিস্টারে প্রেজেন্টেশন, অ্যাসাইনমেন্ট এবং ল্যাব ওয়ার্ক বাধ্যতামূলক থাকে।
৪. খরচ ও প্রতিষ্ঠান
- সাধারণ অনার্স: সরকারি ও বেসরকারি উভয় কলেজেই পড়ানো হয়। সরকারি কলেজে ৪ বছরে খরচ হয় আনুমানিক ৩০ থেকে ৮০ হাজার টাকা এবং বেসরকারি কলেজে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা হতে পারে।
- প্রফেশনাল অনার্স: এটি মূলত বেসরকারি কলেজ ও বিশেষায়িত ইনস্টিটিউটে পড়ানো হয়। ৪ বছরে ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।
৫. বিষয় ও মেজর নির্বাচন
- সাধারণ অনার্স: এখানে ৩০টি সুনির্দিষ্ট বিষয় রয়েছে। ভর্তির আবেদনের সময়ই শিক্ষার্থীকে তার মেজর বা প্রধান বিষয়টি নির্বাচন করতে হয়।
- প্রফেশনাল অনার্স: এখানে 'কোর্স' নির্বাচন করতে হয় (যেমন: BBA, CSE, FDT)। উদাহরণস্বরূপ, বিবিএ প্রফেশনাল কোর্সে ভর্তির পর ৮ম সেমিস্টারে গিয়ে নিজের মেজর (ফিন্যান্স বা মার্কেটিং) নির্বাচন করা হয়।
৬. ক্রেডিট ও কোর্সের সংখ্যা
সাধারণ অনার্সে মোট ২৬-৩২টি কোর্স (১২৪-১৩২ ক্রেডিট) এবং প্রফেশনাল অনার্সে ৪৮-৫৪টি কোর্স (১৪৮-১৬৪ ক্রেডিট) পড়তে হয়।
৭. ভর্তির যোগ্যতা ও প্রতিযোগিতা
সাধারণ অনার্সে আবেদনের জন্য নূন্যতম জিপিএ ২.০০ থেকে ৩.০০ লাগে, তবে প্রফেশনাল অনার্সে এই শর্ত কিছুটা বেশি থাকে (যেমন: মোট জিপিএ ৫.০০ বা তার বেশি)।
সারসংক্ষেপ: কোনটি আপনার জন্য?
যদি আপনার লক্ষ্য বিসিএস, সরকারি চাকরি বা শিক্ষকতা হয় এবং কম খরচে পড়তে চান, তবে সাধারণ অনার্স আপনার জন্য ভালো।
আর যদি আপনার লক্ষ্য করপোরেট জব, মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি বা আইটি সেক্টর হয় এবং আপনি ইংরেজি মাধ্যমে ব্যবহারিক শিক্ষায় আগ্রহী হন, তবে প্রফেশনাল অনার্স আপনার জন্য উপযুক্ত।
সেমিস্টার পদ্ধতির সুবিধাসমূহ এবং পরীক্ষার নম্বর বন্টন
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ প্রফেশনাল অনার্স কোর্সগুলো সেমিস্টার পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়। সাধারণ অনার্সের বাৎসরিক পদ্ধতির তুলনায় সেমিস্টার পদ্ধতির বেশ কিছু সুবিধা এবং ভিন্নধর্মী পরীক্ষার নম্বর বন্টন ব্যবস্থা রয়েছে। নিচে তা বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
সেমিস্টার পদ্ধতির সুবিধাসমূহ
১. ব্যবহারিক দক্ষতা ও ইন্টার্নশিপ: সেমিস্টার পদ্ধতিতে (প্রফেশনাল অনার্স) কোর্স শেষে ৩ মাসের বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ থাকে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা চাকরির বাজারে প্রবেশের আগেই বাস্তব জ্ঞান লাভ করে এবং প্রায় ৭০% শিক্ষার্থীর ইন্টার্নশিপ চলাকালীনই চাকরি নিশ্চিত হয়ে যায়। এছাড়াও প্রতি সেমিস্টারে প্রেজেন্টেশন, প্রজেক্ট, অ্যাসাইনমেন্ট এবং ল্যাব ওয়ার্ক করানো বাধ্যতামূলক।
২. ইংরেজি মাধ্যম ও ক্যারিয়ার সুবিধা: এই পদ্ধতির পড়াশোনা সম্পূর্ণ ইংরেজি মাধ্যমে হয়। ফলে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি এবং করপোরেট জবের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা এগিয়ে থাকে। অন্যদিকে সাধারণ অনার্সে মূলত বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা করানো হয়।
৩. দ্রুত পাঠদান ও মূল্যায়ন: ৪ বছরের কোর্সটি ৮টি সেমিস্টারে বিভক্ত এবং প্রতি ৬ মাস অন্তর ফাইনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনার মধ্যে থাকতে হয় এবং সেশনজটের সম্ভাবনা অনেক কমে যায়।
৪. অধিক কোর্স ও ক্রেডিট: সেমিস্টার পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের সাধারণ অনার্সের তুলনায় বেশি সংখ্যক কোর্স (৪৮-৫৪টি) এবং বেশি ক্রেডিট (১৪৮-১৬৪) সম্পন্ন করতে হয়, যা তাদের জ্ঞানের পরিধি ব্যাপকভাবে বাড়ায়।
পরীক্ষার নম্বর বন্টন পদ্ধতি
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিস্টার পদ্ধতি (প্রফেশনাল) এবং বাৎসরিক পদ্ধতির (সাধারণ অনার্স) পরীক্ষার নম্বর বন্টনে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে:
• সেমিস্টার পদ্ধতি (প্রফেশনাল অনার্স):
- লিখিত পরীক্ষা: ৭০ নম্বর
- অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন: ৩০ নম্বর (ক্লাস পারফরম্যান্স, প্রেজেন্টেশন ও অ্যাসাইনমেন্ট)
- মোট: ১০০ নম্বর
• বাৎসরিক পদ্ধতি (সাধারণ অনার্স):
- লিখিত পরীক্ষা: ৮০ নম্বর (পরিবর্তনশীল)
- ইনকোর্স: ২০ নম্বর (১৫ নম্বর পরীক্ষা + ৫ নম্বর উপস্থিতি)
- মোট: ১০০ নম্বর
* সাধারণ অনার্সে অভ্যন্তরীণ নম্বরের পরিমাণ সেমিস্টার পদ্ধতির চেয়ে কম থাকে।
চাকরির বাজারে সাধারণ না কি প্রফেশনাল অনার্সের চাহিদা বেশি?
বর্তমান চাকরির বাজারে, বিশেষ করে বেসরকারি খাত, মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি এবং আইটি সেক্টরে প্রফেশনাল অনার্সের চাহিদা সাধারণ অনার্সের তুলনায় অনেক বেশি। যদিও সরকারি চাকরির (যেমন বিসিএস) ক্ষেত্রে উভয় ডিগ্রির মান সমান, কিন্তু করপোরেট জগতে প্রফেশনাল অনার্সের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
নিচে এর মূল কারণগুলো তুলে ধরা হলো:
১. শিক্ষার মাধ্যম ও ভাষাগত দক্ষতা
চাকরির বাজারে প্রফেশনাল অনার্সের শিক্ষার্থীদের এগিয়ে থাকার অন্যতম বড় কারণ হলো শিক্ষার মাধ্যম। এই কোর্সটি সম্পূর্ণ ইংরেজি মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যা শিক্ষার্থীদের ইংরেজিতে দক্ষ করে তোলে এবং মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে বিশেষ সুবিধা দেয়। অন্যদিকে, সাধারণ অনার্স মূলত বাংলা মাধ্যমে পড়ানো হয়, যা অনেক সময় করপোরেট জবের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
২. ইন্টার্নশিপ ও চাকরির সুযোগ
প্রফেশনাল অনার্সের সিলেবাসে বাধ্যতামূলক ৩ মাসের ইন্টার্নশিপ থাকে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করার আগেই বাস্তব অভিজ্ঞতা লাভ করে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রফেশনাল কোর্সের প্রায় ৭০% শিক্ষার্থীর ইন্টার্নশিপ চলাকালীনই চাকরি নিশ্চিত হয়ে যায়। সাধারণ অনার্সে ইন্টার্নশিপ না থাকায় পাস করার পর চাকরি পেতে শিক্ষার্থীদের কিছুটা বেগ পেতে হয়।
৩. ব্যবহারিক দক্ষতা (Practical Skills)
সাধারণ অনার্সে তাত্ত্বিক পড়াশোনায় জোর দেওয়া হয়। বিপরীতে, প্রফেশনাল অনার্সে প্রতি সেমিস্টারে প্রেজেন্টেশন, অ্যাসাইনমেন্ট, ল্যাব ওয়ার্ক এবং প্রজেক্ট বাধ্যতামূলক থাকে। এই ব্যবহারিক কাজগুলো শিক্ষার্থীদের দ্রুত পেশাজীবী হিসেবে গড়ে তোলে।
৪. বিষয় ও কারিকুলামের আধুনিকতা
প্রফেশনাল অনার্সের বিষয়গুলো (যেমন: CSE, BBA, Fashion Design) বর্তমান বাজারের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএস-এর তথ্যমতে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ অনার্স শেষ করা শিক্ষার্থীদের মাত্র ৩৪% চাকরির বাজারে প্রবেশ করতে পারে, যেখানে ব্যবসায় প্রশাসন ও কারিগরি খাতের শিক্ষার্থীদের চাকরি পাওয়ার হার অনেক বেশি।
🎯 সারসংক্ষেপ: কোনটি বেছে নেবেন?
যদি আপনার লক্ষ্য বিসিএস বা সরকারি চাকরি হয়, তবে সাধারণ অনার্স ভালো বিকল্প। কিন্তু যদি আপনি দ্রুত চাকরি পেতে চান এবং বেসরকারি বা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে ক্যারিয়ার গড়তে চান, তবে প্রফেশনাল অনার্স নিঃসন্দেহে ভালো এবং এর চাহিদাও অনেক বেশি।
প্রফেশনাল অনার্সের বিভিন্ন কোর্স ও ইন্টার্নশিপের সুযোগ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ 'প্রফেশনাল অনার্স' কোর্সগুলো মূলত কর্মমুখী এবং ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে সাজানো হয়েছে। এই কোর্সগুলোতে বিভিন্ন বিশেষায়িত বিষয় এবং ইন্টার্নশিপের চমৎকার সুযোগ রয়েছে। নিচে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. প্রফেশনাল অনার্সের বিভিন্ন কোর্সসমূহ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেশনাল অনার্সের কোর্সগুলো বিভিন্ন অনুষদের অধীনে পরিচালিত হয়। উল্লেখযোগ্য কোর্সগুলো হলো:
• প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ (Engineering & Technology):
- কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (CSE)
- ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ECE)
• ফ্যাশন ও অ্যাপারেল ডিজাইন (Fashion & Apparel):
- অ্যাপারেল ম্যানুফ্যাকচার অ্যান্ড টেকনোলজি (AMT)
- ফ্যাশন ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজি (FDT)
- নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচার অ্যান্ড টেকনোলজি (KMT)
• ব্যবসায় প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা (Business & Management):
- ব্যাচেলর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (BBA Professional)
- টুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট (THM)
- বিবিএ ইন এভিয়েশন ম্যানেজমেন্ট
• অন্যান্য বিশেষায়িত কোর্স:
- অ্যারোনটিক্যাল অ্যান্ড এভিয়েশন সায়েন্স
- থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ (TMS)
- ব্যাচেলর অব ফাইন আর্টস (BFA)
২. ইন্টার্নশিপ ও ব্যবহারিক শিক্ষার সুযোগ
প্রফেশনাল অনার্সের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো এর ইন্টার্নশিপ সুবিধা, যা সাধারণ অনার্সে থাকে না।
- বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ: ৪ বছরের কোর্স শেষে শিক্ষার্থীদের জন্য ৩ মাসের বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ রয়েছে।
- চাকরির সুযোগ: ইন্টার্নশিপের ফলে শিক্ষার্থীরা চাকরির বাস্তব অভিজ্ঞতা লাভ করে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় ৭০% শিক্ষার্থীর চাকরি তাদের ইন্টার্নশিপ চলাকালীনই নিশ্চিত হয়ে যায়।
- ব্যবহারিক ক্লাস: এই কোর্সগুলোতে প্রতি সেমিস্টারে প্রেজেন্টেশন, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রজেক্ট ওয়ার্ক এবং ল্যাব ক্লাস বাধ্যতামূলকভাবে করানো হয়।
৩. শিক্ষার মাধ্যম ও কাঠামো
- সেমিস্টার পদ্ধতি: এটি বাৎসরিক পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তে সেমিস্টার ভিত্তিক (৬ মাস পর পর পরীক্ষা)। ৪ বছরে মোট ৮টি সেমিস্টার সম্পন্ন করতে হয়।
- ইংরেজি মাধ্যম: পুরো কোর্সের পাঠদান ও পরীক্ষা ইংরেজি মাধ্যমে হয়, যা শিক্ষার্থীদের বহুজাতিক কোম্পানিতে চাকরির জন্য যোগ্য করে তোলে।
