আলিম পরীক্ষা ২০২৬ - আল-ফিকহ ২য় পত্র (উসূুল ও ফারায়িজ) সমাধান
বিষয়: আল-ফিকহ ২য় পত্র (الفقه - الورقة الثانية) | বিষয় কোড: ২০৪
আসসালামু আলাইকুম। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষা ২০২৬ এর সাধারণ, বিজ্ঞান ও মুজাব্বিদ মাহির বিভাগের শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে আজ আমরা নিয়ে এসেছি ফিকহ ২য় পত্র (উসূুলুল ফিকহ ও ফারায়িজ) এর সম্পূর্ণ সমাধানপত্র। উত্তরগুলো নির্ভুল এবং কুরআন, হাদীস, ইজমা ও কিয়াসের প্রামাণ্য দলিলসহ অত্যন্ত সহজ ভাষায় সাজানো হয়েছে, যা পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার জন্য সাহায্য করবে।
প্রথম অংশ: উসূুলুল ফিকহ (أصول الفقه) - ৬০ নম্বর
১ নং প্রশ্ন ও উত্তর:
প্রশ্ন: أصول الشرع كم هي وما هي؟ لم قال المصنف (رح) أصول الشرع ولم يقل أصول الفقه؟ بين بالتفصيل.
অনুবাদ: উসূলে শরীয়ত (শরিয়তের উৎসসমূহ) কয়টি ও কী কী? গ্রন্থকার কেন "উসূলে শরীআত" বললেন এবং "উসূলে ফিকহ" বললেন না? বিস্তারিত আলোচনা করো।
ক. শরীয়তের উৎসসমূহ ও প্রকারভেদ:
ইসলামী শরীয়তের উৎস বা দলিলসমূহ প্রধানত ৪ (চার)টি। যথা:
- ১. কিতাবুল্লাহ (كتاب الله) বা আল-কুরআন: শরীয়তের সর্বপ্রধান ও মৌলিক উৎস।
- ২. সুন্নাহ (سنة رسول الله) বা হাদীস: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী, কর্ম ও মৌনসম্মতি।
- ৩. ইজমা (إجماع الأمة): কোনো যুগের যোগ্য ও মুজতাহিদ ফকীহগণের ঐকমত্য।
- ৪. কিয়াস (القياس): কুরআন ও সুন্নাহর মূলনীতির আলোকে সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়ের যুক্তিভিত্তিক সমাধান।
খ. গ্রন্থকার কেন 'উসূলে শরীআত' বললেন এবং 'উসূলে ফিকহ' বললেন না:
- শরীআত (الشرع) শব্দের পরিধি ফিকহ (الفقه) অপেক্ষা অনেক বড় ও ব্যাপক। শরীআত আকীদা (বিশ্বাস) এবং আমল (বাস্তব আচরণ) উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। কিন্তু ফিকহ কেবল মানুষের বাহ্যিক আমল ও উপাসনা সংক্রান্ত বিধিবিধানের সাথে যুক্ত।
- শরীআতের উৎসসমূহ সরাসরি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে নাযিলকৃত ও নির্ধারিত। অন্যদিকে, ফিকহ হলো মানুষের দ্বারা সেই উৎস থেকে আহরণ ও গবেষণা করার প্রক্রিয়া। তাই উৎসগুলোকে 'উসূলে শরীআত' বা শরীআতের মূল ভিত্তি বলাই অধিক উপযুক্ত।
২ নং প্রশ্ন ও উত্তর:
প্রশ্ন: ما هو تعديل الأركان؟ علام فرّع المصنف (رح) بقوله "فلا يجوز إلحاق التعديل بأمر الركوع والسجود على سبيل الفرض"؟ فصل مع بيان اختلاف الأئمة.
অনুবাদ: তাদিলুল আরকান (নামাজের রোকনসমূহ ধীরস্থিরভাবে আদায় করা) কী? গ্রন্থকার কোন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে তাঁর এই উক্তি "fala yajuzu ilhaqut ta'dil bi amrir ruku'i was sujud 'ala sabilil fard" (রুকু ও সেজদায় তাদিল বা ধীরস্থিরতাকে ফরজ হিসেবে গণ্য করা জায়েজ নয়) তৈরি করেছেন? ইমামদের মতবিরোধসহ বিস্তারিত আলোচনা করো।
ক. তাদিলুল আরকানের সংজ্ঞা:
তাদিলুল আরকান বা তুমানীনাহ বলতে নামাজের রোকনসমূহ (যেমন রুকু, সেজদা, রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানো ও দুই সেজদার মাঝখানে বসা) ধীরস্থিরভাবে ও শান্তভাবে আদায় করাকে বোঝায়, যাতে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো নিজের স্থানে স্থির হতে পারে।
খ. তাদিলুল আরকানের বিধান ও ইমামদের মতবিরোধ:
- ইমাম আবু ইউসুф ও ইমাম শাফেয়ী (র.)-এর মতে: তাদিলুল আরকান নামাজের একটি ফরজ (فرض) রোকন। এটি না করলে নামাজ বাতিল হবে।
- ইмам আবু হানিফা ও ইমাম মুহাম্মদ (র.)-এর মতে: তাদিলুল আরকান করা ওয়াজিব (واجب), ফরজ নয়। অর্থাৎ কেউ ভুলবশত এটি না করলে সেজদায়ে সাহু দিতে হবে এবং ইচ্ছাকৃত ছেড়ে দিলে নামাজ পুনরায় পড়তে হবে, তবে নামাজ সরাসরি বাতিল হয়ে যাবে না।
গ্রন্থকারের উক্তির ভিত্তি: হানাফী উসূলবিদদের মতে, তাদিলুল আরকান সংক্রান্ত হাদীসটি হলো 'খবরে ওয়াহিদ' (একক বর্ণনা)। খবরে ওয়াহিদ দ্বারা কোনো আমলকে 'ফরজ' নির্ধারণ করা যায় না, কারণ ফরজ প্রমাণের জন্য সুনিশ্চিত দলিল (قطعي الثبوت) প্রয়োজন। তাই খবরে ওয়াহিদ দ্বারা তাদিলুল আরকানকে ওয়াজিব সাব্যস্ত করা হয়েছে, ফরজ নয়। আর এ কারণেই গ্রন্থকার বলেছেন, রুকু ও সেজদায় তাদিল বা ধীরস্থিরতাকে ফরজ হিসেবে যুক্ত করা জায়েজ নয়।
৩ নং প্রশ্ন ও উত্তর:
প্রশ্ন: ما هو الأمر؟ هل الأمر يقتضى التكرار ويحتمله؟ وما الاختلاف فيه بين الأئمة؟ بيّن مع الدلائل.
অনুবাদ: আমর (আদেশসূচক শব্দ) কাকে বলে? আমর কি কাজের পুনরাবৃত্তি (তাকরার) দাবি করে বা বহন করে? এ বিষয়ে ইমামদের মধ্যে মতভেদ কী কী? দলিলসহ বর্ণনা করো।
ক. আমরের সংজ্ঞা:
উসূলে ফিকহের পরিভাষায়, আমর (الأمر) হলো এমন শব্দ বা উক্তি যার মাধ্যমে উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন কোনো ব্যক্তি নিম্ন মর্যাদার কাউকে কোনো কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয় (قول القائل لمن دونه افعل)।
খ. আমর কি কাজের পুনরাবৃত্তি (তাকরার) দাবি করে বা বহন করে:
এ বিষয়ে ইমামদের মধ্যে মতবিরোধ নিম্নরূপ:
- হানাফী মাযহাবের অগ্রগণ্য মত: আমর বা আদেশের শব্দ কেবল একবার কাজটি করার দাবি করে (يقتضي المرة ولا يقتضي التكرار)। কাজটি একবার সম্পন্ন করলেই আদেশের আনুগত্য প্রকাশ পায়। তবে যদি আদেশটির সাথে কোনো পুনরাবৃত্তিমূলক কারণ বা শর্ত যুক্ত থাকে (যেমন নামাজের জন্য সময় বা সূর্যাস্ত), তবে তা পুনরাবৃত্তি নির্দেশ করবে।
- ইমাম শাফেয়ী (র.)-এর মত: আমর সরাসরি পুনরাবৃত্তি দাবি করে না, তবে এর মধ্যে পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা (احتمال) থাকে যদি অন্য কোনো বাহ্যিক লক্ষণ বা দলিল তা নির্দেশ করে।
দলিল: আল্লাহ তাআলা আদেশ করেছেন:
أَقِيمُوا الصَّلَاةَ
অর্থ: "তোমরা নামাজ কায়েম করো।" এই নির্দেশটি যদি কেবল একবার আদায়ের জন্য হতো, তবে সারাজীবনে একবার নামাজ পড়লেই হতো। কিন্তু সময়ের সাথে নামাজ বারবার ফরজ হওয়ার মূল কারণ হলো নামাজের ওয়াক্তসমূহ বারবার ফিরে আসা।
৪ নং প্রশ্ন ও উত্তর:
প্রশ্ন: عرف الأداء والقضاء. هل يجوز الأداء بنية القضاء والقضاء بنية الأداء. أوضح مع بيان اختلاف الأئمة.
অনুবাদ: আদানি ও কাযা (আদায় ও কাযা) এর সংজ্ঞা দাও। আদায়ের নিয়তে কি কাযা করা এবং কাযার নিয়তে কি আদায় করা জায়েজ? ইমামদের মতবিরোধসহ ব্যাখ্যা করো।
ক. আদায় ও কাযার সংজ্ঞা:
- আদায় (الأداء): শরীয়ত নির্ধারিত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ওয়াজিব বা আমলটি যথাযথভাবে সম্পাদন করাকে আদায় বলে।
- কাযা (القضاء): শরীয়ত নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ার পর সেই বাদ পড়ে যাওয়া আমল বা ওয়াজিবটি অন্য সময়ে সম্পাদন করাকে কাযা বলে।
খ. আদায়ের নিয়তে কাযা এবং কাযার নিয়তে আদায় করার বিধান:
- হানাফী মাযহাবের মতে: যদি সময়ের ব্যাপারে কোনো অস্পষ্টতা থাকে এবং কোনো ব্যক্তি ভুলবশত আদায়ের নিয়তে কাযা বা কাযার নিয়তে আদায় করে ফেলে, তবে তার নামাজ শুদ্ধ হয়ে যাবে। কারণ মূল দায়িত্বটি আদায়ের জন্য মনের সংকল্পই যথেষ্ট।
- ইমাম শাফেয়ী (র.)-এর মতে: আদায়ের নিয়তে কাযা বা কাযার নিয়তে আদায় করা শুদ্ধ নয়, কারণ প্রতিটি কাজের জন্য পৃথক ও সুনির্দিষ্ট নিয়ত থাকা শর্ত। তবে নামাজের ক্ষেত্রে ভুলবশত এমনটি হলে তা মাফ করা হবে।
৫ নং প্রশ্ন ও উত্তর:
প্রশ্ন: ما هو العام لغة وشرعاً؟ هل يجوز نسخ الخاص بالعام؟ بين أقوال العلماء بالأدلة والأمثلة.
অনুবাদ: আম (সাধারণ শব্দ) এর শাব্দিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা কী? আম দ্বারা কি খাস (বিশেষ শব্দ) এর হুকুম মানসুখ (রহিত) করা জায়েজ? দলিল ও উদাহরণসহ উলামাদের উক্তিগুলো বর্ণনা করো।
ক. আম-এর সংজ্ঞা:
- শাব্দিক অর্থ: আম (العام) শব্দের শাব্দিক অর্থ হলো সাধারণ বা ব্যাপক।
- পারিভাষিক অর্থ: উসূলে ফিকহের পরিভাষায়, যে শব্দ বা লফয একক অর্থ প্রকাশের মাধ্যমে এক জাতীয় সকল ব্যক্তি বা বস্তুকে কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই শামিল করে, তাকে আম বলে (هو اللفظ المستغرق لجميع ما يصلح له دفعة واحدة)।
খ. আম দ্বারা কি খাসের হুকুম রহিত (নসখ) করা জায়েয:
এ বিষয়ে উলামাদের মধ্যে ৩টি প্রধান উক্তি বা মত রয়েছে:
- হানাফী মাযহাবের মত (জায়েয ও সাব্যস্ত): যদি আম শব্দটি খাস শব্দের পরে অবতীর্ণ বা ঘোষিত হয় এবং উভয়ের মাঝে স্পষ্ট বিরোধ থাকে, তবে আম শব্দ দ্বারা পূর্ববর্তী খাস শব্দের হুকুম রহিত বা মানসুখ হয়ে যাবে। কারণ হানাফীদের নিকট আম-এর হুকুম সুনিশ্চিত (قطعي)।
- ইمام শাফেয়ী (র.)-এর মত (না-জায়েয): আম দ্বারা খাসের হুকুম নসখ বা রহিত করা যাবে না, বরং খাস শব্দ দ্বারা আম শব্দের হুকুমকে নির্দিষ্ট বা তখসীস (تخصيص) করতে হবে।
উদাহরণ: কুরআনের সাধারণ আয়াত:
وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلَاثَةَ قُرُوءٍ
অর্থ: "তালাকপ্রাপ্তা নারীগণ ৩ হায়েয পর্যন্ত অপেক্ষা করবে।" এটি একটি সাধারণ (আম) নির্দেশ। কিন্তু গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে খাস আয়াত হলো:
وَأُولَاتُ الْأَحْمَالِ أَجَلُهُنَّ أَنْ يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ
অর্থ: "গর্ভবতীদের ইদ্দত সন্তান প্রসব পর্যন্ত।"
৬ নং প্রশ্ন ও উত্তর:
প্রশ্ন: عرف النهي مع فوائد قيوده بالتفصيل ثم بين أقسامه بالأمثلة.
অনুবাদ: নেহী (নিষেধাজ্ঞা) এর সংজ্ঞা ও তার প্রতিটি শর্তের প্রয়োজনীয়তা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করো এবং উদাহরণসহ এর প্রকারভেদ বর্ণনা করো।
ক. নেহীর সংজ্ঞা ও শর্তাবলির প্রয়োজনীয়তা:
পরিভাষায়: «النهي هو قول القائل لمن دونه لا تفعل على وجه الاستعلاء» অর্থাৎ, উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ব্যক্তি কর্তৃক নিম্ন মর্যাদার কাউকে কোনো কাজ করতে নিষেধ করা।
শর্তাবলির উপকারিতা (فوائد القيود):
- 'লা তাফআল' (لا تفعل) অংশটি দ্বারা যেকোনো প্রকার নিষেধাজ্ঞা বা বারণ বোঝানো হয়েছে, যা আদেশ বা আমরের বিপরীত।
- 'আল-ইস্তিলা' (وجه الاستعلاء) বা কর্তৃত্বের শর্তটি দ্বারা সমকক্ষদের অনুরোধ বা ছোটদের আবদার থেকে নিষেধাজ্ঞাকে পৃথক করা হয়েছে।
খ. নেহীর প্রকারভেদ ও উদাহরণ:
নেহী বা নিষেধাজ্ঞা প্রধানত ২ প্রকার। যথা:
- নেহী আনিল কুবেহ লি-আইনিহি (নিষেধকৃত কাজের সত্তাগত ত্রুটির কারণে): যা নিজের মূল রূপের কারণেই মন্দ বা অপবিত্র। যেমন: ব্যভিচার করা (الزنا), কুফর বা শিরক করা।
- নেহী আনিল কুবেহ লি-গায়রিহি (বাহ্যিক বা অন্য কোনো কারণে মন্দ): যা মূলত বৈধ কিন্তু কোনো বাহ্যিক পরিস্থিতির কারণে নিষেধ করা হয়েছে। যেমন: জুমার আযানের সময় বেচাকেনা করা, বা ঈদের দিনে রোযা রাখা।
৭ নং প্রশ্ন ও উত্তর:
প্রশ্ন: ما هو المجاز وما حكمه؟ هل للمجاز عموم عندكم؟ أوضح بالأمثلة.
অনুবাদ: মাজায (রূপক অর্থ) কাকে বলে এবং এর বিধান কী? আপনাদের (হানাফীদের) মতে কি মাজাযের মধ্যে আম বা সাধারণ হুকুম প্রযোজ্য হয় (মাজাযের কি উমুম আছে)? উদাহরণসহ বুঝিয়ে বলো।
ক. মাজাযের সংজ্ঞা ও বিধান:
- সংজ্ঞা: যে শব্দকে তার মূল শাব্দিক অর্থ ব্যতীত অন্য কোনো অর্থ প্রকাশের জন্য ব্যবহার করা হয়, তাকে মাজায বা রূপক অর্থ বলে (اللفظ المستعمل في غير ما وضع له لقرينة)।
- বিধান: মূল সত্য অর্থ বা হাকীকত (الحقيقة) গ্রহণ করা অসম্ভব হলে তবেই মাজায বা রূপক অর্থ গ্রহণ করা ওয়াজিব হয়।
খ. মাজাযের ক্ষেত্রে কি 'উমুম' বা সাধারণ হুকুম প্রযোজ্য হয়:
এ বিষয়ে হানাফী ফকীহগণের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে:
- ইমাম আবু হানিফা (র.)-এর মতে: মাজায বা রূপক অর্থের কোনো উমুম বা সাধারণ হুকুম হয় না (لا عموم للمجاز)। রূপক অর্থটি কেবল নির্দিষ্ট একটি অর্থে সীমাবদ্ধ থাকে।
- সাহেবাইন (ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ)-এর মতে: মাজাযের উমুম বা সাধারণ রূপ হতে পারে যদি প্রথা বা লফযের দ্বারা তা স্পষ্ট হয়।
উদাহরণ: কোনো ব্যক্তি যদি কসম করে বলে:
لا أضع قدمي في دار فلان
অর্থ: "আমি অমুকের ঘরে পা রাখব না।" হাকীকত অনুযায়ী এর অর্থ হলো পা রাখা, কিন্তু মাজায বা রূপক অর্থ হলো তার ঘরে প্রবেশ করা (الدخول)। ইমাম আবু হানিফার মতে, এটি কেবল নিজের পায়ে হেঁটে প্রবেশ করাকে অন্তর্ভুক্ত করে, কোনো গাড়িতে চড়ে প্রবেশ করলে কসম ভাঙবে না।
দ্বিতীয় অংশ: আল-ফারায়িজ (الفرائض) - ৪০ নম্বর
৮ নং প্রশ্ন ও উত্তর:
প্রশ্ন: ما معنى المانع لغة واصطلاحاً؟ ثم بين أقسام الموانع للإرث موضحاً.
অনুবাদ: মানে' (উত্তরাধিকারের প্রতিবন্ধক) এর শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ কী? উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করার প্রতিবন্ধকসমূহ (মানি'উল ইরস) উদাহরণসহ বর্ণনা করো।
ক. মানি' বা প্রতিবন্ধক-এর সংজ্ঞা:
- শাব্দিক অর্থ: বাধা, বারণ, বা প্রতিরোধকারী (المنع ও الحائل)।
- পারিভাষিক অর্থ: ইসলামী উত্তরাধিকার আইনের পরিভাষায়, উত্তরাধিকারী হওয়া সত্ত্বেও যে সকল বিষয়ের উপস্থিতির কারণে কোনো ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে অংশ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়, তাকে মানি' বা প্রতিবন্ধক (المانع للإرث) বলে।
খ. উত্তরাধিকারের প্রতিবন্ধকসমূহ:
ফারায়িজ শাস্ত্র অনুযায়ী উত্তরাধিকারের প্রধান প্রতিবন্ধক ৪টি। যথা:
- আর-রিক্ক (الرق) বা দাসত্ব: কোনো ব্যক্তি ক্রীতদাস হলে সে তার মনিব বা আত্মীয়দের সম্পত্তির ওয়ারিস হতে পারে না।
- আল-কাতল (القتل) বা হত্যাকাণ্ড: কোনো ওয়ারিস যদি তার মূল মৃত ব্যক্তিকে (যাঁর সম্পত্তি সে পেত) অন্যায়ভাবে হত্যা করে, তবে সে সম্পত্তি থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হবে। হাদীস: «لا يرث القاتل شيئاً» (হত্যাকারী কোনো উত্তরাধিকার পাবে না)।
- ইখতিলাফুদ দ্বীন (اختلاف الدين) বা ধর্মের ভিন্নতা: মুসলিম অমুসলিমের এবং অমুসলিম মুসলিমের ওয়ারিস হতে পারে না।
- ইখতিলাফুদ দার (اختلاف الدار) বা রাষ্ট্রের ভিন্নতা: দুই ভিন্ন দেশের অমুসলিম যিম্মি নাগরিকরা একে অপরের ওয়ারিস হতে পারে না।
৯ নং প্রশ্ন ও উত্তর:
প্রশ্ন: الفروض المقدرة في كتاب الله تعالى كم هي وما هي؟ ومن هم مستحقوها؟ ثم اذكر أحوال بنات الصلب ممثلا.
অনুবাদ: মহান আল্লাহর কিতাবে নির্ধারিত অংশসমূহ (আল-ফুরুযুল মুকাদ্দারা) কয়টি ও কী কী? এর হকদার কারা? অতঃপর উদাহরণসহ আপন কন্যাদের (বানাতুস সুলব) উত্তরাধিকারের অবস্থাসমূহ উল্লেখ করো।
ক. কুরআন নির্ধারিত অংশসমূহ ও হকদারগণ:
পবিত্র কুরআনে নির্ধারিত মিরাসের অংশ বা হার হলো ৬টি। যথা:
- ১. অর্ধেক (النصف - ১/২): এর হকদার ৫ জন (কন্যা, পৌত্রী, সহোদরা বোন, বৈমাত্রেয় বোন এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে স্বামী)।
- ২. এক-চতুর্থাংশ (الربع - ১/৪): এর হকদার ২ জন (স্বামী ও স্ত্রী)।
- ৩. এক-অষ্টমাংশ (الثمن - ১/৮): এর হকদার কেবল স্ত্রী (সন্তান থাকলে)।
- ৪. দুই-তৃতীয়াংশ (الثلثان - ২/৩): এর হকদার ৪ জন নারী (একাধিক কন্যা, একাধিক পৌত্রী, একাধিক সহোদরা বোন এবং একাধিক বৈমাত্রেয় বোন)।
- ৫. এক-তৃতীয়াংশ (الثلث - ১/৩): এর হকদার মা এবং একাধিক বৈপিত্রীয় ভাই-বোন।
- ৬. এক-ষষ্ঠাংশ (السدس - ১/৬): এর হকদার ৭ জন (পিতা, পিতামহ, মাতা, মাতামহী, একক বৈপিত্রীয় ভাই/বোন, এক কন্যার সাথে পৌত্রী এবং সহোদরা বোনের সাথে বৈমাত্রেয় বোন)।
খ. আপন কন্যাদের উত্তরাধিকারের অবস্থাসমূহ:
আপন কন্যাদের মিরাসের অবস্থা ৩টি। যথা:
- কন্যা যদি একজন (একক) হয় এবং কোনো পুত্র না থাকে, তবে সে মোট সম্পত্তির অর্ধেক (১/২) পাবে। যেমন: স্বামী ও ১ কন্যা থাকলে কন্যা পাবে ১/২।
- কন্যা যদি একাধিক (২ বা তার বেশি) হয় এবং কোনো পুত্র না থাকে, তবে তারা সবাই মিলে দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩) পাবে।
- যদি কন্যার সাথে মৃত ব্যক্তির পুত্র (Ibn) থাকে, তবে তারা 'আছাবাহ' (عصبة بالغير) হিসেবে অবশিষ্ট সম্পদ ২:১ অনুপাতে ভাগ করে নেবে।
১০ নং প্রশ্ন ও উত্তর:
প্রশ্ন: اذكر أحوال بنات الابن بالتمثيل.
অনুবাদ: উদাহরণসহ পৌত্রী বা ছেলের ঘরের কন্যাদের (বানাতুল ইবন) উত্তরাধিকারের অবস্থাসমূহ বর্ণনা করো।
পৌত্রীদের (ছেলের ঘরের কন্যা - بنات الابن) উত্তরাধিকারের অবস্থাসমূহ:
পৌত্রীদের মিরাসের অবস্থা মোট ৬টি। যথা:
- ১/২ (অর্ধেক) পাবে: যদি সে একাকী হয় এবং মৃত ব্যক্তির কোনো আপন পুত্র, আপন কন্যা, সহোদর ভাই বা অন্য কোনো পৌত্র না থাকে।
- ২/৩ (দুই-তৃতীয়াংশ) পাবে: যদি তারা একাধিক হয় এবং উপরে উল্লেখিত কেউ না থাকে।
- ১/৬ (এক-ষষ্ঠাংশ) পাবে: যদি মৃত ব্যক্তির একজন মাত্র আপন কন্যা (Bint) থাকে, তবে পৌত্রী একাকী বা একাধিক যাই হোক না কেন, দুই-তৃতীয়াংশ পূর্ণ করার জন্য তারা ১/৬ পাবে।
- আছাবাহ (العصبة) হবে: যদি তাদের সমপর্যায়ের বা নিম্নপর্যায়ের কোনো পৌত্র বা পুত্র থাকে, তবে তাদের সাথে আছাবাহ হিসেবে ২:১ অনুপাতে অবশিষ্টাংশ পাবে।
- সম্পূর্ণ বঞ্চিত (হাজব) হবে: যদি মৃত ব্যক্তির আপন পুত্র (Ibn) থাকে, অথবা একাধিক আপন কন্যা থাকে (যদি না তাদের সাথে কোনো পৌত্র বা ভাই থাকে)।
১১ নং প্রশ্ন ও উত্তর:
প্রশ্ন: عرف العول. اذكر المخارج التي تعول والتي لا تعول وما هي المسألة المنبرية أوضح ممثلا.
অনুবাদ: আউল (Inheritance proportional reduction) এর সংজ্ঞা দাও। কোন কোন হরফ বা সংখ্যার ক্ষেত্রে আউল হয় এবং কোনগুলোর ক্ষেত্রে হয় না তা উল্লেখ করো। 'মাসয়ালাহ মিম্বারিয়াহ' কী? উদাহরণসহ বুঝিয়ে দাও।
ক. আউলের সংজ্ঞা:
উত্তরাধিকার আইনে যদি বন্টনকৃত মোট অংশের যোগফল মূল হরফ বা মখরাজের চেয়ে বেশি হয়ে যায়, তবে মোট মখরাজকে বৃদ্ধি করে বণ্টন করার পদ্ধতিকে আউল (العول) বা আনুপাতিক হ্রাসকরণ বলে।
খ. কোন কোন মখরাজে আউল হয় এবং কোনগুলোতে হয় না:
- যেসব মখরাজে আউল হয় না: ২, ৩, ৪, এবং ৮।
- যেসব মখরাজে আউল হয়: ৬, ১২, এবং ২৪।
- মখরাজ ৬ আউল হয়ে ৭, ۸, ৯, এবং ১০ পর্যন্ত যায়।
- মখরাজ ১২ আউল হয়ে ১৩, ১৫, এবং ১৭ পর্যন্ত যায়।
- মখরাজ ২৪ আউল হয়ে কেবল ২৭ পর্যন্ত যায়।
গ. মাসয়ালাহ মিম্বারিয়াহ (المسألة المنبرية):
আমীরুল মুমিনীন হযরত আলী (রা.) যখন কুফার মসজিদের মিম্বারে খুতবা দিচ্ছিলেন, তখন এক ব্যক্তি এসে জিজ্ঞাসা করল—কোনো ব্যক্তি স্ত্রী, পিতা-মাতা ও দুই কন্যা রেখে মারা গেলে কার অংশ কত হবে? তিনি তাৎক্ষণিক মিম্বারে দাঁড়িয়েই সমাধান দিয়ে বললেন: 'স্ত্রীর এক-অষ্টমাংশ (১/৮) পরিবর্তিত হয়ে এক-নবমাংশ (১/৯) হয়ে যাবে।'
গাণিতিক বিশ্লেষণ:
- মৃত ব্যক্তি রেখে গেছেন: স্ত্রী (১/৮ = ৩), পিতা (১/৬ = ৪), মাতা (১/৬ = ৪), ২ কন্যা (২/৩ = ১৬)।
- অংশের যোগফল: ৩ + ৪ + ৪ + ১৬ = ২৭।
- ফলাผล: মখরাজ ২৪ আউল হয়ে ২৭ এ রূপান্তরিত হলো। স্ত্রীর অংশ ৩/২৪ থেকে কমে ৩/২৭ অর্থাৎ ১/৯ হয়ে গেল। একেই 'মাসয়ালাহ মিম্বারিয়াহ' বলা হয়।
গাণিতিক সমাধান ও মুনাসাখা অংশ (الفرائض - ب) - ১০ নম্বর
১২ নং প্রশ্ন ও সমাধান:
প্রশ্ন: مات رجل عن أب وبنت وزوجة ثم ماتت الزوجة عن زوج وأم وابن ثم ماتت البنت عن زوج وبنتين وأخ. فكيف التصحيح والمناسخة؟
অনুবাদ: এক ব্যক্তি তার পিতা (Ab), এক কন্যা (Bint) ও এক স্ত্রী (Zawjah) রেখে মারা গেল। অতঃপর তার স্ত্রী (Zawjah) তার স্বামী (Zawj), মাতা (Umm) ও এক পুত্র (Ibn) রেখে মারা গেল। এরপর কন্যা (Bint) তার স্বামী (Zawj), দুই কন্যা (Bintain) ও এক ভাই (Akh) রেখে মারা গেল। এর তাসহীহ ও মুনাসাঁখা কীভাবে হবে?
ধাপ ১: ১ম মৃত্যু (ব্যক্তির মৃত্যু)
ওয়ারিসগণ: পিতা (Ab), কন্যা (Bint), স্ত্রী (Zawjah)।
- স্ত্রী (Zawjah) পাবেন: ১/৮ (সন্তানের উপস্থিতির কারণে) = ৩ অংশ।
- কন্যা (Bint) পাবেন: ১/২ = ১২ অংশ।
- পিতা (Ab) পাবেন: ১/৬ + আছাবাহ = ৯ অংশ।
- মূল মখরাজ: ২৪ (৩ + ১২ + ৯ = ২৪)।
ধাপ ২: ২য় মৃত্যু (স্ত্রীর মৃত্যু)
স্ত্রীর পূর্ববর্তী অংশ = ৩।
ওয়ারিসগণ: স্বামী (Zawj 2), মাতা (Umm 2), পুত্র (Ibn 2)।
- ২য় স্বামী পাবেন: ১/৪ = ৩ অংশ।
- ২য় মাতা পাবেন: ১/৬ = ২ অংশ।
- ২য় পুত্র পাবেন: আছাবাহ = ৭ অংশ।
- মখরাজ: ১২ (৩ + ২ + ৭ = ১২)।
- তাসহীহ তুলনা: পূর্ববর্তী অংশ ৩ এবং নতুন মখরাজ ১২ এর মধ্যে 'তাদাখুল' সম্পর্ক বিদ্যমান (১২ / ৩ = ৪)। ১ম টেবিলকে ৪ দিয়ে গুণ করতে হবে এবং ২য় টেবিলকে ১ দিয়ে গুণ করতে হবে।
- ১ম জামেয়া (Jamiah 1): ২৪ x ৪ = ৯৬
- পিতা পাবেন: ৯ x ৪ = ৩৬
- কন্যা পাবেন: ১২ x ৪ = ৪৮
- স্ত্রীর স্বামী পাবেন: ৩ x ১ = ৩
- স্ত্রীর মাতা পাবেন: ২ x ১ = ২
- স্ত্রীর পুত্র পাবেন: ৭ x ১ = ৭
ধাপ ৩: ৩য় মৃত্যু (কন্যার মৃত্যু)
কন্যার পূর্ববর্তী অংশ = ৪৮।
ওয়ারিসগণ: স্বামী (Zawj 3), ২ কন্যা (Bintain), ভাই (Akh)।
- কন্যার স্বামী পাবেন: ১/৪ = ৩ অংশ।
- ২ কন্যা পাবেন: ২/৩ = ৮ অংশ।
- ভাই পাবেন: আছাবাহ = ১ অংশ।
- মখরাজ: ১২ (৩ + ৮ + ১ = ১২)।
- তাসহীহ তুলনা: পূর্ববর্তী অংশ ৪৮ এবং নতুন মখরাজ ১২ এর মধ্যে 'তাদাখুল' সম্পর্ক বিদ্যমান (৪৮ / ১২ = ৪)। জামেয়া ১ কে ১ দিয়ে গুণ করতে হবে এবং ৩য় টেবিলকে ৪ দিয়ে গুণ করতে হবে।
- চূড়ান্ত জামেয়া (Final Jamiah): ৯৬ x ১ = ৯৬
মুনাসাখার তাসহীহ তালিকা (তাকসীম):
| ওয়ারিসগণ | ১ম মৃত্যু (২৪) | ২য় মৃত্যু (১২) | ১ম জামেয়া (৯৬) | ৩য় মৃত্যু (১২) | চূড়ান্ত বণ্টন (৯৬) |
|---|---|---|---|---|---|
| পিতা (Ab) | ৯ | - | ৩৬ | - | ৩৬ |
| কন্যা (Bint) | ১২ | - | ৪৮ | মৃত (৩য়) | - |
| স্ত্রী (Zawjah) | ৩ | মৃত (২য়) | - | - | - |
| ২য় স্বামী (Zawj 2) | - | ৩ | ৩ | - | ৩ |
| ২য় মাতা (Umm 2) | - | ২ | ২ | - | ২ |
| ২য় পুত্র (Ibn 2) | - | ৭ | ৭ | - | ৭ |
| কন্যার স্বামী (Zawj 3) | - | - | - | ৩ | ১২ (৩ x ৪) |
| কন্যার ২ কন্যা (Bintain) | - | - | - | ৮ | ৩২ (৮ x ৪) |
| কন্যার ভাই (Akh) | - | - | - | ১ | ৪ (১ x ৪) |
১৩ নং প্রশ্ন ও সমাধান:
প্রশ্ন: ماتت امرأة عن زوج وبنت وأم فمات الزوج عن أبوين وزوجة ثم ماتت البنت عن ابن وبنت وأخت. فكيف التصحيح والمناسخة؟
অনুবাদ: এক মহিলা তার স্বামী (Zawj), এক কন্যা (Bint) ও মাতা (Umm) রেখে মারা গেল। অতঃপর স্বামী (Zawj) তার পিতা-মাতা (Abawain - পিতা ও মাতা) এবং এক স্ত্রী (Zawjah) রেখে মারা গেল। এরপর কন্যা (Bint) তার পুত্র (Ibn), কন্যা (Bint) ও বোন (Ukht) রেখে মারা গেল। এর তাসহীহ ও মুনাসাঁখা কীভাবে হবে?
ধাপ ১: ১ম মৃত্যু (মহিলার মৃত্যু)
ওয়ারিসগণ: স্বামী (Zawj), কন্যা (Bint), মাতা (Umm)।
- স্বামী পাবেন: ১/৪ = ৩ অংশ।
- কন্যা পাবেন: ১/২ = ৬ অংশ।
- মাতা পাবেন: ১/৬ = ২ অংশ।
- মখরাজ: ১২ (৩ + ৬ + ২ = ১১)।
- রদ্দ (Radd) গণনা: আসাবাহ না থাকায় অতিরিক্ত অংশ ফেরত দেওয়া হবে। স্বামী বাদে বাকিদের অনুপাত ৩:১। হিসাব অনুযায়ী, স্বামী পাবেন ৪ অংশ, কন্যা ৯ অংশ, এবং মাতা ৩ অংশ। মোট জামেয়া = ১৬।
ধাপ ২: ২য় মৃত্যু (স্বামীর মৃত্যু)
স্বামীর পূর্ববর্তী অংশ = ৪।
ওয়ারিসগণ: স্ত্রী (Zawjah 2), মাতা (Umm 2), পিতা (Ab 2), পূর্বের কন্যা (Bint)।
- স্ত্রী পাবেন: ১/৮ = ৩ অংশ।
- কন্যা পাবেন: ১/২ = ১২ অংশ।
- মাতা পাবেন: ১/৬ = ৪ অংশ।
- পিতা পাবেন: ১/৬ + আছাবাহ = ৫ অংশ।
- মখরাজ: ২৪ (৩ + ১২ + ৪ + ৫ = ২৪)।
- তাসহীহ তুলনা: পূর্ববর্তী অংশ ৪ এবং নতুন মখরাজ ২৪ এর সম্পর্ক 'তাদাখুল' (২৪ / ৪ = ৬)। ১ম টেবিলকে ৬ দিয়ে গুণ করতে হবে এবং ২য় টেবিলকে ১ দিয়ে গুণ করতে হবে।
- ১ম জামেয়া (Jamiah 1): ১৬ x ৬ = ٩٦
- মাতা (Umm) পাবেন: ৩ x ৬ = ১৮
- কন্যা পাবেন: (৯ x ৬) + (১২ x ১) = ৬৬
- স্বামীর স্ত্রী পাবেন: ৩ x ১ = ৩
- স্বামীর মাতা পাবেন: ৪ x ১ = ৪
- স্বামীর পিতা পাবেন: ৫ x ১ = ৫
ধাপ ৩: ৩য় মৃত্যু (কন্যার মৃত্যু)
কন্যার পূর্ববর্তী অংশ = ৬৬।
ওয়ারিসগণ: পুত্র (Ibn), কন্যা (Bint)। [বোন আছাবাহ বা সন্তান থাকায় বঞ্চিত হবে]।
- পুত্র ও কন্যা আছাবাহ হিসেবে ২:১ অনুপাতে পাবে।
- মখরাজ: ৩ (পুত্র ২ অংশ, কন্যা ১ অংশ)।
- তাসহীহ তুলনা: পূর্ববর্তী অংশ ৬৬ এবং নতুন মখরাজ ৩ এর সম্পর্ক 'তাদাখুল' (৬৬ / ৩ = ২২)। জামেয়া ১ কে ১ দিয়ে গুণ করতে হবে এবং ৩য় টেবিলকে ২২ দিয়ে গুণ করতে হবে।
- চূড়ান্ত জামেয়া (Final Jamiah): ৯۶ x ১ = ৯৬
মুনাসাখার তাসহীহ তালিকা (তাকসীম):
| ওয়ারিসগণ | ১ম মৃত্যু (১৬) | ২য় মৃত্যু (২৪) | ১ম জামেয়া (৯৬) | ৩য় মৃত্যু (৩) | চূড়ান্ত বণ্টন (৯৬) |
|---|---|---|---|---|---|
| স্বামী (Zawj) | ৪ | মৃত (২য়) | - | - | - |
| কন্যা (Bint) | ৯ | ১২ | ৬৬ | মৃত (৩য়) | - |
| মাতা (Umm) | ৩ | - | ১৮ | - | ১৮ |
| স্বামীর ২য় স্ত্রী (Zawjah) | - | ৩ | ৩ | - | ৩ |
| স্বামীর মাতা (Umm) | - | ৪ | ৪ | - | ৪ |
| স্বামীর পিতা (Ab) | - | ৫ | ৫ | - | ৫ |
| কন্যার পুত্র (Ibn) | - | - | - | ২ | ৪৪ (২ x ২২) |
| কন্যার কন্যা (Bint) | - | - | - | ১ | ২২ (১ x ২২) |
আলিম ২০২৬ ফিকহ ২য় পত্র সমাধান PDF ডাউনলোড
নিচের টেবিল থেকে আপনার পছন্দ অনুযায়ী প্রশ্নপত্র অথবা সমাধানপত্রের পিডিএফ (PDF) ফাইলটি অনলাইনে পড়তে অথবা সরাসরি ডাউনলোড করতে পারেন:
| ক্রমিক নং | পিডিএফ এর নাম | ডাউনলোড ও অনলাইন লিংক |
|---|---|---|
| ১ | আলিম ২০২৬ ফিকহ ২য় পত্র প্রশ্নপত্র (Question PDF) | অনলাইনে পড়ুন / ডাউনলোড করুন |
| ২ | আলিম ২০২৬ ফিকহ ২য় পত্র সমাধান (Answer PDF) | অনলাইনে পড়ুন / ডাউনলোড করুন |
