সংস্কৃত বিভাগ: বইয়ের তালিকা ও একাডেমিক সিলেবাস (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়)
সংস্কৃত (Sanskrit) পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন ও সমৃদ্ধ ভাষা, যা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। এই ভাষার সঙ্গে গ্রিক, ল্যাটিন, পারসিয়ানসহ বহু প্রাচীন ভাষার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং দক্ষিণ এশিয়ার অধিকাংশ আধুনিক ভাষার উৎপত্তিও সংস্কৃত থেকে হয়েছে। প্রাচীন ভারতীয় ধর্ম, দর্শন, সাহিত্য, ব্যাকরণ ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানভান্ডার এই ভাষার মধ্যেই সংরক্ষিত রয়েছে।
বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত চার বছর মেয়াদি বি.এ (সম্মান) সংস্কৃত প্রোগ্রাম শিক্ষার্থীদের সংস্কৃত ভাষা, সাহিত্য, ব্যাকরণ, দর্শন এবং প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাস সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জনের সুযোগ প্রদান করে। এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সংস্কৃত ভাষার মৌলিক কাঠামো, প্রাচীন সাহিত্য, বেদ ও উপনিষদ, কাব্য, নাটক এবং ভাষাতাত্ত্বিক গবেষণার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিস্তৃত ধারণা লাভ করে।
একাডেমিক সিলেবাসের কার্যকারিতা
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের চার বছর মেয়াদি অনার্স কোর্সের সিলেবাস বিভিন্ন সময়ে কার্যকর করা হয়েছে।
• প্রথম বর্ষের সিলেবাস কার্যকর হয়েছে ২০২৪–২০২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে। এতে সংস্কৃত সাহিত্যের ইতিহাস (History of Sanskrit Literature), সংস্কৃত ভাষা ও ব্যাকরণ-১, বৈদিক সাহিত্যের ইতিহাস, সংস্কৃত গল্প সাহিত্য, বাংলাদেশের ইতিহাস এবং আইসিটি সহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
• দ্বিতীয় বর্ষের সিলেবাস কার্যকর হয়েছে ২০১৩–২০১৪ সেশন থেকে। এই বর্ষে সংস্কৃত ভাষা-২, সংস্কৃত কাব্য, সংস্কৃত গদ্য, সংস্কৃত অলঙ্কারশাস্ত্র (Sanskrit Poetics), বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞান অথবা বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতি এবং বাংলাদেশের অর্থনীতি বিষয়গুলো পড়ানো হয়।
• তৃতীয় বর্ষের সিলেবাস কার্যকর হয়েছে ২০১৩–২০১৪ সেশন থেকে। এতে সংস্কৃত ব্যাকরণ-১, বৈদিক সাহিত্য ও ব্যাকরণ, সংস্কৃত নাটক (কালিদাস ও পূর্ব-কালিদাস), বৈদিক ও সংস্কৃত ছন্দ, ভাষাতত্ত্ব ও সংস্কৃত ভাষাতত্ত্ব, ভারতীয় দর্শন এবং প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
• চতুর্থ বর্ষের সিলেবাস কার্যকর হয়েছে ২০১৩–২০১৪ সেশন থেকে। এই বর্ষে সংস্কৃত ব্যাকরণ-২, সংস্কৃত মহাকাব্য, পুরাণ ও দার্শনিক কাব্য, কালিদাস-পরবর্তী সংস্কৃত নাটক, সংস্কৃত নীতি কাব্য, সংস্কৃত ঐতিহাসিক কাব্য, প্রাচীন ভারতীয় রাজনীতি এবং অনুবাদ ও প্রবন্ধ সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই পেজে যা পাবেন
এই পেজে সংস্কৃত বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো একত্রে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেমন—
• বর্ষভিত্তিক সম্পূর্ণ একাডেমিক সিলেবাস
• প্রতিটি বিষয়ের পেপার কোড, নম্বর ও ক্রেডিট
• গুরুত্বপূর্ণ বইয়ের তালিকা (Book List)
• প্রতিটি কোর্সের বিষয়ভিত্তিক টপিক ও অধ্যায়সমূহ
এই তথ্যগুলো সংস্কৃত বিভাগের শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং গবেষকদের জন্য পাঠ্যসূচি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা প্রদান করবে এবং তাদের একাডেমিক প্রস্তুতি গ্রহণকে আরও সহজ ও সুশৃঙ্খল করতে সহায়তা করবে।
বিশেষ সহায়তা
Special WhatsApp Study Group-এ যুক্ত হতে নিচের লিংকে ক্লিক করো।
সংস্কৃত অনার্স ১ম বর্ষ সিলেবাস
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত অনার্স প্রথম বর্ষের সিলেবাসটি ২০২৪–২০২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর হয়েছে। এই বর্ষে মোট ৭টি বিষয় রয়েছে এবং এর সাথে একটি আইসিটি ল্যাব অন্তর্ভুক্ত আছে। এর মধ্যে ৪টি মূল বাধ্যতামূলক বিষয়, ১টি অপশনাল বিষয় এবং আইসিটি ও আইসিটি ল্যাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রথম বর্ষে শিক্ষার্থীদের সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যের মৌলিক ভিত্তি তৈরি করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এখানে সংস্কৃত সাহিত্যের ইতিহাস, সংস্কৃত ভাষা ও ব্যাকরণ, বৈদিক সাহিত্যের ইতিহাস এবং সংস্কৃত গল্প সাহিত্য পড়ানো হয়। পাশাপাশি সাধারণ জ্ঞানের অংশ হিসেবে একটি অপশনাল বিষয় নির্বাচন করতে হয়। এই বর্ষে মোট নম্বর ৭০০ এবং মোট ক্রেডিট ২৮।
সংস্কৃত অনার্স ২য় বর্ষ সিলেবাস
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের সিলেবাস ২০১৩–২০১৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর হয়েছে। এই বর্ষে মোট ৬টি প্রধান বিষয় রয়েছে এবং এর পাশাপাশি একটি ইংরেজি বাধ্যতামূলক কিন্তু নন-ক্রেডিট বিষয় রয়েছে।
এই বর্ষে শিক্ষার্থীরা সংস্কৃত ভাষা-২, সংস্কৃত কবিতা, সংস্কৃত গদ্য এবং সংস্কৃত অলংকারশাস্ত্র অধ্যয়ন করে। পাশাপাশি বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতি অথবা সমাজবিজ্ঞান থেকে একটি অপশনাল বিষয় নির্বাচন করার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের অর্থনীতি বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই বর্ষে মোট নম্বর ৬০০ এবং মোট ক্রেডিট ২৪।
সংস্কৃত অনার্স ৩য় বর্ষ সিলেবাস
সংস্কৃত অনার্স তৃতীয় বর্ষের সিলেবাস ২০১৩–২০১৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর হয়েছে। এই বর্ষে মোট ৮টি বাধ্যতামূলক বিষয় রয়েছে এবং প্রতিটি বিষয়ের পূর্ণমান ১০০।
এই বর্ষে সংস্কৃত ব্যাকরণ, বৈদিক সাহিত্য ও ব্যাকরণ, কালিদাস ও প্রাক-কালিদাস যুগের নাটক, সংস্কৃত ছন্দশাস্ত্র, ভাষাতত্ত্ব, ভারতীয় দর্শন, প্রাচীন ভারতের ইতিহাস ও সংস্কৃতি এবং পাণ্ডুলিপি বিদ্যা (Manuscript Studies) পড়ানো হয়। এই বর্ষে মোট নম্বর ৮০০ এবং মোট ক্রেডিট ৩২।
সংস্কৃত অনার্স ৪র্থ বর্ষ সিলেবাস
সংস্কৃত অনার্স চতুর্থ বর্ষের সিলেবাস ২০১৩–২০১৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর হয়েছে। এই বর্ষে মোট ১০টি বাধ্যতামূলক বিষয় রয়েছে এবং প্রতিটি বিষয়ের পূর্ণমান ১০০।
এই বর্ষে সংস্কৃত ব্যাকরণ-২, সংস্কৃত মহাকাব্য, পুরাণ ও দার্শনিক কবিতা, কালিদাস-পরবর্তী সংস্কৃত নাটক, নীতিকবিতা, ঐতিহাসিক কবিতা, প্রাচীন ভারতীয় রাষ্ট্রবিজ্ঞান, বাংলার প্রত্নতত্ত্ব, প্রবন্ধ-রচনা ও অনুবাদ এবং Viva-voce পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই বর্ষে মোট নম্বর ১০০০ এবং মোট ক্রেডিট ৪০।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত অনার্স চার বছর মেয়াদি এই কোর্সটি ধাপে ধাপে শিক্ষার্থীদের সংস্কৃত ভাষা, সাহিত্য, দর্শন ও প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাস সম্পর্কে গভীর জ্ঞান প্রদান করার জন্য পরিকল্পিত। প্রথম বর্ষে ভাষা ও সাহিত্যের মৌলিক ভিত্তি গড়ে তোলা হয়, দ্বিতীয় বর্ষে সাহিত্য ও ব্যাকরণ সম্পর্কে আরও বিস্তৃত জ্ঞান দেওয়া হয়। তৃতীয় বর্ষে ভাষাতত্ত্ব, দর্শন এবং প্রাচীন ইতিহাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পড়ানো হয় এবং চতুর্থ বর্ষে উন্নত সাহিত্য, পুরাণ, নাটক ও গবেষণামূলক বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এই সিলেবাস অনুসরণ করে শিক্ষার্থীরা সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যে দক্ষতা অর্জন করতে পারে এবং ভবিষ্যতে শিক্ষা, গবেষণা, অনুবাদ, প্রত্নতত্ত্ব বা বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ক্ষেত্রে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ পায়। তাই সংস্কৃত অনার্সের এই সিলেবাসটি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সমৃদ্ধ শিক্ষাক্রম হিসেবে বিবেচিত।
