"বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের জীবনী, রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারের আধুনিক পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এই পোস্টে।"
ভূমিকা
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও আধুনিকায়নে যে ক’জন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তাদের মধ্যে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন অন্যতম। তিনি অতীতে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই সময়ে পাবলিক পরীক্ষায় নকল প্রতিরোধে তাঁর আপসহীন ভূমিকা দেশব্যাপী এক নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর, দেশের শিক্ষা খাতকে আরও গতিশীল ও বিশ্বমানের করে তুলতে তিনি ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে পুনরায় শপথ গ্রহণ করেন এবং বর্তমান সরকারের শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তাঁর এই নতুন যাত্রায় সহযোগী হিসেবে (শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী/সচিব হিসেবে) যোগ্য নেতৃত্ব পাশে পাচ্ছেন, যা দেশের ছাত্রসমাজের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন: বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্ম
বাংলাদেশের রাজনীতি ও শিক্ষাখাতে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন একটি অতি পরিচিত ও উজ্জ্বল নাম। সম্প্রতি তিনি বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এর আগেও ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে পাবলিক পরীক্ষায় নকল প্রতিরোধে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখে দেশব্যাপী প্রশংসিত হন। নিচে তার জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হলো:
ব্যক্তিগত তথ্য
জন্ম তারিখ: ১ জানুয়ারি, ১৯৫৭ (সার্টিফিকেট অনুযায়ী)
জন্মস্থান: কুমিল্লা, বাংলাদেশ
পিতা: মরহুম মোহাম্মদ ওবায়দুল হক
মাতা: মিসেস মাহমুদা হক
শিক্ষাজীবন
প্রাথমিক শিক্ষা: ঢাকা ফার্ম ইসলামিয়া প্রাইমারি স্কুল (বর্তমানে রাজধানী হাই স্কুল, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা)।
মাধ্যমিক শিক্ষা: মোহাম্মদপুর সরকারি বয়েজ হাই স্কুল।
সম্মাননা: বাংলাদেশের শিক্ষাখাতে অসামান্য অবদানের জন্য ২০০৫ সালে ব্রিটিশ ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি, লন্ডন এবং ইউকে কমিশন ফর কনসিস্টেন্ট লার্নিং তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে।
রাজনৈতিক জীবন ও পদবী
ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সক্রিয় রাজনীতির সাথে জড়িত এবং বর্তমানে দেশ পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন:
বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী: বাংলাদেশ সরকার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ - বর্তমান)
সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী: বাংলাদেশ সরকার (২০০১-২০০৬)
সংসদ সদস্য (এমপি): নির্বাচনী এলাকা ২৬০: চাঁদপুর-১ (কচুয়া)। তিনি দুই মেয়াদে (১৯৯৬-২০০১ এবং ২০০১-২০০৬) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
সদস্য, জাতীয় নির্বাহী কমিটি: বিএনপি (২০২২-বর্তমান)
আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক: বিএনপি (১৯৯৩-২০২২)
প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ও সাধারণ সম্পাদক: বিএনপি-ইউএসএ চ্যাপ্টার (১৯৮৮-১৯৯৬)
ছাত্র রাজনীতি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হল ছাত্র সংসদের দুইবারের নির্বাচিত ভিপি (১৯৮০-৮১ এবং ১৯৮১-৮২)। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের (জেসিডি) কেন্দ্রীয় কমিটির ট্রেজারার (১৯৮২) এবং আহ্বায়ক কমিটির সর্বকনিষ্ঠ সদস্য (১৯৮০) ছিলেন।
পেশাগত অভিজ্ঞতা
রাজনীতির পাশাপাশি তিনি দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পেশায় নিয়োজিত ছিলেন:
শিক্ষকতা: যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বরো অফ ম্যানহাটন কমিউনিটি কলেজে অ্যাডজাংক্ট লেকচারার এবং ব্রুকলিন কলেজে (CUNY) গণিতের টিউটর হিসেবে কাজ করেছেন (১৯৮৪-১৯৮৬)।
ব্যবস্থাপনা: নিউইয়র্কের ক্লোভারডেল ইনক.-এ ট্রেজারার, কম্পট্রোলার এবং পরবর্তীতে ভাইস-প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯৮৭-১৯৯৫)।
রসায়নবিদ: নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে সুপার ফার্ম ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিতে কোয়ালিটি কন্ট্রোল এবং অ্যাসিওরেন্স কেমিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন (১৯৮২-১৯৮৩)।
প্রকাশনা ও সাহিত্যকর্ম
তিনি রাজনীতি, শিক্ষা ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে বেশ কিছু বই রচনা করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
• প্রেসিডেন্ট জিয়া, জিয়ার পররাষ্ট্রনীতি, সৈনিক জিয়া, জিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ (২০২২)
• চলতে ফিরতে দেখা (২০১৪ - জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত কলামের সংকলন)
• যুবনায়ক জিয়া (২০১২)
• গবেষণা প্রবন্ধ: ২০১৬ সালে TVET@Asia জার্নালে বাংলাদেশের টিভিইটি (TVET) পলিসির ওপর তার একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়।
• তার আন্দোলন নিয়ে রচিত বই: পাবলিক পরীক্ষায় নকলের বিরুদ্ধে তার সংগ্রাম নিয়ে ২০১৫ সালে নাজমুন নাহার বেবী-র সম্পাদনায় "নকল প্রতিরোধ: এহছানুল হক মিলন-এর সংগ্রাম" নামে একটি বই প্রকাশিত হয়।
অন্যান্য অর্জন ও খেলাধুলা
• তিনি বাংলাদেশ জাতীয় ভলিবল দলের একজন খেলোয়াড় ছিলেন।
• ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হল ছাত্র সংসদের অ্যাথলিট সেক্রেটারি ছিলেন (১৯৭৮-৭৯)।
পারিবারিক জীবন
স্ত্রী: মিসেস নাজমুন নাহার বেবী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে স্নাতক এবং যুক্তরাষ্ট্রের সিটি ইউনিভার্সিটি অফ নিউইয়র্ক থেকে সিআইএস-এ মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি।
সন্তান: তাদের একমাত্র কন্যা তানজিদা নাহার হক। তিনি নিউইয়র্কের জন জে কলেজ অফ ক্রিমিনাল জাস্টিস থেকে 'আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন'-এ স্নাতক এবং 'আন্তর্জাতিক মানবাধিকার'-এ মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসে সফলভাবে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করেছেন।
বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে তাঁর পরিকল্পনা ও চিন্তাভাবনা
শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর জন্য বেশ কিছু সাহসী ও আধুনিক পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তাঁর প্রধান চিন্তা ভাবনাগুলো হলো:
• দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী শিক্ষা: তিনি মনে করেন বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা কেবল ‘বেকার তৈরির কারখানা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই তিনি সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে শিক্ষাকে সরাসরি কর্মসংস্থানের সাথে যুক্ত করতে চান।
• আন্তর্জাতিক মানদণ্ড (International Standard): বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিশ্বমানের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া তাঁর অন্যতম লক্ষ্য। তিনি চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ন্যানোটেকনোলজি, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) এবং রোবোটিক্সকে পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
• নকল ও দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষা: অতীতে নকল রোধে তাঁর কঠোর অবস্থান যেমন প্রশংসিত হয়েছিল, বর্তমানেও তিনি শিক্ষা খাতে যেকোনো ধরনের অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং কোচিং বাণিজ্য বন্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি ঘোষণা করেছেন।
• বাজেট বৃদ্ধি: তিনি শিক্ষার মানোন্নয়নে জিডিপি-র ৫% থেকে ৬% বরাদ্দ দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
• শিক্ষকদের মর্যাদা: শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া পূরণ এবং বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে অ্যাপ-ভিত্তিক অটোমেটেড সিস্টেম চালুর পরিকল্পনা করছেন তিনি।
সোশ্যাল মিডিয়া ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন
তাঁর কার্যক্রম এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক ও শিক্ষা বিষয়ক আপডেট পেতে আপনি তাঁর অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলগুলো অনুসরণ করতে পারেন:
অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ: https://www.facebook.com/anm.ehsanul.hoque.milon (এটি তাঁর ভেরিফাইড বা প্রধান পেজ হিসেবে পরিচিত)।
পরিশেষে বলা যায়, ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বাংলাদেশের রাজনীতি ও শিক্ষা প্রশাসনে একজন দূরদর্শী নেতা। অতীতে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তাঁর সাহসী পদক্ষেপগুলো যেমন সফল হয়েছিল, বর্তমানে শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে তাঁর নতুন পরিকল্পনাগুলো দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের প্রবল প্রত্যাশা। মেধা, সততা এবং বৈশ্বিক অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণে তিনি একটি আধুনিক, বিজ্ঞানমনস্ক এবং কর্মমুখী প্রজন্ম গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন—এটাই আমাদের কাম্য। আমরা তাঁর দীর্ঘায়ু ও উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি।
