চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড, টাকা আসবে কোথা থেকে, কারা পাবেন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের অন্যতম যুগান্তকারী সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি হলো ‘ফ্যামিলি কার্ড’। দেশের দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ হিসেবে আসছে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি। অর্থনৈতিক চাপ ও মূল্যস্ফীতির এই সময়ে সাধারণ মানুষের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে এই বিশেষ কার্ডের পরিকল্পনা করেছে নতুন সরকার। আসন্ন ঈদের আগেই শুরু হচ্ছে এই পাইলট প্রকল্প। যার আওতায় প্রত্যেক সুবিধাভোগীকে মাসে ২ হাজার টাকা করে দেওয়া হতে পারে।
এতে ৫০ লাখ সুবিধাভোগীর জন্য বছরে সরকারকে গুণতে হবে ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি। ফ্যামিলি কার্ডের জন্য শুরুতে বাছাই করা হয়েছে বগুড়া ও দিনাজপুরের ৮টি উপজেলাকে। এরমধ্যে পাইলট প্রকল্প শুরু হচ্ছে বগুড়ার গাবতলী ও দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায়। এ ক্ষেত্রে হতদরিদ্র ও দরিদ্র পরিবারের সদস্যরা অগ্রাধিকারভিত্তিতে ফ্যামিলি কার্ড পাবেন বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এজন্য সুবিধাভোগী বাছাইয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সবশেষ খানা জরিপকে আমলে নেওয়া হচ্ছে।
ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা ও লক্ষ্য
এই কার্ডের মাধ্যমে নির্বাচিত পরিবারগুলোকে সরাসরি নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সহায়তার এই অর্থ পরিবারের নারী সদস্য বা গৃহকর্ত্রীর হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে, যা নারীর ক্ষমতায়নে ভূমিকা রাখবে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বিদ্যমান অন্যান্য সামাজিক ভাতার তুলনায় এই কার্ডের আওতায় সহায়তার পরিমাণ বেশি হবে।
আবেদন প্রক্রিয়া ও তথ্য সংগ্রহ
একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেস তৈরির মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে প্রতিটি পরিবারের তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। এর ফলে সহায়তা বিতরণে অনিয়ম ও মধ্যস্থতা কমবে। প্রাথমিকভাবে দেশের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই কার্যক্রম শুরু হবে। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে উপকারভোগীদের তালিকা তৈরি করে সারা দেশে এটি সম্প্রসারণ করা হবে।
৪ তথ্য দিলেই মিলবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, কারা পাবেন— কারা পাবেন না
কারা পাবেন এই কার্ড? (Who will get the Family Card?)
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় (Ministry of Social Welfare) প্রণীত ‘ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন গাইডলাইন-২০২৬’ অনুযায়ী, এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো সমাজের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে সহায়তার আওতায় আনা। নীতিমালায় সুনির্দিষ্টভাবে ৭ শ্রেণির মানুষকে অগ্রাধিকার (Priority List) দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অগ্রাধিকার প্রাপ্ত ৭ শ্রেণির তালিকা:
১. ভূমিহীন (Landless) ব্যক্তি বা পরিবার।
২. গৃহহীন (Homeless) মানুষ যাদের নিজস্ব বাসস্থান নেই।
৩. প্রতিবন্ধী সদস্য (Family with Disabled Member) রয়েছে এমন পরিবার।
৪. হিজড়া (Third Gender/Hijra) সম্প্রদায়ের সদস্যগণ।
৫. বেদে (Bede Community) বা যাযাবর গোষ্ঠী।
৬. ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবার (Ethnic Minority Families)।
৭. স্বল্প জমির মালিক (Small Landowners) যাদের জমির পরিমাণ ০.৫ একর বা তার কম।
সরকার মনে করছে, একটি পরিবারকে কার্ডের আওতায় আনলে সেই পরিবারের সকল সদস্যের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা (Social Security) নিশ্চিত হবে। এই নীতিমালাটি খুব শীঘ্রই প্রজ্ঞাপন (Official Gazette) আকারে জারি করা হবে। ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী নিজেই এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাবেন না যে ৬ শ্রেণির নাগরিক
জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ডের এই সুবিধা সব শ্রেণির মানুষ পাবেন না। এই সুবিধার আওতার বাইরে থাকবেন ৬ শ্রেণির মানুষ।
তাদের বাইরে রেখেই ‘ফ্যামিলি কার্ড নীতিমালা’ চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এই ৬ শ্রেণির নাগরিক হলেন
১. পরিবারের কেউ সরকারের পেনশনভোগী থাকলে।
২. বাড়িতে এসি ব্যবহারকারী।
৩. গাড়িসহ বিলাসবহুল সম্পদের মালিক হলে।
৪. পরিবারের সদস্য সরকারি চাকরিজীবী হলে।
৫. বাণিজ্যিক লাইসেন্স থাকলে।
৬. বড় ব্যবসা থাকলে।
এদিকে, হতদরিদ্র, দরিদ্র, নিম্নবিত্ত— এই তিন শ্রেণির সবাই আগেই কার্ড পাবেন। ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সবার হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেবে সরকার।
আবেদন করতে যা যা লাগবে
যদিও আবেদন প্রক্রিয়া এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হয়নি, তবে প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে নিচের কাগজগুলো সংগ্রহে রাখতে বলা হয়েছে—
- ১. আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)।
- ২. পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।
- ৩. একটি সচল মোবাইল নম্বর।
আবেদন কোথায় করবেন
পাইলট প্রকল্প শেষে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা কাউন্সিলর কার্যালয় থেকে সরাসরি আবেদন ফর্ম সংগ্রহ করা যাবে। এ ছাড়া ঘরে বসে দ্রুত আবেদনের জন্য একটি অনলাইন পোর্টাল চালুর প্রস্তুতিও নিচ্ছে সরকার। প্রতি পরিবারে কেবল একটি কার্ড ইস্যু করা হবে, যার মাধ্যমে মাসিক নগদ টাকা বা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়া যাবে।
১৪ উপজেলায় পাইলটিংয়ের মাধ্যমে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ শুরু ১০ মার্চ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১০ মার্চ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণের পরীক্ষামূলক (পাইলটিং) কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। ওইদিন দেশের ১৪টি উপজেলায় এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হবে।
অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও তথ্য সেবা
টিসিবি স্মার্ট কার্ড সেবা সম্পর্কিত সব তথ্য বিস্তারিত জানতে এবং সব সর্বশেষ আপডেট পেতে নিচের সরকারি অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন:
🌐 টিসিবি স্মার্ট কার্ড অফিসিয়াল ওয়েবসাইট(উপরে দেওয়া লিঙ্কে ক্লিক করে সরাসরি সরকারি পোর্টালে প্রবেশ করুন)
